ঢাকা, শুক্রবার 24 February 2017, ১২ ফাল্গুন ১৪২৩, ২৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

প্রাকৃতিক সম্পদ পানি ও তার ব্যবস্থাপনা

প্রকৌশলী এস এম ফজলে আলী : বর্তমানে পানি একটি দুর্মূল্য সম্পদ। পানির অবর্তমানে জীবনধারণ করা সম্ভব নয়। সারাবিশ্বে পানির দুষ্প্রাপ্যতা গভীর চিন্তার কারণ হয়ে পড়েছে। এর মাঝে যুক্ত হচ্ছে পানি দূষণ। আজকে শিল্প বিপ্লবের কারণে বায়ু দূষণের মতো পানিও দূষিত হচ্ছে। দূষণমুক্ত পানি সরবরাহ একটি বিরাট সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে।

এই সমস্যার সমাধান না করা গেলে আগামী বিশ্বে হাহাকার পড়ে যাবে বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা। তাই বলা হচ্ছে যদি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ বাধে তবে তা হবে পানি সঙ্কট নিয়ে। এ কারণে বিশ্বে যাতে অনাকাক্সিক্ষত সমস্যার সৃষ্টি না হয় তার জন্য জনমত গড়ে তোলার প্রয়াস চলছে। পানির যথাযথ ব্যবহার ও অপচয় রোধে বিশ্ব সচেতনতা একান্ত প্রয়োজন।

বিশ্বের সর্ববৃহৎ দ্বীপ আমাদের এই বাংলাদেশ। এই দেশটি ছোট-বড় অসংখ্য নদীতে জালের মতো ঘিরে আছে। ৫৭টি প্রধান নদীর মধ্যে ৫৪টি নদীই দেশের বাইর হতে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে প্রবেশ করেছে। এর বিরাট জলরাশি পদ্মা, মেঘনা যমুনার মাধ্যমে বঙ্গোপসাগরে পতিত হচ্ছে। ৩টি বৃহৎ নদী গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনার মোট ক্যাচমেন্ট এরিয়া হলো ১৭ লাখ বর্গকিলোমিটার। এই পুরো আয়তনের পানি বাংলাদেশের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয় অথচ বাংলাদেশের আয়তন মাত্র ১,৪৭,০০০ বর্গমিলোমিটার। অর্থাৎ মোট আয়তনের মাত্র ১০% বাংলাদেশের অংশ। আমাদের দেশটি আসলে বর্ণিত পুরো এলাকার একটি ড্রেনেজ হিসেবে কাজ করছে। বাংলাদেশের ওপর দিয়ে সারাবছর যে জলরাশি প্রবাহিত হয়ে বঙ্গোপসাগরে পতিত হচ্ছে তা যদি ধরে রাখা হতো তাহলে সারাদেশ ১০ মিটার (প্রায় ৩৪ ফুট) পানির নিচে ডুবে যেত।

এই বিপুল জলরাশি কি আমাদের জন্য সম্পদ না বোঝা- এটাই এখন বিচার্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমাদের দেশে পানি নিয়ে অনেক সমস্যা আছে- বন্যা, নদী, ভাঙন, জলাবদ্ধতা, নদী ভরাট হয়ে যাওয়া আরো অনেক সমস্যা। এগুলো হচ্ছে প্রাকৃতিক বিপর্যয়। এর সাথে যুক্ত হয়েছে আন্তর্জাতিক নদীসমূহের প্রবাহের ওপর উজানের দেশের একতরফা হস্তক্ষেপ। উজানে পানি প্রবাহ একতরফাভাবে প্রত্যাহার করে ভাটি অঞ্চলের নদীগুলোকে স্বাভাবিক প্রবাহ থেকে বঞ্চিত করে শুকিয়ে ফেলা, তেমনি ভরা বর্ষা মওসুমে উজানের জলাধার উন্মুক্ত করে বহন ক্ষমতার কয়েকগুণ বেশি পানি ছেড়ে ভাটির দেশকে বন্যায় ভাসিয়ে দেয়া।

ইতোমধ্যে ভারত সরকার বাংলাদেশকে ‘‘পানিতে মারার” জন্য ভয়াবহ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। এ পরিকল্পনাটির উদ্দেশ্য হচ্ছে ভারতের সব বড় নদীতে খাল কেটে যুক্ত করে গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্রের পানি প্রবাহ থেকে বাংলাদেশকে বঞ্চিত করে তাদের এক অববাহিকা হতে আরেক অববাহিকায় সরিয়ে নেয়া। ভারতের এ পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের জন্য চরম বিপর্যয় অপেক্ষা করছে। শুকনো মওসুমে গঙ্গার সম্পূর্ণ এবং ব্রহ্মপুত্রের অধিকাংশ পানি প্রবাহ থেকে বাংলাদেশ বঞ্চিত হবে। ভারতের সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি বিএন কৃপাল তার অবসর গ্রহণের একদিন পূর্বে তার নেতৃত্বে গঠিত একটি ডিভিশন বেঞ্চের রায়ে ভারতের সবগুলো প্রধান নদী খাল কেটে সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে দেশব্যাপী রিভার নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার জন্য সেদেশের কেন্দ্রীয় সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে। ভারতের সুপ্রিম কোর্টের রায়ে উক্ত বিরাট কাজ ২০১২ সালের মধ্যে শেষ করার জন্য বলেছে। ভারতের রিভার নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৬০ হাজার কোটি রুপি।

ভারত সরকার চাচ্ছে সব প্রধান নদীতে খাল কেটে সংযুক্ত করে গঙ্গা ও মহানদীর পানি পশ্চিম-দক্ষিণ ভারতের খরাপ্রধান এলাকা ও পানি অভাবগ্রস্ত এলাকায় নিয়ে যাওয়া। গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র মহানদী অববাহিকা হতে প্রায় ১৭,০০০ কোটি ঘনমিটার পানি প্রত্যাহার করে পশ্চিম ও দক্ষিণ ভারতে খরাপীড়িত অঞ্চলে নিয়ে যাবে। এই পানি দ্বারা ৩৪০ লাখ হেক্টর জমিতে সেচের ব্যবস্থা করা এবং ৩৪,০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করার পরিকল্পনা ভারতের আছে। ভারত সরকার মনে করে এ পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বার্ষিক খাদ্যশস্য উৎপাদন ২০০ কোটি টন বেশি হবে। এ প্রকল্পে ৫৬০ হাজার কোটি রুপির যে ব্যয় ধরা হয়, তা ১৯৪৭ সালের পর ভারতের সেচ খাতের মোট ব্যয়ের ১০ গুণ।

এ পরিকল্পনা অনুযায়ী ব্রহ্মপুত্রের পানি সানকোশী, মানস হয়ে ভুটানের মধ্য দিয়ে ফারাক্কায় এনে উড়িষ্যার মহানদীতে নিয়ে যাওয়া হবে এবং সেখান থেকে পানি গোদাভরীতে যাবে। নেপাল থেকে ঘাগড়া ও গন্ধক উত্তর প্রদেশে এবং কোশী থেকে বিহারে পানি নিয়ে যাওয়া হবে। শুকনো মওসুমে আমরা গঙ্গার পানি পাচ্ছি না, কিছুদিন পর ব্রহ্মপুত্রেরও পানি পাবো না। বর্তমানে ব্রহ্মপুত্র দিয়ে ১ লাখ কিউসেক পানি বাংলাদেশে আসে। বাংলাদেশকে লবণাক্ততা হতে মুক্ত রাখতে হলে নি¤œ মেঘনায় অন্তত ১ লাখ কিউসেক পানি দরকার। কিন্তু ভারতীয় পরিকল্পনা কার্যকরী হলে এই পানি আর আসবে না। ফলে আগামী ১০/১৫ বছরের মধ্যে বাংলাদেশ এক মহাসঙ্কটে পড়বে। এতদিন ফারাক্কা ছিল বাংলাদেশের জন্য মরণ ফাঁদ। এখন ব্রহ্মপুুত্রের পানিও প্রত্যাহার করলে তা হবে আমাদের জন্য মহামরণ ফাঁদ।

নদীর পানি প্রত্যাহারের জন্য প্রতিবছর আমরা দারুণ ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছি। যেহেতু নদীগুলোর ওপর আমাদের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই এবং নদীগুলোর ওপর যৌথ ব্যবস্থাপনা নেই, সেহেতু আমাদের দেশে কোন সময় কি পরিমাণ পানি আসবে সে সম্বন্ধে আমরা নিশ্চিত নই। কাজেই প্রতি বছর পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় যে ১০০০ কোটি টাকা ব্যয় করে পানি সম্পদ উন্নয়নের জন্য তা অনুমা ভিত্তিক তথ্যের ওপর নির্ভর করে। ফলে বাংলাদেশের মতো একটি দরিদ্র দেশ এত প্রচুর অর্থ ব্যয় করেও কাক্সিক্ষত ফল পাচ্ছে না। পানি প্রত্যাহারের ফলে বিশ্বের অন্যতম নদী গঙ্গা বাংলাদেশে মৃতপ্রায়। গঙ্গার ওপর নির্ভরশীল দক্ষিণ-পশ্চিম বাংলাদেশ অর্থাৎ দেশের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এক ভয়াবহ পরিস্থিতির সম্মুখীন। ভৈরব, বেতনা, মাথাভাঙ্গা, গড়াই ইত্যাদি নদীতে প্রবাহ বন্ধ হওয়ার কারণে এক-তৃতীয়াংশ বাংলাদেশ সামগ্রিক লবণাক্ততার শিকার। কৃষিকাজ ব্যাহত হচ্ছে, জলজপ্রাণী ধ্বংসপ্রায়, সুন্দরবন বিলুপ্তির পথে এবং পরিবেশ চরম বিপর্যয়ের সম্মুখীন।

নদীতল ভরাট হচ্ছে, ফলে বর্ষাকালে উজান হতে অতিরিক্ত পানি প্রবাহ ছেড়ে দেয়ার কারণে বন্যা বাংলাদেশের নিত্যদিনের সঙ্গী। নদীর তীর সমানে ভাঙছে। আচমকা বন্যার কারণে ব্রহ্মপুত্রসহ অন্যান্য নদীর পানি দ্রুতগতিতে বাংলাদেশে প্রবশে করে। এক হিসেবে প্রতি বছরে আমাদের দেশের ১০,০০০ হেক্টর জমি নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে এবং প্রায় ৫ লাখ লোক প্রতিবছর গৃহহীন হচ্ছে। নদীর ডান তীর রক্ষার জন্য হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে অথচ নিশ্চিত হওয়া যায় না যে, উক্ত বাঁধ টিকবে কিনা। রাজশাহী শহর, সারিয়াকান্দি, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, চাঁদপুর ইত্যাদি রক্ষাকল্পে প্রচুর অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে। তিস্তার বামতীর ভুটান যাওয়ার আন্তর্জাতিক সড়ক রক্ষাকল্পে প্রচুর অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে। প্রচুর অর্থ ব্যয় করে দেশের উত্তরাঞ্চলে জল সেচের জন্য তিস্তা ব্যারেজ তৈরি করা হচ্ছে। উজানে পানি প্রত্যাহার করা সত্ত্বেও যে বাড়তি ৫/৬ হাজার কিউসেক পানি পাওয়া যেতো তাতে প্রায় ৬০ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ কাজ চালানো যেত। বর্তমানে সেই তিস্তাকেও ভারতের গজল ডোবা ব্যারেজের মাধ্যমে দু’ভাগে প্রবাহিত করে পূর্বে ও পশ্চিমে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে একতরফাভাবে। ফলে লীন সময়ে মাত্র ২৫০ কিউসেক পানি পাওয়া যাচ্ছে। তিস্তা বাঁধের উজানে ও ভাটিতে পলি জমে ভরাট হয়ে যাচ্ছে। এত বিনিয়োগ করেও কাক্সিক্ষত সুফল পাওয়া যাচ্ছে না।

উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বিস্তীর্ণ হাওড় এলাকা প্রচুর সম্ভাবনাময়। এখানে বছরে একটিমাত্র ফসল হয় এবং এই একটি ফসল ফ্লাশ ওয়াটার দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত না হলে দেশের চাহিদার এক-দশমাংশ খাদ্যশস্য এখান থেকে উৎপাদিত হতে পারে। তাছাড়া মৎস্য সম্পদের খনি হচ্ছে এই হাওড়। কিন্তু অসংখ্য নদীর অনিয়ন্ত্রিত পানির আচমকা বন্যার আক্রমণে প্রতি বছর সম্পদের অভূতপূর্ব ক্ষতি সাধিত হচ্ছে। এই হাওড় এলাকায় যে, ডুবন্ত বাঁধ তৈরি করা হয় তা এই আচমকা বন্যায় ভেঙ্গে চুরে ছাড়খাড় হয়ে যায়। স্থায়ীভাবে কিছু করা সম্ভব হচ্ছে না। যদি যৌথ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কি পরিমাণ পানি ভাটিতে প্রবেশ করবে সে ব্যাপারে সম্যক ধারণা করা যেতো অথবা অতিবৃষ্টিজনিত পানি কয়েক দিনের জন্য উপরে ধরে রেখে ধীরে ধীরে নি¤œাঞ্চলে প্রবাহিত করা যেত তাহলে আচমকা বন্যায় এত ক্ষয়ক্ষতি হত না। ফসলহানি হলেও তা নগণ্য হত। নদী তীর ভাঙ্গাও রোধ করা যেত।

বাংলাদেশে পানি ব্যবস্থাপনার সমস্যার শেষ নেই। তদসত্ত্বেও কিছু কিছু কাজ হয়েছে যা আমাদের একক প্রচেষ্টার ফল। ভারতের বৈরীতায় অনেক সেচপ্রকল্প কাক্সিক্ষত ফল দিচ্ছে না। তদসত্ত্বেও ইতোমধ্যে সেচ ব্যবস্থার প্রবর্তন করে ১৬.৩০ লাখ হেক্টর জমি সেচের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। নিষ্কাশনের আওতায় প্রায় ৩২ লাখ হেক্টর জমি জলাবদ্ধতার হাত হতে মুক্ত করা হয়েছে এবং সে জমিতে ভালো ফসল পাওয়া যাচ্ছে। সমুদ্র উপকূলে এবং নদী তীরে বেড়িবাঁধ দিয়ে সমুদ্রের লবণাক্ত পানির ছোবল হতে এবং বন্যার কবল থেকে জমি নিরাপদ করে বিপুল জমি চাষাবাদের আওতায় আনা হয়েছে। বঙ্গোপসাগরের মোহনায় ক্রসড্যাম এবং রেগুলেটর তৈরি করে প্রায় ১০০০ বর্গকিলোমিটার জমি উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। হাওড় অঞ্চলে ডুবন্ত  বাঁধ তৈরি করে আচমকা বন্যার হাত হতে ফসল রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে। এসব পদক্ষেপের ফলে ফসল উৎপাদন বেড়েছে প্রায় এক কোটি টন যা মোট উৎপাদনের প্রায় ৩০%।

আমাদের দেশে ভূগর্ভস্থ পানি প্রচুর। কিন্তু সে পানিতেও টান পড়েছে। বিগত ৩ দশক ধরে সারা দেশে পকিল্পনাবিহীনভাবে হাজার হাজার নলকূপ বসানোর কারণে এবং উজানে প্রত্যাহারজনিত কারণে ভূউপরস্থ পানি দ্বারা ভূগর্ভস্থ পানি পুনর্ভরন ব্যাহত হওয়ার কারণে ভূগর্ভস্থ পানি প্রায় নিঃশেষ হওয়ার পথে। ফলে নলকূপে বিশুদ্ধ পানির পরিবর্তে আসছে আর্সেনিকযুক্ত ও লবণাক্ত পানি। বাংলাদেশ আজ আর্সেনিক দূষণে এক ভয়াবহ অবস্থার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এই মরণব্যাধি হতে মুক্তি পেতে হলে আমাদের নদীগুলোর পানি প্রবাহ বাড়াতে হবে। যেহেতু ভারত আমাদের কোনো প্রস্তাবেই সায় দিচ্ছে না তাই আমাদের সমস্যার নিজস্ব সমাধান বের করতে হবে। এর একটি সমাধান হতে পারে গ্যাঞ্জেজ ব্যারেজ প্রকল্প নির্মাণ করা।

গ্যাঞ্জেস  ব্যারেজ প্রকল্পের কথা ৪০ বছর পূর্বেও শোনা গিয়েছিল। কিন্তু কোনো সরকারই এ বিষয়ে তেমন গুরুত্ব দেয়নি। এখন এটি সময়ের দাবি। আমাদের নিজস্ব উদ্যোগে এটি করতে হবে। এই ব্যারেজে পানি জমা করে লীন পিরিওডে নিয়ন্ত্রিত প্রবাহ দ্বারা যেমন ভাটি অঞ্চলের লবণাক্ততা দূর করা যাবে তেমনি নদীতে প্রবাহিত আর্সেনিক ভূগর্ভস্থ পানিতে না ঢুকে প্রবাহিত পানির সাথে সাগরে গিয়ে পড়বে। নদীর নাব্যতাসহ জমিতে জল সেচেরও ব্যবস্থা করা যাবে।

নদীগুলোর স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করার চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। এ ব্যাপারে ভারতকে  রাজি করাবার জন্য আন্তর্জাতিক ফোরামে বিষয়টি নেয়া উচিত। দ্বি-পাক্ষিক আলোচনা তো কম হলো না। কিন্তু আজ পর্যন্ত তেমন ফল পাওয়া যায়নি। যেহেতু নদীগুলো অভিন্ন তাই যৌথ ব্যবস্থাপনা ছাড়া পানির ন্যায্য প্রাপ্যতা সম্ভব নয়। দানিউব, রাইন, আমাজান, সিন্দু, মেকং ও বিশ্বের অন্যান্য নদীগুলো যেমন প্রবাহিত দেশগুলো যৌথ ব্যবস্থাপনায় নদীর পানি ভাগাভাগি করে ব্যবহার করছে নেপাল, ভারত,  চীন বাংলাদেশকে সেই নিয়ম মেনে পানি ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। তা হলে এই অঞ্চলের প্রায় ২০০ কোটি লোক উপকৃত হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ