ঢাকা, শুক্রবার 24 February 2017, ১২ ফাল্গুন ১৪২৩, ২৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

মুফতি হান্নানের রিভিউ আবেদন

স্টাফ রিপোর্টার : সাবেক ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর ওপর গ্রেনেড হামলার মামলায় মৃত্যুদণ্ডের রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন করেছেন নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন হরকাতুল জিহাদের নেতা মুফতি আবদুল হান্নান। গতকাল বৃহস্পতিবার আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় তিনি এ রিভিউটি দায়ের করেন। মুফতি হান্নানের পক্ষে আইনজীবী নাহিদ সুলতানা এই রিভিউ আবেদন দায়ের করেন।

গত ৭ ডিসেম্বর প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এস কে) সিনহার নেতৃত্বে ৪ বিচারপতির আপিল বেঞ্চ আনোয়ার চৌধুরীর ওপর গ্রেনেড হামলার মামলায় সংক্ষিপ্ত রায় ঘোষণা করেন। রায়ে মুফতি আবদুল হান্নান, শরীফ শাহেদুল আলম ওরফে বিপুল ও দেলোয়ার হোসেন ওরফে রিপনের মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকে। গত ১৮ জানুয়ারি ৬৫ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়টি প্রকাশ করা হয়।

আইন অনুযায়ী রায়ে সংক্ষুব্ধ আসামীরা রায়ের বিরুদ্ধে ৩০ দিনের মধ্যে রিভিউ আবেদন করতে পারেন। রিভিউ আবেদন খারিজ হয়ে গেলে আসামীদের ফাঁসি কার্যকরের দিনক্ষণ গণনা শুরু হবে।

রায়ের অনুলিপি হাতে পেয়ে জেল কোড অনুযায়ী আসামীদের ফাঁসি কার্যকর করার ক্ষেত্রে ‘২১ দিনের আগে নয় এবং ২৮ দিনের পরে নয়’ বলে যে বিধান রয়েছে তা অনুসরণ করবে জেল কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি এ সময়ের মধ্যে আসামীরা রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনার সুযোগও নিতে পারেন। সেক্ষেত্রে আবেদন নাকচ হলে তারপর আসামীদের দণ্ড কার্যকর হবে।

আনোয়ার চৌধুরীর উপর হামলার মামলায় জেল আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের শুনানি শেষে গত ১১ ফেব্রুয়ারি রায় ঘোষণা করে হাইকোর্ট। রায়ে মুফতি হান্নানসহ তিনজনের মৃত্যুদণ্ড ও দুইজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় বহাল রাখেন হাইকোর্ট।

আসামীদের মধ্যে মুফতি হান্নান, শরীফ শাহেদুল আলম ওরফে বিপুল ও দেলোয়ার হোসেন ওরফে রিপনকে মৃত্যুদণ্ড এবং হান্নানের ভাই মহিবুল্লাহ ওরফে মফিজুর রহমান ওরফে মফিজ ওরফে অভি এবং মুফতি মঈন উদ্দিন ওরফে আবু জান্দালকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছিল সিলেটের একটি আদালত।

হাইকোর্টের দেয়া পূর্ণাঙ্গ রায়ের অনুলিপি গত ২৮ এপ্রিল প্রকাশ করা হয়। বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি আমির হোসেন সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ ১৬৭ পৃষ্ঠার এ রায় প্রকাশ করে।

গত ১৪ জুলাই হাইকোর্টের এ রায়ের বিরুদ্ধে খালাস চেয়ে আপিল করেন হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি আবদুল হান্নান ও শরীফ শাহেদুল আলম ওরফে বিপুল।

২০০৪ সালের ২১ মে সিলেটে হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজারে তৎকালীন ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর ওপর গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। এ হামলায় আনোয়ার চৌধুরী, সিলেট জেলা প্রশাসকসহ অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হন। নিহত হন পুলিশের দুই কর্মকর্তাসহ তিনজন।

ঘটনার দিন অজ্ঞাতপরিচয় আসামীর বিরুদ্ধে মামলা করে কোতোয়ালি থানা পুলিশ। মামলার তদন্ত শেষে ২০০৭ সালের ৩১ জুলাই মুফতি হান্নানসহ চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। এরপর সম্পূরক অভিযোগপত্রের ভিত্তিতে মঈন উদ্দিন ওরফে আবু জান্দালের নাম অন্তর্ভুক্ত করে অভিযোগ গঠন করা হয়।

২০০৮ সালের ২৩ ডিসেম্বর বিচারিক আদালত মুফতি হান্নান, শরীফ শাহেদুল আলম ওরফে বিপুল ও দেলোয়ার হোসেন ওরফে রিপনকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন। অন্যদিকে মহিবুল্লাহ ওরফে মফিজুর রহমান ওরফে মফিজ এবং মুফতি মঈন উদ্দিন ওরফে আবু জান্দালকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ