ঢাকা, শুক্রবার 24 February 2017, ১২ ফাল্গুন ১৪২৩, ২৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

সাবেক বিএনপি নেতার পুত্র ইরাদ ৪ দিনের রিমান্ডে

স্টাফ রিপোর্টার : সাবেক বিএনপি নেতা চৌধুরী তানভীর আহমেদ সিদ্দিকীর ছেলে চৌধুরী ইরাদ আহমেদ সিদ্দিকীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট। ঢাকা মহানগর পুলিশের উপ কমিশনার (গণমাধ্যম) মাসুদুর রহমান বলেন , বুধবার ভোর ৫টার দিকে ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দর এলাকা থেকে ইরাদকে গ্রেফতার করা হয়। ফেসবুকে বঙ্গবন্ধু, প্রধানমন্ত্রী ও বর্তমান সরকারকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ ও অশ্লীল মন্তব্য করায় ইরাদ সিদ্দিকীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

 ফেইসবুকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার উসকানি দেওয়ার অভিযোগে তথ্যপ্রযুক্তি আইনে দেশের বিভিন্ন স্থানে বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে ইরাদ আহম্মদ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে। এর মধ্যে কয়েকটি মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানাও জারি করেছে আদালত। 

২০১২ সালে ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে (পরে ওই ভোট হয়নি) প্রার্থী হতে মনোনয়নপত্র দাখিলের আগে ইরাদ অভিযোগ তুলেছিলেন, বিএনপির প্রার্থী করার বিনিময়ে তার কাছে অর্থ চেয়েছিলেন খালেদা জিয়া। ছেলের ওই ভূমিকার কারণে দল থেকে বহিষ্কৃত হন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য তানভীর আহমদ সিদ্দিকী। এরপর থেকে তানভীর ও ইরাদের সঙ্গে বিএনপির কোনো সম্পর্ক নেই বলে দলটির নেতারা জানান।

ইরাদের নামে খোলা একটি ফেইসবুক পাতা থেকে গতবছর শেখ হাসিনাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। তার আগে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক ছবিও আসে ওই ফেইসবুক পাতায়। এরপর তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন জেলায় মামলা হয়। তখন ইরাদ যুক্তরাষ্ট্রে ছিলেন বলে পরিবারকে উদ্ধৃত করে গণমাধ্যমে খবর আসে।

ডিএমপি নিউজের খবরে বলা হয়, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেররিজম ও ট্রান্স ন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের সাইবার নিরাপত্তা ও অপরাধ দমন বিভাগ এ অভিযান চালায়। ৪৫ বছর বয়সী চৌধুরী ইরাদ আহমেদ সিদ্দিকী বিএনপির সাবেক নেতা তানভীর আহমেদ সিদ্দিকীর ছেলে। গ্রেফতারের সময় তাঁর কাছ থেকে সিম, মোবাইল, ম্যাক বুক ও ল্যাপটপ উদ্ধার করা হয় এবং ফেসবুক আইডিগুলো জব্দ করা হয়।

ডিএমপির খবরে বলা হয়, কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের সাইবার নিরাপত্তা ও অপরাধ দমন বিভাগের সোশ্যাল মিডিয়া মনিটরিং টিম কয়েক দিন ধরে অনলাইন গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে তাঁকে গ্রেফতার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ইরাদ জানান, তিনি নেদারল্যান্ডসে থাকেন।

ইরাদ বিভিন্ন সময় মেয়র চৌধুরী ইরাদ আহমেদ সিদ্দিকী, জমিদার চৌধুরী ইরাদ আহমেদ সিদ্দিকী ও ইরাদবেরী ফিন (Mayor Chowdhury Irad Ahmed Siddiky, Zamindar Chowdhury Irad Ahmed Siddiky I iradberry finn) নামে ফেসবুক আইডি খুলে বঙ্গবন্ধু, প্রধানমন্ত্রী ও বর্তমান সরকারকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ ও অশ্লীল মন্তব্য করেন। তাঁর ফেসবুক পোস্টে রাষ্ট্রবিরোধী মন্তব্য রয়েছে। এ ছাড়া তিনি নিজেকে ঢাকার ছায়া মেয়র (Shadow mayor) বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরেন।

চার দিনের রিমান্ডে : তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে দায়ের করা মামলায় চৌধুরী ইরাদ আহমেদ সিদ্দিকীকে চার দিনের রিমান্ড দিয়েছেন আদালত। গতকাল বৃহস্পতিবার তাকে ঢাকা সিএমএম আদালতে হাজির করে রাজধানীর কোতোয়ালী থানায় দায়ের করা মামলায় সুষ্ঠু তদন্তের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন তদন্তকারী অফিসার। শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম খুরশীদ আলম চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। 

কাউন্টার টেরোরিজমের সাইবার নিরাপত্তা ও অপরাধ দমন বিভাগের সোশ্যাল মিডিয়া মনিটরিং টিমের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ইরাদ জানিয়েছেন, তিনি নেদারল্যান্ডসে থাকেন। বিভিন্ন সময় মেয়র চৌধুরী ইরাদ আহমেদ সিদ্দিকী, জামিনদার চৌধুরী, ইরাদ আহমেদ সিদ্দিকী এবং ইরাদবেরি ফিন নামে ফেসবুকে আইডি খুলে বঙ্গবন্ধু, প্রধানমন্ত্রী ও সরকার নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ ও অশ্লীল মন্তব্য করেন তিনি।

তার ফেসবুক পোস্টে ভারতবিরোধী বক্তব্য ও রাষ্ট্রবিরোধী মন্তব্য বিদ্যমান। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনি নিজেকে ঢাকার ‘শ্যাডো মেয়র’ বলে পরিচয় দেন। তিনি বিএনপি থেকে মেয়র পদে মনোনয়ন প্রত্যাশীও ছিলেন। ইরাদ আহমেদ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে ডিএমপির একাধিক থানায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে মামলা রয়েছে। গত বছর রাজধানীর কোতোয়ালী থানায় তার বিরুদ্ধে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে এ মামলাটি দায়ের করা হয়। ইরাদ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে তথ্যপ্রযুক্তির একটি মামলাসহ মোট ৫টি মামলার মধ্যে ৩টি মামলা ডিএমপিতে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ