ঢাকা, শুক্রবার 24 February 2017, ১২ ফাল্গুন ১৪২৩, ২৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

পোশাক শিল্প এলাকায় অনিবন্ধিত কোন ট্রেড ইউনিয়নের অফিস থাকবে না -শ্রম প্রতিমন্ত্রী

 

স্টাফ রিপোর্টার : শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু জানিয়েছেন, আশুলিয়াসহ বিভিন্ন পোশাক শিল্প এলাকায় অনিবন্ধিত ট্রেড ইউনিয়ন, ফেডারেশন ও এনজিওর অফিস থাকবে না। বৈধ সব অফিস আজ থেকে খোলা যাবে।

গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে শ্রম পরিস্থিতি নিয়ে পোশাক কারখানা মালিক, শ্রমিক ও সরকারের ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের পর সাংবাদিক সম্মেলনে এ কথা বলেছেন তিনি। এ সময় উপস্থিত পোশাক মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান, জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল বাংলাদেশ কাউন্সিলের চেয়ারম্যান আমিরুল হক আমিন প্রমুখ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, জাতীয় শ্রমিক লীগের সভাপতি শুক্কুর মাহমুদসহ পোশাক শ্রমিক নেতারা।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আশুলিয়ায় অপরিকল্পিতভাবে ও শ্রমিক নেতাদের ইনভল্বমেন্ট (সম্পৃক্ততা) ছাড়া আনরেস্টের (অসন্তোষের) সৃষ্টি হয়েছিল। সেই পরিস্থিতি নিয়ে শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে আমাদের দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছিল। সেই দূরত্ব কমানো এবং পোশাকখাতে যেন ক্ষতিকর কিছু হতে না পারে সেজন্য এই খাতের সঙ্গে জড়িতদের সঙ্গে গত কয়েক দিন বৈঠক করে শ্রমিক, মালিক ও সরকার যৌথভাবে সমঝোতায় এসেছি।

আশুলিয়ায় শ্রমিক অসন্তোষের ঘটনার সময় মালিক পক্ষ কিছু মামলা করেন জানিয়ে মুজিবুল হক বলেন, বেশ কিছু শ্রমিক নেতা গ্রেফতার হন। বেশিরভাগই জামিনে মুক্ত হয়েছেন। আর কয়েকজন থাকতে পারেন, আশা করি, খুব শিগগিরই তারা মুক্তি পাবেন। মামলাগুলোও সরকারের পক্ষ থেকে আইনানুগভাবে কীভাবে শেষ করা যায় সেই চিন্তা চলছে এবং এ বিষয়ে আমরা দেখছি।

শ্রম প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, আশুলিয়া ও গাজীপুর এলাকায় পোশাক কারখানাকে কেন্দ্র করে অনেক অনিবন্ধিত ট্রেড ফেডারেশন, বিভিন্ন এনজিও, যাদের এখানে কোনো কাজ নেই, তারাও সেখানে অফিস করে বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে শ্রমিকদেরকে বিভ্রান্ত করেন। আমরা ঐক্যমত্যে এসেছি আশুলিয়াসহ বিভিন্ন গার্মেন্টস এলাকায় কোনো রকম আনরেজিস্ট্রার্ড (অনিবন্ধিত) ট্রেড ইউনিয়ন ও ফেডারেশনের অফিস থাকবে না এবং কোনো এনজিওর অফিস থাকবে না। যারা নাকি রেজিস্ট্রার্ড ইউনিয়ন, গুড লেবার প্র্যাকটিস করছেন, তাদের অফিস সেখানে থাকবে। এতে সরকারের কোনো আপত্তি নাই।

তিনি বলেন, রেজিস্ট্রার্ড ফেডারেশন বা ট্রেড ইউনিয়নের রাইট আছে। তারা অফিস করতে পারেন। চাকরিতে পুনর্বহাল ও পাওনা পরিশোধ করা হবে। আশুলিয়ায় শ্রমিক অসেন্তোষের ঘটনায় বেশ কয়েকজন শ্রমিককে ছাঁটাই করা হয়েছিল জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, যেসব শ্রমিকদের বিরুদ্ধে শ্রম আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছিল, শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ না করা হলে আমরা দায়িত্ব নিয়ে শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধের ব্যবস্থা করব।

সিদ্দিকুর রহমান জানান, আশুলিয়ায় শ্রমিক অসেন্তোষের ঘটনায় প্রায় এক হাজার ৫০০ শ্রমিককে সাময়িকভাবে ছাঁটাই করা হয়েছে। তাদের চাকরি পুনর্বহালের চেষ্টা চলছে। যারা নির্দোষ অবশ্যই তাদের চাকুরি ফিরিয়ে দেয়া হবে। 

তিনি আরও বলেন, কিছুদিন আগে আশুলিয়ার কিছু কারখানায় অবৈধভাবে কিছু শ্রমিক কাজ বন্ধ করেছে। পরিস্থিতি অবনতির দিকে গেলে ফ্যাক্টরি বন্ধ করি। ফ্যাক্টরি খোলার দিন ৯৫ শতাংশ শ্রমিক উপস্থিত ছিল।

তিনি আরো বলেন, যে কোনো নিরীহ শ্রমিক বা নেতা কোনোভাবেই গ্রেফতার থাকুক তা আমরা চাই না। অফিসগুলো বন্ধ করা হয়েছিল। রেজিস্টার্ড ফেডারেশনের অফিস খুলে দেয়া হবে।

আমিরুল হক আমিন বলেন, ২০২১ সালে পোশাক খাতের রপ্তানি ৫০ বিলিয়ন করার টার্গেট আছে। এর সঙ্গে আমরা শ্রমিক সংগঠনগুলো একমত। আমরা সেখানে সহযোগিতা করতে চাই। এর সঙ্গে শ্রমিকদের জীবনমানেরও উন্নয়ন চাই।

তিনি আরো বলেন, রেজিস্টার্ড ফেডারেশন যেগুলো আছে, আশুলিয়াসহ অন্য অঞ্চলে চালু করতে পারবে। আশুলিয়ার অস্বাভাবিক পরিস্থিতির কারণে ওই অফিসগুলো বন্ধ আছে। আমরা আশা করছি শ্রমিক সংগঠনের পক্ষ থেকে আজ শুক্রবার থেকে ওইসব অফিসের কার্যক্রম চালু করতে পারব।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ