ঢাকা, শুক্রবার 24 February 2017, ১২ ফাল্গুন ১৪২৩, ২৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

কয়রায় ভিজিডি কার্ড পাচ্ছেন না ৪৯৮ জন উপকারভোগী নারী

খুলনা অফিস: খুলনার কয়রা উপজেলার বাগালি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর জাল করে ভিজিডি তালিকাভুক্ত উপকারভোগীদের নাম পরিবর্তন করা হয়েছে। এ ব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুস সাত্তার পাড় খুলনা জেলা প্রশাসকের দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছেন। এতে ওই ইউনিয়নের ৪৯৮ জন উপকারভোগীর মাঝে চাল বিতরণে জটিলতা দেখা দিয়েছে। 

লিখিত অভিযোগে জানা গেছে, ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে উপজেলার বাগালি ইউনিয়নে ভিজিডি চাল বিতরণের জন্য ৯টি ওয়ার্ডের ৪৯৮ জন হতদরিদ্র নারীর নামের তালিকা প্রস্তুত শেষে ইউপি চেয়ারম্যান ও সচিবের যৌথ স্বাক্ষরে সেটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) দফতরে জমা দেয়া হয়। পরে ওই তালিকাটি পুনরায় যাচাই-বাছাইয়ের জন্য ইউএনও’র দফতর থেকে ওই ইউনিয়ন ট্যাগ কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা উপজেলা সহকারী পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা জুলফিকার আলীকে দায়িত্ব দেয়া হয়। তদন্ত শেষে ট্যাগ কর্মকর্তা তালিকাটি চূড়ান্ত করে ইউএনও দফতরের মাধ্যমে উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তার দফতরে পাঠিয়ে দেন। পরে সর্বশেষ চূড়ান্ত তালিকা অনুযায়ী কার্ড বিতরণের জন্য ইউনিয়ন পরিষদে পাঠানো হলে স্বাক্ষর জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়ে। 

ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুস সাত্তার পাড় বলেন, ইউনিয়ন পরিষদে সংরক্ষিত তালিকার সাথে ট্যাগ কর্মকর্তার পাঠানো তালিকাটি মিলিয়ে দেখার সময় ১২১ জন উপকারভোগীর নামের গরমিল পাওয়া যায়। পরে তালিকাটি পুনরায় যাচাই-বাছাই করতে গিয়ে আমার ও সচিবের স্বাক্ষর জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়ে। এ সময় দেখা যায় ৩৪ পৃষ্ঠার তালিকার ১৫টি পাতা পরিবর্তন করে সেখানে জাল স্বাক্ষর করা হয়েছে। 

এ ঘটনায় তিনি ট্যাগ কর্মকর্তার জড়িত থাকার অভিযোগ করে বলেন, ট্যাগ কর্মকর্তা প্রায় এক সপ্তাহ ফাইলটি আটকে রেখে কাটা ছেড়া করেছেন ও স্বাক্ষর জাল করেছেন। তার এ কাজে সহযোগীতায় ইউনিয়নের দু’জন মেম্বরও জড়িত আছেন। তারা পরস্পর যোগসাজশে আর্থিক সুবিধা নিয়ে এ কাজটি করেছেন। 

বাগালী ইউনিয়নের ট্যাগ কর্মকর্তা জুলফিকার আলী বলেন, ইউএনও তালিকাটির উপকারভোগীদের নাম ঠিকানা সঠিক আছে কিনা তদন্ত করে দেখতে বলেন। এ জন্য তালিকাটি দু’দিন আমার কাছে ছিল। পরে তালিকা ইউএনও’র দফতরে জমা দিয়েছি। স্বাক্ষর জালের বিষয়টি আমার জানা নেই। 

কয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বদিউজ্জামান বলেন. ভিজিডির তালিকায় নাম পরিবর্তন ও স্বাক্ষর জালিয়াতির বিষয়ে মৌখিক অভিযোগ পেয়ে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় যে জড়িত থাকুক তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ