ঢাকা, শুক্রবার 24 February 2017, ১২ ফাল্গুন ১৪২৩, ২৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

নবাবগঞ্জ সিতাকোট বিহার রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে গো-চারণ ভূমিতে পরিণত

নবাবগঞ্জ (দিনাজপুর) সংবাদদাতা: রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে আর সীমানা প্রাচীর নির্মাণ না হওয়ায় দিনাজপুরের ঐতিহাসিক সিতাকোট বৌদ্ধ বিহারের জমি অবৈধ দখল করে বসতবাড়ি স্থাপন করায় বিহারটি গো-চারণ ভূমিতে পরিণত হয়েছে। এলাকাবাসী জানায়, বগুড়া ও রংপুর প্রতœতত্ব অধিদফতরের মনিটরিং না করায় বিহারটি ঐতিহ্য হারাতে বসেছে। খোলা মাঠে এ নির্দেশনাটি হওয়ায় গরু ছাগল নির্বিঘেœ বিচরণ করছে। বিহারের উত্তর, দক্ষিণ, পশ্চিম এলাকাজুড়ে গড়ে উঠেছে বসত বাড়ি। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে দর্শনার্থীরা এখানে আসলে নেই বিশ্রামাগারেরও কোন জায়গা। রেস্ট হাউজ সহ সুযোগ সুবিধা। কর্তৃপক্ষ যদি এই বিহারটি সংস্কার করা হলে এর ইতিহাস ঐতিহ্য সংরক্ষণ হবে আর দিন দিন দর্শনার্থীদের উপস্থিতি বাড়বে। সিতাকোট বিহার প্রাচিন নির্দশন এর অন্যতম একটি। ঐতিহ্যে ভরা দিনাজপুর জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলায় এর অবস্থান। প্রাচিন এ নির্দশন টি সিতার বাস ছিল। ১৯৬৮ এবং ১৯৭২-৭৩ সালে এ স্থানটি খনন করা হয়। ৬৫ মি.দ্ধ৬৫ মি. বর্গাকৃতির পরিমাপের একটি বৌদ্ধ বিহারের ধ্বংসাবশেষ সহ বেশকিছু প্রতœতত্ত্ব আবিষ্কৃত হয়। এর উত্তর বাহুর মধ্যস্থল এ রয়েছে ১৮৩ মি. প্রশস্ত প্রধান প্রবেশ পথ। পুরো বিহার টিতে মোট ৪১টি ভিক্ষু কক্ষ রয়েছে। এর পিছনে ২৪৪ মি. প্রশস্ত টানা দেয়াল আছে। নিবেদন মূর্তি, প্রদীপ, পূথি ইত্যাদি রাখার জন্য প্রতি কক্ষে কুলঙ্গি ছিল। কক্ষ গুলোর সামনে ২.৪৪ মি. প্রশস্ত টানা বারান্দা আছে। বাহারের কেন্দ্রস্থলে বারান্দা দ্বারা পরিবেষ্টিত ৪২.৩৮দ্ধমি.৪১.১৬ মি. আয়তনের আঙ্গিনা আছে। শালবন বা পাহাড়পুর বিহারের ন্যায় এ বিহারে কোনো কেন্দ্রীয় মন্দির ছিল না। তবে পূর্ব ও দক্ষিণ-পশ্চিম বাহুর কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত ৩টি কক্ষ উপাসনালয় হিসেবে ব্যবহার হতো। বিহারের দক্ষিণ পূর্ব কোনের অদূরে সৌচাগারের ব্যবস্থা ছিল। এ বিহারে ৩টি নির্মাণ পর্যায় পরিলক্ষিত হয়। স্বাভাবিক ভাবে পরিত্যক্ত হবার কারণে এ বিহারে তেমন কোনো নির্দশন পাওয়া যায়নি। তবে খননে ব্রঞ্চের ছোট মূর্তিসহ লোহার পেরেক, পোড়ামাটির দোয়াত, মাটির পুতুল, নক্সাকৃত ইটসহ অসংখ্য মৃতপাএ পাওয়া যায়। গঠন প্রণালী অনুযায়ী এ বিহারটি খৃস্ট ৭ম-৮ম শতকে নির্মাণ হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। একটু সময়করে ঘুরে আসতে পারেন সিতার বাড়িতে। আতিথেয়তা কম হবে না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ