ঢাকা, শনিবার 25 February 2017, ১৩ ফাল্গুন ১৪২৩, ২৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

গ্যাসের দাম বৃদ্ধি জনসাধারণের জীবনযাত্রার ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলবে

চট্টগ্রাম অফিস : আগামী ১ মার্চ থেকে বাসা বাড়ি, কলখারখানা ও পরিবহনে ব্যবহার্য গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব অনুমোদনের খবরে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দেশের ক্রেতা-ভোক্তাদের জাতীয় প্রতিনিধিত্বকারী প্রতিষ্ঠান কনুজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)। তারা এ প্রস্তাবের মার্চের অংশ বাস্তবায়ন করা হলেও জুনের অংশটি বাতিল, সর্বত্র গ্যাসের প্রাপ্যতা নিশ্চিত, সেবার মান নিশ্চিত, এলপিজির সহজ প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা, বাসাবাড়িতে গ্যাসের অপচয় রোধে প্রিপেইড মিটার স্থাপন, জাতীয় গ্রিড থেকে গ্যাস বিতরণে সমতা আনয়ন, গ্যাস খাতে অনিয়ম ও সিস্টেম লস কমাতে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহনের দাবি জানান। 

গ্যাসের দাম দু’ ধাপে ৪৯.০২ শতাংশ বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে এক বিবৃতিতে ক্যাব নেতৃবৃন্দ বলেন প্রতিদিন নিত্যপ্রয়োজনীয় সকল ভোগ্য পণ্যের দাম হু হু করে বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের জীবন জীবিকা নির্বাহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

সেখানে ১৬ কোটি সাধারণ জনগণের স্বার্থ চিন্তা না করে সরকার জ্বালানি গ্যাসের দাম দু’ দফায় ৪৯.০২ শতাংশ বৃদ্ধি ঘোষণা করায় তারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তারা বলেন, এ মুল্য বৃদ্ধি সাধারণ ভোক্তাদের চলমান জীবনযাত্রায় মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। গৃহ¯া’ালির ব্যবহার্য গ্যাস ও রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস সিএনজি গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি মধ্যবিত্তসহ সাধারণ নাগরিকদের জীবন যাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, গণপরিবহন ও শিল্প করকারখানয় উৎপাদন খরচ বাড়বে যার খেসারত দিতে হবে ১৬ কোটি ভোক্তাকে। 

গ্যাসের দাম বৃদ্ধির অযুহাতে গণপরিবহণে ভাড়া বৃদ্ধির কারণে হু হু করে সকল নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস পত্রের বাজারে আগুন ধরে যাবে। অন্যদিকে সকল গ্যাস কোম্পানিগুলি লাভজনক অবস্থানে আছে, তাই এ মুহূর্তে দাম বৃদ্ধির প্রয়োজন ছিল না দাবি করে এ দামবৃদ্ধি ন্যায়সঙ্গত ও যুক্তিযুক্ত নয় মন্তব্য করে দেশের নিন্ম মধ্যবিত্তসহ সাধারণ জনগণের উপর বর্ধিত মূল্য চাপিয়ে দেয়ার ঘটনাকে গণবিরোধী ও সরকারের উপর জনরোষ সৃষ্টির পায়তারা কিনা তা খতিয়ে দেখার দাবি করেন তারা। এছাড়াও গণশুনানীতে ভোক্তাদের পক্ষ থেকে প্রদত্ত সুপারিশের একটিও কার্যকর না করে গণশুনানীকে হাস্যকর করা, ভোক্তাদের স্বার্থ চিন্তা না করে সরকারি- বেসরকারি বিদ্যুত উৎপাদনকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণে কাজ করায় নবগঠিত বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেশন কমিশনকে ভোক্তা স্বার্থ সংরক্ষণে তাদের মুল দায়িত্ব-এটা থেকে সরে এসেছে বলে মতপ্রকাশ করেছেন কনজুমারস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) চট্টগ্রাম বিভাগীয় ও মহানগর কমিটি। 

নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম সর্বনিন্ম হলেও দেশের বাজারে বারংবার মূল্য সমন্বয় করার প্রস্তাব নিয়ে বিইআরসি কোন প্রকার প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে, ভূতর্কি হ্রাস, গ্যাস উন্নয়ন তহবিল ইত্যাদি অযুহাতে দামবৃদ্ধি, জ্বালানি গ্যাসের দু’ধাপে ৪৯.০২% মুল্য বৃদ্ধির ঘোষণা চলমান জীবনযাত্রার মূল্যবৃদ্ধি মধ্যবিত্তসহ সাধারণ জনগণের জীবন যাপনে নিত্যপ্রয়োজনীয় সকল প্রকার দ্রব্যসামগ্রী ও জীবনযাত্রার উপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এ সুযোগে ব্যবসায়ীরা নিত্য প্রয়োজনীয় সকল প্রকার সকল দ্রব্যসমাগ্রী ও সেবা সার্ভিসের আরেক দফা আগুন ধরাবে। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন গ্যাস কোম্পানিগুলির আবেদনের প্রেক্ষিতে ভোক্তাদের স্বার্থ চিন্তা না করে ভুর্তকি হ্রাস, সিস্টেম লস, উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি, বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফ’র পরামর্শে গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির সিদ্ধান্তকে হঠকারী ও দুঃখজনক বলে মন্তব্য করে এ প্রক্রিয়াকে হতাশাজনক ও বিইআরসির প্রতি সংবিধানের প্রদত্ত দায়িত্বের বরখেলাপ বলে অবিলম্বে এ ধরনের হটকারী সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার জন্য সরকার প্রধানের কাছে দাবি জানিয়েছেন। 

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ আরও অভিযোগ করেন, বর্তমানে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের যে উর্ধ্বগতি পাগলা ঘোাড়া বাজারের আগুন ছড়াচ্ছে যা মধ্যবিত্তজনগণসহ সর্বস্থরের সাধারণ নাগরিকদের জীবনযাত্রাকে ভয়াবহ দুর্বীসহ করে তুলেছে, বর্তমান গ্যাসের ুমূল্য বৃদ্ধি তার গায়ে গতি সঞ্চার করবে। গৃহস্থালির গ্যাস ও রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস সিএনজির মূল্য বৃদ্ধির কারণে খাদ্য উৎপাদন, কৃষি, শিল্প, পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্য ইত্যাদি খাতে প্রভাব ফেলবে। যেখানে গণপরিবহন খরচ বাড়বে, বিদ্যুতের পরিবর্তে গ্যাস জেনারেটর দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে সেখানে এর উৎদপাদন খরচ অনেক গুন বেড়ে যাবে। যার দায়ভার নিতে হবে ভোক্তাদেরকে।

তারা বিবৃতিতে বলেন, সরকার দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি ও বাজার নিয়ন্ত্রণ না করে সাধারণ জনগণের উপর বাড়তি মূল্যের চাপটি তুলে দিয়ে জনগণের দুর্ভোগ বাড়াচ্ছে। চাল, আটা, ময়দা, গোশতসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্য পণ্যের বাজারে ব্যবসায়ীরা বেপোরোয়া হয়ে বাড়তি মূল্যে বিক্রি করে আগুন ছড়ালেও সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় দিবা স্বপ্নে বিভোর, কোন প্রকার বাজার তদারকি এবং বিকল্প বাজার সৃষ্টি নেই, অন্যদিকে সিএনজি বাস ও ট্যাক্সির ভাড়া পুনঃ নির্ধারণ করা হলেও কোন বাস ও সিএনজি টেক্সির মালিকরা তা মানছে না। এগুলো নিয়ন্ত্রণ না করে সাধারণ জনগণের উপর দামবাড়ানোর বাড়তি বোঝা তুলে দিয়ে সামগ্রিকভাবে সমাজে অস্থিরতা বাড়াতে পারেন বলে তারাঁ মন্তব্য করেন। সরকার গ্যাস কোম্পানিগুলির চুরি বন্ধ না করে, সেবার মান না বাড়িয়ে দাম বাড়ানোসহ নানা অনিয়মের প্রতিকার না করে বারবার দাম বাড়ানোর খুড়া যুক্তির সিদ্ধান্তকে অপরিপক্ষ ও জনস্বার্থ বিরোধী বলে তা বাতিলের দাবি জানান। 

বিবৃতিতে যারা স্বাক্ষর করেন তারা হলেন ক্যাবের কেন্দ্রিয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন, চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক কাজী ইকবাল বাহার ছাবেরী, মহানগরের সভাপতি জেসমিন সুলতানা পারু, দক্ষিন জেলা সভাপতি আলহাজ্ব আবদুল মান্নান প্রমুখ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ