ঢাকা, শনিবার 25 February 2017, ১৩ ফাল্গুন ১৪২৩, ২৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির গণবিরোধী সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি বিএনপির

গতকাল শুক্রবার নয়াপল্টন বিএনপি কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিং করেন দলের সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ -সংগ্রাম

 

স্টাফ রিপোর্টার : গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধিকে গণবিরোধী আখ্যা দিয়ে অবিলম্বে সরকারের নেয়া পদক্ষেপ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে বিএনপি। গতকাল শুক্রবার দলের নয়াপল্টনে এক সাংবাদিক সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এই দাবি জানান। 

রিজভী বলেন, আবারো বাড়ানো হয়েছে গ্যাসের দাম। শুধুমাত্র আওয়ামী লীগ সরকার তিনবারে গ্যাসের মূল্য পাঁচগুণ বৃদ্ধি করেছে। বর্তমানে গ্যাস কোম্পানীগুলো লাভজনক অবস্থায় থাকলেও কেবলমাত্র সীমাহীন লুটপাটের জন্যই এই মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছে সরকার। তিনি বলেন, ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে একদিকে বিরোধী দলের ওপর জেল-জুলুম-নির্যাতন চলছে, গুম-খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে সারা দেশ আজ বিভীষিকাময়। সন্ত্রাসী দুঃশাসনের ছায়ায় গ্রাস হয়ে আছে বাংলাদেশ। অন্যদিকে দুর্নীতি, দুঃশাসন আর লুটপাটে মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠছে। দুর্নীতির বৃদ্ধি-বিকাশের আদর্শস্থল আওয়ামী সরকার। ক্ষমতাসীনদের কাছে অহম ও ক্ষমতালিপ্সা দেশের চেয়েও প্রিয়। রাবিশ ও বোগাস শব্দের ব্যবহারে ট্রেডমার্ক অর্থমন্ত্রী বলেন, স্পীড মানি বা ঘুষ দেয়া অবৈধ নয়, সেজন্য দুদক দুর্নীতি দমনের চেয়ে ক্ষমতাসীনদের লুটপাটের দায়মুক্তির সার্টিফিকেটই বেশী বিতরণ করেছে। আর বিএনপি চেয়ারপার্সনসহ বিরোধী দলের নেতাদের মিথ্যা মামলা জিইয়ে রাখা হয়েছে শুধুমাত্র প্রধানমন্ত্রীকে খুশী রাখার জন্য। প্রধানমন্ত্রীসহ বড় বড় মন্ত্রীদের সর্বনাশা আশকারাতেই দুর্নীতি ফুলে-ফলে-পাঁপড়িতে পল্লবিত হয়ে উঠেছে।

বিএনপির এই নেতা বলেন, গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির খড়গ পড়বে সাধারণ মানুষের ঘাড়ে। গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির ফলে এর প্রভাব পড়বে সকল সেক্টরে। এমনিতেই দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। শীতের এই সব্জি’র সিজনেও এমন কোন সব্জি নেই যার দাম ৫০ টাকার নীচে। চালের দাম বেড়েছে কয়েকগুণ। অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যও আকাশছোঁয়া। মানুষের বাড়িভাড়া বেড়েছে। এর ওপর গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি মরার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

রিজভী বলেন, যেহেতু বর্তমান সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয় তাই তাদের মানুষের ওপর দরদ নেই। তারা মনে করে- বাংলাদেশের সবকিছুতে রয়েছে আওয়ামী লীগের মালিকানা। সত্যিকার অর্থে গণতন্ত্রহীন দেশে বন্দুকের জোরে যেন জুলুমের শাসন চলছে। এত জুলুম-নির্যাতন, গুম-খুনে মানুষ প্রতিবাদের ভাষাও আজ হারিয়ে ফেলেছে। জনগণকে তারা ত্যাজ্য করেছে। আর এজন্যই তারা নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে চায় না, নিজেদের ছাতার নীচে নির্বাচন করতে তারা ক্ষেপে ওঠে। তাই আমি বিএনপির পক্ষ থেকে আবারও গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির গণবিরোধী পদক্ষেপ প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি। একই সঙ্গে সাধারণ জনগণকে সরকারের ভয়াবহ জুলুম নিপীড়নের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।

পিলখানা হত্যাকাণ্ড বিষয়ে রিজভী বলেন, ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাকে হত্যার যে নির্মম ও মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে তা জাতির জন্য খুবই বেদনাদায়ক ও শোকাবহ। আমাদের গৌরবোজ্জল সেনাবাহিনী মুক্তিযুদ্ধে দেশ স্বাধীন করার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। কিন্তু ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারিতে হত্যা করা হয়েছে চৌকস ও মেধাবী ৫৭ জন কর্মকর্তাকে। তাদের পরিবার-পরিজনকে নির্যাতন, লাঞ্ছিত ও অপমানিত করা হয়েছে। পৃথিবীর ইতিহাসে এমনকি অনেক যুদ্ধেও এতো সেনা কর্মকর্তা একসাথে নিহত হয়নি। পূর্ব পরিকল্পিত পিলখানা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অনেকের সাজা হয়েছে, আবার অনেকেই অধরাই থেকে গেছেন। এই মর্মান্তিক ঘটনার সাথে ক্ষমতাসীনদের অনেকের জড়িত থাকার কথা শোনা গেলেও সেগুলোকে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। পুরো বিষয়টি এখনও রহস্যের কুয়াশায় ঢাকা। একটি জাতি স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব সুরক্ষার প্রতীক সেনাবাহিনীকে এভাবে দুর্বল করার আন্তর্জাতিক চক্রান্ত থাকতে পারে। পিলখানা ট্র্যাজেডির উচ্চ পর্যায়ের একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে এর রহস্য উদঘাটন করা উচিত। আমি বিএনপির পক্ষ থেকে পিলখানায় সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের হত্যাকাণ্ডের দিনটিকে জাতীয় শোক দিবস হিসেবে ঘোষণার জোর দাবি জানাই।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ