ঢাকা, শনিবার 25 February 2017, ১৩ ফাল্গুন ১৪২৩, ২৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

জাতির সামনে পরিষ্কার লিটন হত্যার পর জামায়াত ও শিবিরকে জড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতাদের বক্তব্য ছিল সম্পূর্ণ মিথ্যা -ডাঃ শফিকুর রহমান

গাইবান্ধা-১ আসনের আওয়ামী লীগের দলীয় জাতীয় সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনের হত্যকাণ্ডের পরে গাইবান্ধায় গ্রেফতারকৃত জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি প্রদানের জন্য আহ্বান জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ডাঃ শফিকুর রহমান বলেন, গাইবান্ধা-১ আসনের আওয়ামী লীগের দলীয় জাতীয় সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনের প্রকৃত হত্যাকারী গ্রেফতার হওয়ায় জাতির সামনে পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে যে, মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনকে হত্যা করার পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের নেতারা ঐ হত্যাকাণ্ডের সাথে জামায়াতে ইসলামী এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরকে জড়িয়ে যে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত বক্তব্য দিয়েছিলেন তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। 

গতকাল শুক্রবার দেয়া বিবৃতিতে তিনি বলেন, গাইবান্ধা-১ আসনের আওয়ামী লীগের দলীয় জাতীয় সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন দুবর্ৃৃত্তদের গুলীতে নিহত হওয়ার ঘটনার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার দলের নেতারা কোন রকম তথ্য প্রমাণ ছাড়াই ঐ ঘটনার জন্য জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরকে দায়ী করে ভিত্তিহীন মিথ্যা বক্তব্য দিয়ে পানি ঘোলা করার অপচেষ্টা চালিয়েছিলেন। ঐ ঘটনার পরে গাইবান্ধায় জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্রায় শতাধিক নেতা-কর্মীকে অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মিথ্যা বক্তব্য এবং জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের অন্যায়ভাবে গ্রেফতারের প্রতিবাদ জানিয়ে আমরা বলেছিলাম যে, ঐ হত্যাকাণ্ডের সাথে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের কোন সম্পর্ক নেই। মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনের হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ আওয়ামী মহাজোটের শরীক দল জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও গাইবান্ধা-১ আসনের সাবেক এমপি আবদুল কাদের খানকে গ্রেফতার করেছে এবং তার বাড়ি থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত পিস্তলটি উদ্ধার করেছে। এ হত্যাকাণ্ডের অপর নায়ক আওয়ামী লীগ নেতা চন্দন কুমার গোস্বামী ভারতে পালিয়ে গিয়েছে। এ থেকেই জাতির সামনে প্রমাণিত হয়েছে যে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের নেতারা জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে মিথ্যা বক্তব্য দিতেই অভ্যস্ত। এ পর্যন্ত তারা জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে যত বক্তব্য দিয়েছেন তা সবই মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। 

তিনি বলেন, দেশে কোন ঘটনা ঘটলেই সে জন্য জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরকে দায়ী করে তারা মিথ্যা বক্তব্য দিলেও বাস্তবে তারা তাদের বক্তব্যের সত্যতা প্রমাণ করতে পারেনি। এতে প্রমাণিত হলো যে, আওয়ামী লীগের দলীয় জাতীয় সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনের হত্যাকাণ্ডের সাথে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবির জড়িত নয়। কিন্তু বিনা কারণে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্রায় শতাধিক নেতা-কর্মী গ্রেফতার করে তাদের উপর চরমভাবে জুলুম করা হয়েছে। তিনি এ ধরনের নিরীহ লোকদের উপর জুলুম করার প্রতিবাদ এবং অবিলম্বে তাদের নিঃশর্ত মুক্তি দেয়ার দাবি জানান। 

জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে মিথ্যা বক্তব্য প্রদান করা থেকে বিরত থাকার জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আশা প্রকাশ করেন, তারা গাইবান্ধা-১ আসনের আওয়ামী লীগের দলীয় জাতীয় সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করবেন এবং ভবিষ্যতে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসাবশত অহেতুক ঘায়েল করার অপপ্রয়াস চালানো থেকে বিরত থাকবেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ