ঢাকা, শনিবার 25 February 2017, ১৩ ফাল্গুন ১৪২৩, ২৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

যৌবন হারাচ্ছে শাহজাদপুরের করতোয়া ॥ বুক জুড়ে ধান চাষ

শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) : করতোয়া নদীর বুক জুড়ে সবুজ ধানের সমারোহ

শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা : শাহজাদপুর শহর ঘেষে নিরন্তর বয়ে চলা করতোয়া নদী ক্রমশই যৌবন হারাচ্ছে। এক সময়ের খড়¯্রােতা এই নদীটি সময়ের বিবর্তনে দখল ও দূষণের কবলে পড়ে এখন মৃত্যু নদীতে পরিণত হয়েছে। চৈত্র মাস আসার আগেই প্রমত্তা করতোয়া তাঁর চিরায়িত যৌবন হারিয়ে পানি শূন্যতায় ভুগছে। শাহজাদপুরের বাঘাবাড়ী থেকে বগুড়া সারিয়াকান্দি পর্যন্ত দীর্ঘ এই নদীটি তাঁর ঐতিহ্য হারিয়ে বার্ধক্যে উপণিত। একটি নদীর জন্য প্রবাহিত যতটুকু পানি থাকার প্রয়োজন তা নেই বললেই চলে। যতটুকু পানি আছে তা দেখে বোঝার উপায় নেই এটি একটি প্রাচীণ খড়¯্রােতা নদী। এক সময়ের বাঙ্গালা নদী বর্তমানে করতোয়া নাম ধারণ করে বগুড়া সারিয়াকান্দি থেকে শাহজাদপুরের বাঘাবাড়ী যমুনা ও বড়াল নদীর মোহনায় মিলিত হয়েছে। অথচ বেশিদিন আগের কথা নয় যখন নদীর বুক জুড়ে নিরন্তর বয়ে চলতো ছল ছল পানি। আর জেলেদের কর্মব্যস্ত দেখা যেত মাছ শিকারে। নদীতে গুণটানা নৌকা চলতে দেখা যেত। করতোয়া অববাহিকায় শাহজাদপুর উপজেলা শহর অবস্থিত হওয়ায় এই করতোয়া নদীপথেই বেশ কয়েকটি ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষ নৌকা পথে শহরে আসতো। কিন্তু সময়ের বিবর্তনে ঐতিহ্যবাহী করতোয়া নদী পানি শূন্য হয়ে পরায় বুক জুড়ে জেগে উঠে ধুধু বালু চর। আর এ সুযোগে জমির মালিকরা ধান,সরিষাসহ নানা ফসল চাষ করতে থাকে।

বর্ষা মৌসুমে শুধু নদীটি পানিতে টইটুম্বুর হয়ে তাঁর ভরা যৌবন ফিরে পেলেও চৈত্র মাস আসার আগেই শুকিয়ে মৃত্যু নদীতে পরিণত হয়। বর্তমানে নদীর দু-তৃতীয়াংশ এলাকাই শুকিয়ে গেছে। সামান্য একটু অংশ জুড়ে হাটু পানি আছে। নদীর এমন গতিপথ ও পানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় শাহজাদপুরের অর্থনীতিতেও বিরূপ প্রভাব পরেছে। একদিকে যেমন জেলেরা মৎস্য শিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তেমনি উপজেলা শহরের সাথে নৌ-যোগাযোগ বন্ধ থাকায় ব্যবসা বাণিজ্যে চরম সমস্যা হচ্ছে। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সাথে বড় বড় বর্জ্য নৌকায় ধান, পাট, সরিষাসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় মালামাল আনা নেয়া করা হতো। নদীর বুক জুড়ে বারো মাস পানি থাকতো। বড় বড় ঢেউ আছড়ে পরতে দেখা যেত। আর পানি ভিতরে শুশক মাঝে মধ্যেই ঝাপুড়ি দিয়ে লাফিয়ে বেড়াতো। পালতোলা ও গুণটানা নৌকা হরহামেশাই দেখা মিলতো। বিশেষ করে যমুনা নদী তীরবর্তী এব সোনাতুনী, গালা, রূপবাটি পোতাজিয়া, পোরজনা ইউনিয়নের মানুষ করতোয়া নদীপথেই উপজেলা শহরের সাথে যোগাযোগ মালামাল আনা নেয়া করতো।

কিন্তু নদীটির এই দূরবস্থার কারণে এসব ইউনিয়নের মানুষের যোগাযোগ এখন চরম বিঘিœত হচ্ছে। নদীটি নাব্যতা হারানোর পাশাপাশি নদী তীরে গড়ে উঠা অর্ধশত তাঁত শিল্প কারখানা আর কারখানায় নির্গত বিষাক্ত বর্জ্যে দূষিত হচ্ছে নদীর পানি। মরে যাচ্ছে বিভিন্ন প্রজাতীর দেশীয় মাছ। নদীতে গোসল করে নানা রকম চর্মরোগে ভুগছে নদী তীরের শত শত মানুষ।

৪ গাঁজা ব্যবসায়ী আটক

গত কয়েক দিনে শাহজাদপুর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ৩ গাঁজা ব্যবসায়ী ও ১জন হোরোইন ব্যবসায়ীসহ মোট ৪ জনকে আটক করেছে শাহজাদপুর থানা পুলিশ। ওসি গোলাম কিবরিয়া জানান, গত ২২ ফেব্রুয়ারি রাতে পৌর শহরের দাবাড়িয়া মহল্লা থেকে হোরেইন ব্যবসায়ী শুকুর আলী (৩০)কে আটক করেছে। এছাড়াও বাঘাবাড়ী পোর্ট সংলগ্ন শেলাচাপড়ি গ্রাম থেকে ইজ্জত মোল্লার ছেলে গাঁজা ব্যবসায়ী হাসেম মোল্লা (৩৭) কে আটক করে এস আই ফরিদুল আলম,শাহজাদপুর পৌর এলাকার পুকুড়পাড় উত্তরপাড়ায় এস আই আব্দুল জলিল অভিযান চালিয়ে ২০০ গ্রাম গাঁজাসহ মৃত মোকছেদ আলীর ছেলে আব্দুর রহিম (৪৯) কে আটক করা হয়। একই দিনে পৌর এলাকার দ্বারিয়াপুর লম্বাপাড়ার মৃত মহর আলীর পুত্র জিয়া (৪৫) কে ৩৫ পুিিরয়া হেরোইনসহ আটক করে এস আই রফিকুল ইসলাম। বুধবার রাতে পৌর এলাকার বাটার মোড় থেকে সিনিয়র অফিসার বানী ইসরাঈল অভিযান চালিয়ে দ্বারিয়াপুর গ্রামের মৃত দুলাল শেখের পুত্র গাঁজা ব্যবসায়ী সানোয়ার হোসেন (২৮) কে আটক করে। আটককৃতদের মাদকদ্রব্য আইনে মামলা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

প্রতিপক্ষের ঘরে আগুন 

গত মঙ্গলবার রাতে শাহজাদপুর উপজেলার পোরজনা ইউনিয়নের বড় বাশুরিয়া গ্রামের মৃত্যু শুকুর আলীর পুত্র বারেক আলীর দোচালা ঘর আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিয়েছে প্রতিপক্ষ একই গ্রামের মৃত্যু আমজাদের পুত্র হেলাল, আকবর, জালাল, সোনাউল্লাহ, শাহজাহান এবং সবুজ, নাছির, আলম, রফিকুল, শফিকুল গংরা। শাহজাদপুর থানা এজহার সূত্রে জানা যায়, উক্ত আসামীরা দীর্ঘদিনের জমিজমা সংক্রান্ত মামলা ও বিরোধের জের ধরে পরিকল্পিতভাবে ঘুমন্ত অবস্থায় ঘরের চারদিকে কোরোসিন ঢেলে শোলার বেড়া দিয়ে ঘেরা দুচালা ঘরে আগুন দেয়। মুহূর্তেই আগুন তীব্র থেকে তীব্রতর হয়ে ঘরের ভিতরে থাকা ২০ মণ সরিষা এবং নগদ ৩০ হাজার টাকাসহ টাকার মানে মোট ৬৫ হাজার টাকা পুড়ে ভস্মীভূত হয়। এ ঘটনায় বারেক আলী প্রতিপক্ষ ১০ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ