ঢাকা, শনিবার 25 February 2017, ১৩ ফাল্গুন ১৪২৩, ২৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ধর্মঘটের পর গরুর গোশ্তের দাম কেজিতে ৮০ টাকা বৃদ্ধি

স্টাফ রিপোর্টার: এক সপ্তাহ আগে রাজধানীর কোনো বাজারে গরু-ছাগলের গোশতের সাজানো চিত্র দেখা যায়নি। চাঁদাবাজি বন্ধসহ বিভিন্ন দাবিতে ধর্মঘট করেছিলেন গোশ্ত ব্যবসায়ীরা। এক সপ্তাহের ধর্মঘট শেষে চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে আবারও দোকান সাজিয়ে ব্যবসায় বসেছেন তারা। তবে ধর্মঘটের আগের এবং পরের বাজারে গোশ্তের দামের পার্থক্য অনেক বেশি। প্রতি কেজি গরুর গোশত ৭০-৮০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে।
গতকাল শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে এমন দৃশ্য দেখা গেছে। প্রতিটি গোশ্তের দোকানেই থরে থরে সাজানো হয়েছে গরুর গোশ্ত। গোশ্ত ব্যবসায়ীরা চাঁদাবইজর অজুহাতে ইচ্ছে মতো দাম বৃদ্ধি করেছে।
তবে অস্বাভাবিক হারে দাম বাড়ানোকে অন্যায় দাবি করে ভোক্তারা বলেন, এক সপ্তাহ রাজধানীজুড়ে গোশত বিক্রি বন্ধ ছিল। তাই ওই সময়ে গোশ্ত খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হয়েছে। কিন্তু পরিবারের ছোটদের কাছে এটা অসহ্যের। তাই দাম বেশি হলেও তাদের কথা চিন্তা করেই বাড়তি দামে গোশ্ত কিনতে হচ্ছে।
বাজার পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, আজকের বাজারে গরুর গোশ্ত কেজি প্রতি ৫০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে; ধর্মঘটের আগে যা ৪২০ টাকা থেকে ৪৩০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। তবে খাসির গোশ্তের দাম খুব বেশি বাড়েনি। ধর্মঘটের আগে খাসির গোশ্ত কেজি প্রতি ৭০০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। এখনও সেই দামে বিক্রি হচ্ছে।
গরুর গোশ্তের দাম বাড়ার বিষয়ে রাজধানীর এক গোশ্ত ব্যবসায়ী বলেন, যে সব দাবি আদায়ে আমরা ধর্মঘট করেছিলাম- তা এখনও মেনে নেয়নি সরকার। বরং ধর্মঘটের পর গাবতলী হাটের ইজারাদারদের অত্যাচারের দৌরাত্ম্য আরও বেড়েছে।
তিনি বলেন, আমরা তো ব্যবসা করি। ধর্মঘটের পর ইজারাদারদের অত্যাচারের দৌরাত্ম্য বেড়ে যাওয়ায় আমাদের খরচও বেড়েছে। খাজনাসহ আনুষঙ্গিক খরচ বেশি হওয়ায় তা পুষিয়ে নিতে গরুর গোশ্তের দাম আগের দামের চেয়ে কিছুটা বাড়াতে হয়েছে। খরচ কমে গেলে আমরা দামও কমিয়ে দেব।
এদিকে গোশ্ত কিনতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে ক্রেতাদের। বাজারে কয়েকজন গোশ্ত বিক্রেতার সঙ্গে দর কষাকষির পর খালি হতে ফিরছিলেন জয়নাল আবেদিন। তিনি বলেন, ধর্মঘটের পর আজকেই প্রথম বাজারে আসলাম। ভেবেছিলাম, ধর্মঘটের পর গোশ্তের দাম কিছুটা কমবে। কিন্তু বাজারের চিত্র ভিন্ন; কমার পরিবর্তে দাম আরও বেড়েছে। এমন চলতে থাকলে গোশ্ত খাওয়াই বাদ দিতে হবে।
এদিকে সপ্তাহের ব্যবধানে মুরগির দামে কিছুটা পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। গত সপ্তাহের তুলনায় ৫ টাকা বেড়ে আজকের বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৬৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি লেয়ার মুরগি ১৮৫ টাকায়; দেশি মুরগি প্রতি কেজি ৪০০ টাকা; পাকিস্তানি লাল মুরগি কেজি প্রতি ২৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
এছাড়া মাছের বাজার অনেকটাই অপরিবর্তিত আছে। আকার ভেদে প্রতি কেজি রুই মাছ ২৫০ টাকা থেকে ৩৫০ টাকা; সরপুঁটি ৩৫০ টাকা থেকে ৪৫০ টাকা; কাতলা ৩৫০ টাকা থেকে ৪০০ টাকা; তেলাপিয়া ১৪০ টাকা ১৮০ টাকা; সিলভার কার্প ১৫০ টাকা থেকে ২০০ টাকা; চাষের কৈ ২০০ টাকা থেকে ২৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
পাঙ্গাস প্রতি কেজি ১৩০ থেকে ১৮০ টাকা; টেংরা ৬০০ টাকা; মাগুর ৬০০ টাকা থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রকার ভেদে চিংড়ি ৪০০ টাকা থেকে ৮০০ টাকায়; ইলিশ কেজি প্রতি (মাঝারি) ৮০০ টাকা এবং দেড়কেজি ওজনের প্রতিটি ইলিশ ১৮০০ টাক থেকে ২০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে রাজধানীর সবজি বাজারগুলোতে পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলেও কমছে না নিত্য প্রয়োজনীয় কাঁচা পণ্যের দাম। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে বাড়তি দামেই স্থিতিশীল রয়েছে সব ধরনের সবজির দাম।
বাজার পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, প্রতি কেজি সাদা বেগুন ৫০ টাকা; কালো বেগুন ৪০ টাকা; কাঁচা মরিচ ৬০ টাকা; শিম ৩৫-৪০ টাকা; টমেটো ৩৫-৪০ টাকা; শশা ৪০-৪৫ টাকা; গাজর ৪০ টাকা; পেঁয়াজের কালি ১০ টাকা; চাল কুমড়া ১৫ টাকা; কচুর লতি ৬০ টাকা; মূলা ২৫-৩০ টাকা এবং শালগম ৩০-৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
প্রতি কেজি পটল ৯০ টাকা, ঢেঁড়স ১০০ টাকা, ঝিঙ্গা ৮০ টাকা, চিচিঙ্গা ৭০ টাকা, করলা ৫৫-৬০ টাকা, কাকরোল ৫০ টাকা, কচুরমুখি ৬০ টাকা, আলু ১৫ টাকা এবং পেঁপে ১৫ টাকা থেকে ২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
প্রতিটি ফুলকপি ৩৫-৪০ টাকা, বাঁধাকপি ২০-২৫ টাকা; লেবু হালি প্রতি ১৫-২৫ টাকা; আটি প্রতি পালং শাক ১৫ টাকা, লালশাক ১৫ টাকা, পুঁইশাক ২০ টাকা এবং লাউশাক ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
অন্যদিকে মুদি পণ্যের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, নিত্য প্রয়োজনীয় মুদি পণ্যের দামে তেমন কোনো পরিবর্তন নেই। বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে মুদি পণ্য। প্রতি লিটার ভোজ্য তেল ১০০ থেকে ১১০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আর ৫ লিটারের বোতল ব্র্যান্ড ভেদে ৫০০ থেকে ৫১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এছাড়া কেজি প্রতি দেশি মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে ১২৫ টাকায়; ভারতীয় মসুর ডাল ১১৫ টাকা; মুগ ডাল (দেশি) ১২০ টাকা; ভারতীয় মুগ ডাল ১১০ টাকা; মাসকলাই ১৩৫ টাকা এবং ছোলা ৯০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
মানভেদে দেশি পেঁয়াজ কেজি প্রতি ২৬ টাকা; ভারতীয় পেঁয়াজ ২৩ টাকা; দেশি রসুন ১৯০ টাকা (পুরাতন); দেশি রসুন ১৪৫ টাকা (নতুন); ভারতীয় রসুন ২১০ টাকা এবং চীনা রসুন ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশি আদা ১৫০ টাকা; চীনের আদা ৭০ টাকা; করলা ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে চালের বাজারে তেমন কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। প্রতি কেজি স্বর্ণা চাল ৪০ টাকা; পারিজা চাল ৪০-৪১ টাকা; মিনিকেট ভালো ৫০-৫৩ টাকা; মিনিকেট নরমাল ৪৮ টাকা; বিআর আটাশ চাল ৪২-৪৪ টাকা; নাজিরশাইল চাল ৪২-৪৮ টাকা; বাসমতি চাল ৫৬ টাকা; কাটারিভোগ চাল ৭৪-৭৬ টাকা; হাস্কি নাজির চাল ৪০ টাকা এবং পোলাও চাল ১০০ (পুরাতন), নতুন ৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ