ঢাকা, শনিবার 25 February 2017, ১৩ ফাল্গুন ১৪২৩, ২৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

চৌহালী শহর রক্ষা বাঁধে ধস ॥ ডাম্পিং কাজে ব্যাপক ফাঁকি দেয়ার অভিযোগ

১০৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন সিরাজগঞ্জের চৌহালী শহর রক্ষা বাঁধের খড়েন ঘাট এলাকায় ৩৬ মিটার ধসে গেছে। কাজে ফাঁকি, অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণেই অসময়ে বাঁধে ধস নেমেছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের -সংগ্রাম

চৌহালী (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা: টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বিভাগের তত্ত্বাবধানে প্রায় ১০৭ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন সিরাজগঞ্জের চৌহালী শহর রক্ষা বাঁধের ৩৬ মিটার এলাকা অসময়ে ধসে গেছে। নদীর তলদেশে বালিভর্তি জিও ব্যাগ ডাম্পিং কাজে ব্যাপক ফাঁকি, অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে এই ধস নেমেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এদিকে অসময়ে শহর রক্ষা বাঁধে ধস নামায় এলাকাবাসীর মধ্যে ভাঙন আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা যায়, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধানে প্রায় ১০৭ কোটি টাকা ব্যয়ে সিরাজগঞ্জের চৌহালী শহর রক্ষা বাঁধ প্রকল্পের কাজ হাতে নেয়। ২০১৬ সালে টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বিভাগের তত্ত্বাবধানে চৌহালীর সবচেয়ে বেশি ভাঙনপ্রবণ খাসকাউলিয়া থেকে আটাপাড়া পর্যন্ত পাঁচ কিলোমিটার দৈর্ঘে যমুনা নদীর তলদেশে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ডাম্পিং, নদীর পূর্বপাড় ১ঃ৩ আনুপাতিকহারে ঢালু (স্লোপ) করে এরপর স্লোপে নদীর পানির স্তর থেকে পাড় পর্যন্ত একটার পর একটা বালুভর্তি জিও ব্যাগ বিছিয়ে স্রোতের আঘাত থেকে অস্থায়ীভাবে নদীর পাড় ভাঙনরোধের প্রথম পর্যায়ের কাজ শেষ করা হয়। বর্তমানে দ্বিতীয় পর্যায়ে নদী পাড়ের ঢালুতে সিসি ব্লক বিছিয়ে স্থায়ী ভাঙনরোধ কাজ করা হচ্ছে।
এদিকে গত বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে বাঁধের ডাব্লিউ ৭ সাইডের ব্লক পিসিং কাজ চলার সময় হাঠাৎ করে টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলাধীন খাষ শাহজানী (খগেন ঘাট) এলাকার ৩৬ মিটার এলাকা আকস্মিকভাবে ধসে যায়। এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পানি উন্নয়ন বিভাগের দাবি খগেন ঘাট এলাকায় পানির গভীরতা ১৮ থেকে ১৯ মিটার। তাছাড়া যমুনার নতুন একটি ধরা ওই পয়েন্টে সরাসরি আঘাত করায় ধসের ঘটনা ঘটেছে। গত বছরের ১ মে রাতে শহর রক্ষা বাঁধের টাঙ্গাইল জেলার নাগরপুর সীমানার সোয়া কিলোমিটার এলাকা এবং চৌহালীর উত্তর সীমান্তে চেকিরমোড় থেকে খাস কাউলিয়া গার্লস হাইস্কুল পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার এলাকার বালুভর্তি জিও ব্যাগ ধসে গিয়েছিল। সেসময় পানি উন্নয়ন বিভাগ দাবি করেছিল, প্রচণ্ড কালবৈশাখী ঝড়ে সৃষ্ট জলচ্ছ্বাস, প্রবল বর্ষণ এবং যমুনা নদীর পানির পানির প্রচণ্ড চাপে শহর রক্ষা বাঁধের বালুভর্তি জিও ব্যাগ ধসে গিয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, গত বছর শহর প্রতিরক্ষা কাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ নদীর তলদেশে সঠিকভাবে ভাবে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ডাম্পিং না করা কাজে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে ধস নেমেছে। তারা আরো বলেন, বাঁধের সিডিউল অনুযায়ী উন্নত প্রযুক্তি প্রয়োগ না করে যেনতেন ভাবে প্রথম পর্যায়ের কাজ শেষ করায় অসময়ে নদী পাড়ে ভয়াবহ ধস নেমেছে। 
এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বিভাগেরর নির্বাহী প্রকৌশলী শাহজাহান সিরাজের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ধসে যাওয়া স্থানে মেরামত কাজ চলছে। বাঁধের পশ্চিমে নতুন চর জেগে ওঠার কারণে পানি পূর্ব প্রান্ত দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানির প্রচ- চাপ এবং ওখানকার মাটি নরম (লোনা) হওয়ার কারণে স্রোতের টানে  নিচ থেকে মাটি সরে যাওয়ায় ধসে গেছে। তবে এতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। কাজের গুণগতমান অনেক ভালো হয়েছে বলে তিনি দাবি করেছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ