ঢাকা, রোববার 26 February 2017, ১৪ ফাল্গুন ১৪২৩, ২৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ছড়া/কবিতা

ভাষার গর্ব শহীদ স্মৃতি
রওশন মতিন

বাংলা ভাষায় মায়ের ভাষার বর্ণমালার চাষ,
রাজপথে লুটিয়ে আছে শহীদ ভাইয়ের লাশ,
হাতে খড়ির অ আ ক খ প্রথম লেখা আমার খাতার,
ফেব্রুয়ারী রোদন ভরা অশ্রুঝরা শোকের পাথার।

তরু-তমাল, ধানের ক্ষেতে কোন সে ভাষা
কইছে কথা দুলিয়ে মাথা,
কোন ভাষাতে ঢেঁকিতে পাট, ধান ভানে-
আর মা-বোনেরা বোনে কাঁথা।

কোন ভাষাতে মায়ের আদর ভাইয়ের স্নেহ,
কথার কূজন পরিপাটি,
কোন ভাষাতে মাঝি-মাল্লা দিল-দরিয়া,
গাইছে গীতি উজান- ভাটি।

কোন ভাষাতে স্বপ্ন বুনি, ছন্দ গাথা স্বাধীনতার সাজ,
কোন ভাষাতে সাগর-নদীর ঢেউ দোলানো কথার কারুকাজ।

শহীদ স্মৃতি চির অমর, মানিনা তাই রক্ত চক্ষু কোনো বারণ,
রক্ত-ফাগুন আলপনাতে বর্ণমালায় হৃদয়ে তাদের করব ধারণ।


বাংলা ভাষায় মায়ের ভাষার বর্ণমালার চাষ,
রাজপথে লুটিয়ে আছে শহীদ ভাইয়ের লাশ,
হাতে খড়ির অ আ ক খ প্রথম লেখা আমার খাতার,
ফেব্রুয়ারী রোদন ভরা অশ্রুঝরা শোকের পাথার।

তরু-তমাল, ধানের ক্ষেতে কোন সে ভাষা
কইছে কথা দুলিয়ে মাথা,
কোন ভাষাতে ঢেঁকিতে পাট, ধান ভানে-
আর মা-বোনেরা বোনে কাঁথা।

কোন ভাষাতে মায়ের আদর ভাইয়ের স্নেহ,
কথার কূজন পরিপাটি,
কোন ভাষাতে মাঝি-মাল্লা দিল-দরিয়া,
গাইছে গীতি উজান- ভাটি।

কোন ভাষাতে স্বপ্ন বুনি, ছন্দ গাথা স্বাধীনতার সাজ,
কোন ভাষাতে সাগর-নদীর ঢেউ দোলানো কথার কারুকাজ।

শহীদ স্মৃতি চির অমর, মানিনা তাই রক্ত চক্ষু কোনো বারণ,
রক্ত-ফাগুন আলপনাতে বর্ণমালায় হৃদয়ে তাদের করব ধারণ।


ভাষা
কাজী আবুল কাসেম রতন

বাংলা আমার
মুখের ভাষা,
নতুন করে
বাঁচার আশা।

এই ভাষাতে-
খোকা খুকুর
স্বপ্ন দেখা।

এই ভাষাতে-
মাতৃভূমির
ছবি আঁকা।

এই ভাষাতে-
নতুন সুরে
নতুন করে
জীবনের
গান গাওয়া।

এই ভাষাতে-
অস্ত্র হাতে,
দেশের জন্য
যুদ্ধে যাওয়া।


বাংলা ভাষা
এইচএস সরোয়ারদী

মিষ্টি আমার বাংলা ভাষা
মিষ্টি যে টুপ-টুপ,
এই ভাষাতে কথা বলে
তৃপ্তি যে পাই খুব।

এই ভাষাতে মনের কথা
কই যে পরান ভরে,
এই ভাষাতে বনের পাখি
কত না গান করে।
এই ভাষাতে মা যে আমার
গল্প শুনায় কত,
বাংলা ভাষা সবার সেরা
আমার মায়ের মতো।


ফালগুনে
মোস্তফা কামাল সোহাগ

কোকিল ডাকে কুহু কুহু
কদম গাছের ডালে
কোলা ব্যাঙের ডাক শুনিনা
ডোবা নালা খালে।
ন্যাড়া গাছে নতুন পাতা
লাগছে অপরূপ
ঋতুর রাজা এলো ফিরে
লাগছে ভালো খুব।
ফুল বাগিচায় ফুলের মেলা
ভ্রমর করে খেলা
ফালগুনের রূপ দেখে
কাটে আমার বেলা।
শ্বশুর বাড়ি যায় বধূ
চড়ে পানসী নায়ে
ফাগুন তুই জাসনা চলে
থাকরে আমার গাঁয়ে।


ভাল লাগে
আলতাফ হোসেন রায়হান

ভাল লাগে সূর্য যখন
ভোরে আলো ছড়ায়
ভাল লাগে মা বাবা
শিশু যখন পড়ায়।
ভাল লাগে চাঁদনী রাতে
আলো যখন আসে
শাপলা শালুক ঝিলের জলে
আপন মনে ভাসে।

ভাল লাগে মাতৃ ভাষা
মা বলে ডাকা
ভাল লাগে আপন মনে
দেশের ছবি আঁকা।
ভাল লাগে ফুল ফল
ফসল রাশি রাশি
আল্লাহ তালার সৃষ্টি সব
আমরা ভালবাসি॥


মা ও মায়ের মাটি
বাতেন বাহার

বাংলা মাকে বাসতে যদি চাওরে কেহ ভালো,
প্রাণের মাঝে মাখবে যদি সত্যি নিকষ আলো
শুনতে হলে বাংলা ভাষার আসল সুর ও ধ্বনি
যাওরে চলে মাঠ পাড়া গাঁয়, যেথা রূপের খনি।

সিঁথির মতো আঁকা বাঁকা, গাঁয়ের পথে ঘাটে
পাতার বনে কৃষ্ণচূড়া, শিমুল ফুলের হাটে
রক্ত রাঙা পলাশ যেথা জাগায় ফাগুন স্মৃতি
ধান কাউনের ছন্দ দোলায় ভাবের পরিচিতি।

দূর পাহাড়ের ঝরনা যেথা ছাপিয়ে দু’টি কূল
ভালোবাসায় ফুটিয়ে তোলে- পাড়ের বুনো ফুল।
যে ফুল ঘিরে বাংলা মায়ের ভালোবাসার ঘ্রাণ
সে ফুল জুড়ে অসীম সাহস, নাচায় শত প্রাণ।

শত প্রাণের স্বপ্নে ছবি অসীম আকাশ মাঠ
ঝরণা পাড়ে সবুজ মাঠে ফুল ফসলের পাঠ।
ভাটির টানে যেথায় নদী কলকলিয়ে ছুটে
বাংলা ভাষার হাজার কলি নিত্যি যেথা ফুটে!

পাখির গানে মুখরিত হাজার নদীর বাঁক
যে গান গেয়ে স্ফীত করে মৌমাছি মৌচাক,
সে গান আমার মায়ের প্রিয় বাংলা ভাষার জাদু
যে গান গেয়ে অতীত খুঁজে গাঁয়ের শত দাদু।

বাংলা ভাষার শিকড় যেথা, কৃষ্ণকলির হাট
ভালোবাসার স্বপ্ন ছড়ায় বউ টুবানির মাঠ,
সেখানে ঠিক বাংলা ভাষার হয়রে আবাদ খাঁটি
সত্যি পথের দেয়রে দিশা-মা ও মায়ের মাটি।


কোকিল
মুহাম্মাদ আলী মজুমদার

কাকের মতো কালো পাখি
নাম হলো তার কোকিল
গান শোনাতে উদার সে খুব
নয় মোটেও বোখিল।

কোকিল ডাকে কুহু-কুহু
মিষ্টি-মধুর সুরে
সে ডাকে শুনে আনমনা হই
হারাই অচিনপুরে।

ডিম পাড়ে সে কাকের বাসায়
জানেনা তো কাক
কোকিল তোমার বুদ্ধি দেখে
আমি হতবাক।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ