ঢাকা, রোববার 26 February 2017, ১৪ ফাল্গুন ১৪২৩, ২৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ভাস্কর্যের নামে বিজাতীয় কৃষ্টির অনুপ্রবেশ বরদাশত করা হবে না -আল্লামা জুনাইদ বাবুনগরী

 

হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা : হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব আল্লামা জুনাইদ বাবুনগরী বলেছেন, মুসলমানরা স্থাপত্যকলা ও  শিল্পকলার বিরুদ্ধে নয়; কিন্তু গ্রিক দেবীর মূর্তি স্থাপন করে আমাদের জাতীয় মন ও মানসে বিজাতীয় কৃষ্টির অনুপ্রবেশ করানো হচ্ছে। গ্রিক পুরাণের কল্পিত দেবী থেমিস রোমানদের কাছে ন্যায়ের প্রতীক হতে পারে। কিন্তু সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসাবে আমরা তাদের ইতিহাস ও ঐতিহ্য থেকে ধার করে কেন হীন ঔপনিবেশিক ধ্যান-ধারণা লালন করব? আমরা ভূঁইফোঁড় কোনও জাতি নই যে, পরজীবিতার আশ্রয় নিতে হবে। ভাস্কর্যের নামে বিজাতীয় কৃষ্টির অনুপ্রবেশ বরদাশত করা হবে না। হাটহাজারী পার্বতী স্কুল ময়দানে হাটহাজারী ওলামা পরিষদ আয়োজিত ২ দিনব্যাপী ইসলামী মহাসম্মেলনে সমাপনী দিনে গত শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। 

সংগঠনের সভাপতি আল্লামা নোমান ফয়জীর সভাপতিতে সম্মেলনে জুনাইদ বাবুনগরী আরো বলেন, রোমানদের কাছে ন্যায়ের প্রতীক কল্পিত গ্রিক দেবীর সঙ্গে এই দেশের ইতিহাস-ঐতিহ্যের সাথে ন্যূনতম সম্পর্ক নেই। এরপরও কিভাবে আমাদের হাই কোর্টের সামনে এরকম অগ্রহণযোগ্য ও বিজাতীয় মূর্তিকে স্থাপন করা হল? কারা কী উদ্দেশ্যে এটি করার সুযোগ পেল কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে দেশের মানুষের কাছে জবাবদিহি করতে হবে। দেশের ৯২ ভাগ মুসলমানের চিন্তা চেতনার পরিপন্থি গ্রিক দেবীর মূর্তি স্থাপন কোনভাবে  মেনে নেওয়া যায় না। দেশের মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়ার সর্বোচ্চ স্থান সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে কথিত ন্যায়ের প্রতীক, দেবী থেমিসের মূর্তি স্থাপন স্বাধীন জাতি হিসেবে আমাদের নিজস্ব ইতিহাস, কৃষ্টি-সংস্কৃতি ও আত্মমর্যাদাবোধের সম্পূর্ণ বিপরীত ও সাংঘর্ষিক।

 সরকারের প্রতি দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, আমার মনে হয় সরকারকে বেকায়দায় ফেলার জন্য এই মূর্তি স্থাপন নাস্তিক্যবাদের ষড়যন্ত্রের একটি অংশ। অবিলম্বে এই মুর্তি অপসারণ করে সংখ্যাগরিষ্ঠ তৌহিদী জনতার ক্ষোভ প্রশমিত করতে হবে। অন্যথায় ধর্মপরায়ণ জনগণের সমর্থন হারালে এবং তারা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠলে আপনারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন না।

ওলামা পরিষদের  সাধারণ সম্পাদক মাওলানা জাফর আহাম্মদ এর সঞ্চালনায় মহা সম্মেলনে আরো বক্তব্য রাখেন, হাটহাজারী মাদরাসার সম্মানিত মুহাদ্দিস আল্লামা সামশুল আলম, মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী, মুফতী কিফায়াত উল্লাহ, দৈনিক ইনকিলাব এর সহযোগী সম্পাদক মাওলানা ওবাইদুর রহমান খান নদভী, হাটহাজারী উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা নাছির উদ্দীন মুনির আল্লামা ইদ্রিস, মাওলানা হাফেজ আহমদ দিদার, মাওলানা মুহা: শফি,  মাওলানা আনাছ মাদানী, মাওলানা শামসুদ্দোহা চৌধুরী, মাওলানা মাহমুদুল হাসান, মুফতী আব্দুল আজিজ, মুফতী সিরাজুল্লাহ, মুফতী হুমায়ুন কবির খালবী প্রমুখ।

মহা সম্মেলনে সংবর্ধিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এবছরের বিশ্ব সেরা হাফেজ, হাফেজ জাকারিয়া।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ