ঢাকা, সোমবার 27 February 2017, ১৫ ফাল্গুন ১৪২৩, ২৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

আগামী দুই বছরে ৭০ ভাগ বাড়িতে এলপিজি দাম নির্ধারণে নীতিমালা তৈরির সিদ্ধান্ত

 

স্টাফ রিপোর্টার : প্রাকৃতিক গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির পর এবার তরল গ্যাসের বাজার নিয়ন্ত্রণহীন হওয়ার আশংকা করছেন গ্রাহকরা। ইতোমধ্যে অনেক এলাকায় এই বোতল তরল গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির তৎপড়তা শুরু হয়েছে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে এর বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখার মূল্য নির্ধারণে নীতিমালা করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আগামী দুই বছরের মধ্যে ৭০ ভাগ বাসাবাড়িতে এলপিজি ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে বলেও জানিয়েছেন জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী। এদিকে বেসরকারি কোম্পানিগুলো এলপিজি’র দাম সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে ৫০ ভাগ বেশি মূল্য নিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন গ্রাহকরা। 

গতকাল রোববার বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) সমন্বিত মূল্য নির্ধারণে আগামী দুই মাসের মধ্যে সরকার নীতিমালা তৈরি করবে। এ লক্ষ্যে কাজও শুরু হয়েছে। গতকাল রাজধানীর বসুন্ধরা কনভেনশন সেন্টারে দুই দিনের চতুর্থ এশিয়া এলপিজি সম্মেলনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি সাংবাদিকদের একথা বলেন।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার সব ধরনের গ্যাসের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে সরকার। এর মধ্যে পাইপলাইনে সরবরাহ করা বাসাবাড়িতে ব্যবহৃত গ্যাসের দাম ৫০ শতাংশ বাড়ছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বর্তমানে যারা বেশি দামে বাসাবাড়িতে এলপিজি ব্যবহার করছে, তাদের ক্ষেত্রে দাম কমবে কি না- এ প্রশ্ন ইতোমধ্যেই উঠেছে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এখন আমরা কাজ করছি এলপিজির মূল্যটা কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করব? কে নিয়ন্ত্রক হবে? আমরা কীভাবে বিশ্ব মূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যা রাখব?

বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন রকম বহন খরচ আছে। বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন রকম ইউজার বিহেভিয়ার আছে। সেটার উপর নির্ভর করবে মূল্যটা কীভাবে রাখব?

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বর্তমানে সাড়ে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রির ক্ষেত্রে সরকারি প্রতিষ্ঠান বিপিসির নির্ধারিত মূল্য ৭০০ টাকা। কিন্তু বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো এর চেয়েও ৫০ শতাংশেরও বেশি দামে বিক্রি করছে।

এলপিজির দাম বেশি পড়ছে কেন- জানতে চাইলে নসরুল হামিদ বলেন, আমাদের গভীর সমুদ্রে টার্মিনাল নেই। আমরা যদি বৃহৎ জাহাজ নিয়ে আসতে পারতাম তাহলে এই এলপিজি প্রায় ৩০ শতাংশ কম দামে বিক্রি করতে পারতাম। তবে সেই ধরনের টার্মিনাল ‘নিজেদের পয়সায়’ করার জন্য ‘বেশ কিছু বিনিয়োগকারী এগিয়ে’ এসেছেন বলে জানান তিনি। তবে তা করতে দু-তিন বছর লেগে যাবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ১২ কেজি সাড়ে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার এখন ১১০০ টাকার উপর সাধারণত নেই। এটা ডিপেন্ড করছে ক্যারিং কস্ট ও অন্যান্য খরচের উপর। এলপিজির সমন্বিত দাম নির্ধারণের জন্য যে নীতিমালা সরকার করতে যাচ্ছে সেখানে কি নতুন কোনো নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান তৈরি করা হবে এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কে রেগুলেট করবে এটা সরকার এখনও ডিসাইড করে নাই। আসলে পলিসিটা আমরা বানাতে যাচ্ছি। তারপরে রেগুলেটরের প্রশ্ন আসবে।

বাংলাদেশের গত বছর প্রায় তিন লাখ টন এলপিজি বিক্রি হয়েছে; যার বেশিরভাগই করেছে বেসরকারি খাতের কোম্পানিগুলো। তবে দেশে পতিনিয়তই এলপিজির চাহিদা বাড়ছে।

পতিমন্ত্রী বলেন, আগামী দুই বছরের মধ্যে আমরা পায় ৭০ শতাংশ গৃহে নিরবচ্ছিন্ন এলপিজি দিতে পারব ইনশা আল্লাহ। প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা ইন্ডাস্ট্রিতে এলপিজি ব্যবহার বাড়াতে চাচ্ছি। পাওয়ার প্ল্যান্টেও এলপিজি ব্যবহার বাড়াতে চাচ্ছি। প্রাইস তুলনায় এটা ডিজেল ও এলএনজির থেকেও সস্তা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ