ঢাকা, মঙ্গলবার 28 February 2017, ১৬ ফাল্গুন ১৪২৩, ৩০ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

কাতারে দুই লাখ বাংলাদেশী শ্রমিক বিপাকে

স্টাফ রিপোর্টার : কাতারে কর্মরত বাংলাদেশী শ্রমিকরা বিপাকে পড়েছে। শ্রমিকদের জন্য সেদেশের সরকার নতুন আইন করায় বাংলাদেশের দুই লাখ শ্রমিক এখন অনিশ্চয়তা নিয়ে কাজ করছেন। শ্রমিকদের তাদের নিয়োগকর্তা পরিবর্তনের দীর্ঘদিনের রেওয়াজ থাকলেও নতুন আইনের কারণে কোন শ্রমিকই এখন আর এই সুযোগটি পাবেন না। ফলে কাতারের শ্রম বাজার আমাদের জন্য সংকুচিত হওয়ার আশংকা প্রকাশ করছেন অনেকেই।

এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত বছরের ডিসেম্বর থেকে নতুন শ্রম আইন কার্যকর করেছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতার। এতে অনুমতি ব্যতীত কোনো শ্রমিককে নিয়োগদাতা অন্য কারো কাজে লাগাতে পারবেন না। এর অন্যথা হলে শাস্তি হিসেবে ৫০ হাজার কাতার রিয়াল জরিমানা ও তিন বছর কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। ফলে দেশটিতে অভিবাসী শ্রমিকরা মালিকানা পরিবর্তনে জটিলতার সম্মুখীন হচ্ছেন। সবচেয়ে বেশি বিরূপ প্রভাব পড়েছে দেশটিতে থাকা প্রায় দুই লাখ বাংলাদেশী শ্রমিকের ওপর।

জানা গেছে, কাতারের নতুন শ্রম আইনে প্রবাসী শ্রমিকদের সঙ্গে নিয়োগকর্তার প্রথম চুক্তিকেই বিশেষভাবে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। ফলে মালিকানা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে দেশটিতে থাকা প্রবাসী শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। এমনকি নতুন এ আইন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্যও এখনো প্রকাশ করেনি দেশটির সরকার। ফলে করণীয় নিয়ে সংকটে পড়ছেন শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়ছেন বাংলাদেশ থেকে যাওয়া শ্রমিকরা। কারণ কাতারগামী শ্রমিকদের একটি বড় অংশ দেশে থাকতেই বিভিন্ন এজেন্সি দ্বারা প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। আর নতুন আইনে প্রথম চুক্তিপত্রকেই বেশি গুরুত্ব দেয়ায় এবং মালিকানা পরিবর্তনে কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করায় তা থেকে বেরোতে পারছেন না বাংলাদেশী শ্রমিকরা।

বাংলাদেশ দূতাবাসের তথ্যমতে, কাতার হচ্ছে এ মুহূর্তে বাংলাদেশের তৃতীয় বৃহত্তম শ্রমবাজার। নির্মাণ শ্রমিক, গৃহকর্মী, রেস্তোরাঁকর্মী, মৎতস্যজীবীসহ বিভিন্ন পেশায় দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশী শ্রমিকের সংখ্যা বর্তমানে দুই লাখেরও বেশি। জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) সূত্রমতে, ২০১৫ সালে বাংলাদেশ থেকে কাতারে শ্রমিক পাঠানো হয়েছে মোট ১ লাখ ২৩ হাজার ৯৬৫ জন ও ২০১৬ সালে ১ লাখ ২০ হাজার ৩৮২ জন। চলতি বছর এ পর্যন্ত ৯ হাজার ৩৮২ জন শ্রমিক কাতারে গেছেন।

নতুন আইনের সমস্যা প্রসঙ্গে কাতার প্রবাসী বাংলাদেশী এক ব্যবসায়ী জানান, কাতার সরকার নতুন শ্রম আইনের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ না করায় মালিক পরিবর্তন করতে গিয়ে সমস্যায় পড়ছেন বাংলাদেশের শ্রমিকরা। কাতারের শ্রম বোর্ডের পক্ষ থেকে একবার বলা হচ্ছে, মালিক পরিবর্তন করতে হলে নতুন ভিসা লাগবে। অথচ মালিকপক্ষ বলছে, কাতার সরকারের কাছ থেকে নতুন শ্রম আইনের ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য এখনো আসেনি।

সূত্রমতে, শ্রম আইনের জটিলতার কারণে কাতারে শ্রমিকদের মালিক পরিবর্তনে আগে থেকেই সমস্যা ছিল। গত ১৩ ডিসেম্বর কাতারের শ্রমমন্ত্রী ইসা আল নুয়াইমি শ্রম আইনে বড় ধরনের সংশোধনী এনে আইন কার্যকরের ঘোষণা দেন। মূলত মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং বিশ্ব ফুটবল সংস্থা ফিফার চাপের কারণে আইনটি কার্যকর করে কাতার সরকার। কিন্তু নতুন এ আইন কার্যকরের পর মালিক পরিবর্তনের সংকট আরো বেড়েছে। এক কোম্পানি থেকে আরেক কোম্পানিতে কাজ করতে যাওয়া এখনো সহজ নয়। এক্ষেত্রে নানা তথ্যবিভ্রাট রয়ে গেছে।

তবে কাতারে নতুন আইনে মালিক পরিবর্তন করার ক্ষেত্রে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন কাতারে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আসুদ আহমেদ। বিভিন্ন সভা-সেমিনারে তিনি এ বিষয়ে সহযোগিতা দেয়ার আশ্বাসের পাশাপাশি দালালের খপ্পরে না পড়তে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ