ঢাকা, বুধবার 01 March 2017, ১৭ ফাল্গুন ১৪২৩, ০১ জমাদিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

জুন থেকে গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি  হাইকোর্টে স্থগিত

 

স্টাফ রিপোর্টার : আগামী জুন থেকে দ্বিতীয় দফায় গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির সরকারি সিদ্ধান্ত ছয় মাসের জন্য স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। এরফলে আপাতত ভোক্তাদের জুন থেকে অতিরিক্ত মূল্য পরিশোধ করতে আর হচ্ছে না। একই সঙ্গে দ্বিতীয় দফায় মূল্যবৃদ্ধি কেন কর্তৃত্ব বহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিএইআরসি), চেয়ারম্যান ও সচিবসহ তিনজনকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

জনস্বার্থে করা একটি রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে গতকাল মঙ্গলবার বিচারপতি মঈনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি জে বি এম হাসান সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ স্থগিতাদেশ দেন।

আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী সাইফুল আলম। আর সরকার পক্ষে ছিলেন ডেপুটি এটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু। 

গত ২৩ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) গৃহস্থালি ও গাড়িতে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত গ্যাসের দাম বাড়িয়ে গণবিজ্ঞপ্তি দেয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আবাসিক গ্রাহকদের আগামী ১ মার্চ থেকে এক চুলার জন্য মাসে ৭৫০ টাকা এবং দুই চুলার জন্য ৮০০ টাকা দিতে হবে। আর দ্বিতীয় ধাপে ১ জুন থেকে এক চুলার জন্য মাসিক বিল ৯০০ টাকা এবং দুই চুলার জন্য ৯৫০ টাকা হবে।

পাশাপাশি যানবাহনে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাসের (সিএনজি) দাম ১ মার্চ থেকে প্রতি ঘনমিটারে ৩৮ টাকা এবং ১ জুন থেকে ৪০ টাকা হবে। বিদ্যুৎ উৎপাদন, সার, শিল্প ও বাণিজ্যক খাতেও গ্যাসের দাম দুই ধাপে ৫ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর  ঘোষণা দেয়া হয় ওই গণবিজ্ঞপ্তিতে।

এই গণবিজ্ঞপ্তিতে আইনের বিচ্যুতি হয়েছে অভিযোগ করে মূল্য বৃদ্ধির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গত সোমবার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিট করেন ভোক্তা অধিকার বিষয়ক সংগঠন কনজ্যুমার এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) পক্ষে স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন।

২০০৩ সালের বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন আইনের ৩৪ ধারায় বলা হয়েছে, কমিশন কর্তৃক নির্ধারিত ট্যারিফ কোনো অর্থবছরে একবারের বেশি পরিবর্তন করা যাবে না, যদি না জ্বালানি মূল্যের পরিবর্তনসহ অন্য কোনো পরিবর্তন ঘটে।

ক্যাবের আইনজীবী সাইফুল আলম আদেশের পর সাংবাদিকদের বলেন, সরকার ২৩ তারিখে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে ১ মার্চ ও ১ জুন থেকে দুই দফায় দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। বিইআরসি আইন-২০০৪ অনুযায়ী, গণশুনানির মাধ্যমে বছরে সর্বোচ্চ একবার দাম বাড়ানোর বিধান রয়েছে। কিন্তু প্রথমবার বৃদ্ধির মাত্র ৯০ দিন পর আবার গ্যাসের দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত হয়েছে, যা বিইআরসি আইনের পরিপন্থী। আদালত রিটে দ্বিতীয় দফায় গ্যাসের দাম বৃদ্ধির ওপর ছয় মাসের স্থগিতাদেশ দিয়ে রুল জারি করেছেন।

ওই আইনের ৬ ধারার বলা হয়েছে, লাইসেন্সধারী ট্যারিফ পরিবর্তনের প্রস্তাব বিস্তারিত বিবরণসহ কমিশনে উপস্থাপন করতে পারবে এবং কমিশন, আগ্রহী পক্ষগণকে শুনানি দেয়ার পর ট্যারিফ পরিবর্তনের প্রস্তাবসহ সব তথ্যপ্রাপ্তির ৯০ দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত সম্বলিত বিজ্ঞপ্তি জারি করবে।

সাইফুল আলম বলেন, রিটে এ ধারাটিকেও চ্যালেঞ্জ করা হয়েছিল। কারণ বিআরসি গণশুনানি করেছে গত বছরের ১৮ আগস্ট। আর দাম বাড়ানোর গণবিজ্ঞপ্তি দিয়েছে ২৩ ফেব্রুয়ারি। এটা আইনের বিচ্যুতি। 

গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে ভোক্তা অধিকারকর্মীরা ছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও ব্যবসায়ী সংগঠন গ্যাসের দাম বৃদ্ধির এই সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানিয়েছে। বাম দলগুলো গতকাল মঙ্গলবার ঢাকায় আধাবেলা হরতালও পালন করেছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ