ঢাকা, বুধবার 01 March 2017, ১৭ ফাল্গুন ১৪২৩, ০১ জমাদিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

শিক্ষা সচিবসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল

 

স্টাফ রিপোর্টার : শিক্ষা সচিব সোহরাব হোসেনসহ সাতজনের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। তাদের বিরুদ্ধে কেন আদালত অবমাননার অভিযোগে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, তা জানতে চেয়ে এ রুল জারি করা হয়েছে। শিক্ষা সচিব ছাড়া অন্য যে পাঁচজনের বিরুদ্ধে রুল জারি করা হয়েছে তারা হলেন-শিক্ষামন্ত্রীর একান্ত সচিব নাজমুল হক খান (ভিকারুন নিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজের এডহক কমিটির সভাপতি), ভিকারুন নিসা নূন স্কুল এ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ সুফিয়া খাতুন, ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান, ভিকারুন নিসা নূন স্কুল এ্যান্ড কলেজের এ্যাডহক কমিটির সদস্য এনামুল হক আবুল এবং অপারেশ চন্দ্র সাহা। 

গতকাল মঙ্গলবার বিচারপতি আশফাকুল ইসলাম এবং বিচারপতি আশিষ রঞ্জন দাস সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন। 

আদালতের রায় অনুযায়ী বেসরকারি স্কুল এন্ড কলেজে নিয়মিত কমিটি গঠনের জন্য আইন তৈরি না করা এবং ভিকারুন নিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজসহ সারাদেশে স্কুল-কলেজে এ্যাডহক কমিটি গঠন করে ৬ মাসের মধ্যে নির্বাচন করতে ব্যর্থতার জন্য আদালত তাদের বিরুদ্ধে এই রুল জারি করেন।

আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন রিটকারী আইনজীবী ড. ইউনুছ আলী আকন্দ। সরকার পক্ষে ছিলেন ডেপুটি এটর্নি জেনারেল আল আমিন সরকার। 

ইউনুছ আলী আকন্দ বলেন, সারাদেশে স্কুল-কলেজে নিয়মিত কমিটি গঠনের জন্য ৬০ দিনের মধ্যে আইন সংশোধন করতে রায় দিয়েছিল হাইকোর্ট। সেই সময় অতিক্রম করলেও এখনো সেই আইন তৈরি করা হয়নি। এছাড়া হাইকোর্ট রায় দিয়েছিল, যেখানে যেখানে বিশেষ কমিটি আছে সেখানে ৩০ দিনের মধ্যে এ্যাডহক কমিটি করে নির্বাচন দিতে। কিন্তু শিক্ষা বোর্ড ওই রায় অনুযায়ী এ্যাডহক কমিটি করলেও ভিকারুন নিসা নূন স্কুল এ্যান্ড কলেজ, মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল এ্যান্ড কলেজ, উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল এ্যান্ড কলেজের নির্বাচন এখনো হয়নি। ইতোমধ্যে ওই সমস্ত স্কুলের এ্যাডহক কমিটির মেয়াদ ২৮ ফেব্রুয়ারি শেষ হয়ে গেছে। এজন্য আদালত অবমাননার এই আবেদনটি দায়ের করি।

তিনি বলেন, শিক্ষামন্ত্রীর ব্যক্তিগত সচিবকে (পিএস) ভিকারুন নিসা নূন স্কুল এ্যান্ড কলেজে এ্যাডহক কমিটির চেয়ারম্যান করা হয়েছে। ওই কমিটি ছাত্রীদের কাছ থেকে অন্যায়ভাবে ৩০০ টাকা প্রতি মাসে বেতন বৃদ্ধি করেছে এবং শিক্ষকদের ৩০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধি করেছে। যা এ্যাডহক কমিটির কাজ নয়। এ্যাডহক কমিটির কাজ হলো নির্বাচন করা। এসব কাজ করে তারা হাইকোর্টের রায় অবমাননা করেছে। 

আইনজীবী জানান, আইন তৈরি না করা এবং নির্বাচন করতে ব্যর্থ হওয়ায় এদেরকে গত ১০ জানুয়ারি লিগ্যাল নোটিশ দেয়া হয়। ওই নোটিশের জবাব না পেয়ে গত ৩০ জানুয়ারি আদালত অবমাননার আবেদন দায়ের করি। দুই দিন শুনানির পর গতকাল মঙ্গলবার আদঅলত এই আদেশ দেন। 

২০১৬ সালের ৭ নবেম্বর ভিকারুন নিসা নূন স্কুল এ্যান্ড কলেজের জন্য গঠিত বিশেষ কমিটি অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেয়া রায় বহাল রাখে আপিল বিভাগ। এছাড়া দেশের বেসরকারি স্কুল ও কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি পদে জাতীয় সংসদ সদস্যগণের (এমপি) না থাকার বিষয়ে দেয়া রায়ও বহাল রাখা হয়।

এর আগে ওই বছরের ১ জুন বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গভর্নিং বডিতে এমপিদের নিয়োগ সংক্রান্ত প্রবিধানমালার ৫(২) ধারা এবং বিশেষ কমিটি গঠন সংক্রান্ত ৫০ ধারা অবৈধ ঘোষণা করে রায় ঘোষণা করে হাইকোর্ট। একইসঙ্গে বেসরকারি বিমান পরিবহান ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন এমপির নেতৃত্বাধীন ভিকারুন নিসা নূন স্কুল এ্যান্ড কলেজের বিশেষ কমিটি অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করে। আদালত ভিকারুন নিসা নূন স্কুলের বিশেষ কমিটি বাতিল করে অন্তর্বর্তীকালীন সময়ের জন্য একটি এ্যাডহক কমিটি গঠনের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেয়। ওই এ্যাডহক কমিটিকে ৬ মাসের মধ্যে উক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নির্বাচন সম্পন্ন করতেও বলা হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ