ঢাকা, মঙ্গলবার 15 October 2019, ৩০ আশ্বিন ১৪২৬, ১৫ সফর ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

পিছু হঠছেন ট্রাম্প, ‘নিষিদ্ধ’ তালিকা থেকে বাদ যাচ্ছে ইরাকের নাম

অনলাইন ডেস্ক: ঘরে-বাইরে চাপের মুখে অবশেষে খানিকটা পিছু হঠলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরাকের নাগরিকদের আমেরিকায় ঢোকার ক্ষেত্রে বাধা সরাতে পারেন তিনি। বুধবার এ নিয়ে একটি নয়া প্রশাসনিক আদেশ জারি করতে পারেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

সংবাদ সংস্থা সূত্রে খবর, চার শীর্ষ স্থানীয় প্রশাসনিক কর্তা জানিয়েছেন পেন্টাগন ও স্টেট ডিপার্টমেন্টের তরফে এ নিয়ে ক্রমাগত চাপ বাড়ছিল ট্রাম্পের উপর। মূলত আইএস-এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ইরাকের ভূমিকার কথা মাথায় রেখেই সে দেশের নাগরিকদের উপর থেকে আমেরিকায় ঢোকার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা সরানোর অনুরোধ করা হয় হোয়াইট হাউসকে।

তবে নয়া অভিবাসন নীতিতে আপাতত ধীরে চলার নীতিই নিচ্ছে ট্রাম্প সরকার। এ দিন মার্কিন কংগ্রেসে তাঁর প্রথম ভাষণে ট্রাম্প জানিয়েছেন, নয়া নীতিতে আমেরিকায় ঢুকতে ইচ্ছুক অভিবাসীদের মেধা ও দক্ষতার উপরে বেশি জোর দেওয়া হবে। এতে আমেরিকায় অদক্ষ কর্মীর সংখ্যা কমবে। ট্রাম্পের মতে, অভিবাসন নীতি নিয়ে রিপালিকান ও ডেমোক্র্যাট— দু’পক্ষ ‘সমঝোতা’য় এলে তবেই এই সংস্কার সম্ভব হবে।

 

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে এ ভাবেই বিক্ষোভ মুখর হয়েছিল আমেরিকার একাংশ। —ফাইল চিত্র।

জঙ্গি কার্যকলাপের হাত থেকে বাঁচতে ও জাতীয় নিরাপত্তার যুক্তি দেখিয়ে একবগ্গা ভাবে মুসলিম অভিবাসী ও শরণার্থীদের উপর যে নিষেধাজ্ঞা জারি করা সহজ হবে না তা-ও বেশ বুঝতে পারছিলেন তিনি। তাই এ দিন তাঁর সুর বেশ নরম করেছেন ট্রাম্প। জানিয়েছেন, মার্কিনিদের স্বার্থরক্ষা করেই অভিবাসী ও শরণার্থীদের জন্য দরজা খুলতে চায় আমেরিকা। তিনি বলেন, “অভিবাসন নীতিতে সত্যিকারের সংস্কার সম্ভব বলেই আমার বিশ্বাস। তবে তার জন্য মার্কিনিদের কর্মসংস্থান ও মজুরি বাড়ানোর লক্ষ্যমাত্রা মাথায় রাখতে হবে। সেই সঙ্গে দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা মজবুত করতে হবে। এবং আইনের শাসনের উপর আস্থা ফেরাতে হবে।”

প্রেসিডেন্ট পদে বসার পরই এক প্রশাসনিক নির্দেশ জারি করে ইরাক, ইরান, ইয়েমেন, লিবিয়া,  সিরিয়া, সুদান ও সোমালিয়ার মতো সাতটি মুসলিম অধ্যুষিত দেশের নাগরিক-সহ শরণার্থীদের উপর মার্কিন মুলুকে ঢোকার দরজা বন্ধ করে দেন ট্রাম্প। আমেরিকার মাটিতে সন্ত্রাসমূলক কার্যকলাপ ঠেকাতেই নিষেধাজ্ঞার যুক্তি দেখিয়েছিলেন তিনি। তবে সে নির্দেশের পরই বিশ্ব জুড়ে প্রবল সমালোচনা-বিক্ষোভে মুখে পড়ে ট্রাম্প প্রশাসন। প্রতিবাদ চলতে থাকে মার্কিন মুলুকের অন্দরেও। শেষমেশ সিয়াটল ফেডেরাল কোর্টে সেই নিষেধাজ্ঞায় স্থগিতাদেশের ফলে ফের খুলে যায় শরণার্থী ও মুসলিম অভিবাসীদের জন্য আমেরিকার দরজা খুলে যায়। পাশাপাশি, খারিজ হয়ে যায় ট্রাম্পের যুক্তিও।

তবে, নয়া অভিবাসন নীতিতে কতটা কার্যকরী করতে পারবেন ট্রাম্প তা নিয়ে এখনও সংশয় রয়ে গিয়েছে।-আনন্দবাজার পত্রিকা

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ