ঢাকা, বৃহস্পতিবার 02 March 2017, ১৮ ফাল্গুন ১৪২৩, ০২ জমাদিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

আটকেপড়া তুর্কী নববধূকে ফিরে পেতে ফিলিস্তিনীদের অপেক্ষা

১ মার্চ, আনাদোলু নিউজ : ইযাসির দেইজ (২৮) ও তার তুর্কি স্ত্রী ওজে ডেরিলগেনের (২৬) বিবাহের একটি বড প্রতিকৃতি এখনো তাদের লিভিং রুমে রাখা আছে।  ইযাসির দেইজের বাড়ি ইসরাইল-অধিকৃত পশ্চিম তীরের হেব্রোন শহরে। সেখানে তাদের পরিবারের দ্বিতল বিশিষ্ট একটি পাকা বাড়ি রয়েছে। কিন্তু সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে ডেরিলগেনকে নিয়ে। ইসরাইলী কর্তৃপক্ষ তাকে ভিসা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।  তার জন্য ভিসা প্রাপ্তির দীর্ঘ লডাইয়ে ব্যর্থ হওয়ার পরএই দম্পতি প্রতিবেশি জর্দানে চলে যেতে বাধ্য হয়েছে।

তারা এখন প্রায প্রতিদিনই ভিডিও কলের মাধ্যমে দেইজের বাবা নাদির ও মা লিনার সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন। কিন্তু ভিডিও কলটি শেষ হয়ে যাওয়া মাত্রই তাদের মুখের সকল হাসি-আনন্দ মুহূর্তেই অশ্রুজলে পরিণত হয়।

লিনা ডেইজ আনাদুলো সংস্থাকে বলেন, ‘আমি আমার নিজের মেয়ের মতোই ডেরিলগেনকে ভালোবাসি। সে যখন এখানে ছিল তখন সব সমযই আমাদের সঙ্গে সময় কাটাত।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের মধ্যে বন্ধনটা সত্যিই অনেক দৃঢ় এবং এখন আমরা তাকে অনেক মিস করি। সে চলে যাওয়ার পর অন্তত এক মাস আমি আমার চোখের পানি ধরে রাখতে পারিনি।’ ২০১৩ সালে তুরস্কের কাযসেরি নগরীর ‘আরসাইয়েজ’ বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নের সময় ইয়াসির দেইজ ও ওজে ডেরিলগেনের সাক্ষাৎ হয়। ওই সময় ইয়াসির তুর্কি বিষয় নিয়ে এবং ডেরিলজেন অর্থনীতি বিষয়ে অধ্যযনরত ছিলেন।  ইয়াসিরের পরিবার জানায়, ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয় এবং বিবাহের পরপরই তারা হেব্রোনে চলে আসেন। ডেরিলজেনের জন্য ইসরাইলি ভিসার জন্য তারা ৩০,০০০ ইসরাইলি শেকল পরিশোধ করেন। কিন্তু ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ তার ভিসা নবায়ন করতে এবং তাকে আবাসিক পারমিট দিতে অস্বীকৃতি জানায়।

এরমধ্যেই ডেরিলজেন তার অসুস্থ মা দেখার জন্য ১৮ মাস পরে তুরস্কে ফিরে আসেন। কিন্তু ভিসা নবায়ন করতে অস্বীকৃতির কারণে পরে তিনি আর হিব্রোনে ফিরে আসতে পারেননি। লিনা বলেন, ‘আমাদেরকে সাহায্য করার জন্য আমি তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তৈয় এরদোগানকে আহ্বান জানিয়েছি কারণ আমার ছেলে এখন কোনো দেশেরই নাগরিক নয়, ডেরিলজেন একজন তুর্কি নাগরিক।’ তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ‘তাকে ফিরিয়ে আনার জন্য (রামাল্লায় ভিত্তিক) ফিলিস্তিনী কর্তৃপক্ষের কোনো ক্ষমতা নেই। তাই আমাদের সাহায্য করার জন্য আমি এরদোগানের কাছে সহায়তা চাইছি।’ 

ডেইজের বাবা নাদির জানান, এর মাধ্যমে তার ছেলেকে পরিবারে মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। ডেরিলজেনকে ফিরিয়ে আনার লড়াইয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে সম্প্রতি জেরুসালেমের একজন আইনজীবী নিয়োগ করা হয়েছে বলে তিনি জানান। তুরস্কে ইসরাইলের কূটনৈতিক মিশন ডেরিলজেনকে প্রথমে ভিসা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ইয়াসির তার সঙ্গে বসবাসের উদ্দেশ্যে তুরস্কে চলে আসেন। কিন্তু সেখানে কোন কাজ না পাওয়ায় গত জানুযারিতে তাদের দুজনেই জর্ডানে স্থানান্তরিত হতে বাধ্য হন। জর্ডানে চলে যাওয়ার আগে ইযাসির তার ভাইদের সঙ্গে হিব্রোনে তাদের পরিবারের তিনটি মোবাইল ফোনের দোকানে কাজ করতেন। তারা খুব শিগগিরই দেশে ফিরে আসবে বলে তাদের বাবা-মায়ের প্রত্যাশা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ