ঢাকা, বৃহস্পতিবার 02 March 2017, ১৮ ফাল্গুন ১৪২৩, ০২ জমাদিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

হৃৎপিণ্ডের সুরক্ষায় ব্যায়াম

ব্যায়াম কোলেস্টেরল প্রতিরোধ করে আপনার হৃৎপিণ্ডকে ক্ষতি হওয়া থেকে রক্ষা করে। নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, মাঝারি ধরনের ব্যায়াম কোলেস্টেরল প্রতিরোধে সাহায্য করে। উল্লেখ্য, অসংখ্য মানুষের উচ্চমাত্রার কোলেস্টেরল রয়েছে। যেসব মানুষের কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশি থাকে তাদের হৃদরোগ বা হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও অনেক বেশি থাকে। লাইপোপ্রোটিন নামক উপাদান সমস্ত শরীরে কোলেস্টেরল বহন করে। ছোট, ঘন লাইপ্রোপ্রোটিনগুলো ধমনীতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে, বড় কোষগুলো সঠিক সহজে রক্তের মধ্য দিয়ে চলাচল করে। গবেষকেরা দেখেছেন যে, মাঝারি ধরনের ব্যায়াম শরীরে কোলেস্টেরল বহনকারী লাইপোপ্রোটিনের আকৃতি ও সংখ্যার পরিবর্তন ঘটায়।

সামান্য পরিমাণ কোলেস্টেরল- যা একটি চর্বির মতো বস্তু- তা শরীরের স্বাভাবিক কাজে সাহায্য করে। অতিরিক্ত কোলেস্টেরল ধমনীগুলোতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে এবং এর ফলে শরীরে রক্তসঞ্চালনে হৃৎপিণ্ডকে অতিরিক্ত কাজ করতে হয়। এ ক্ষেত্রে স্বল্প পরিমাণের ব্যায়াম দারুণ উপকারি। গবেষণা মতে, তীব্র ব্যায়াম নয়- মাঝারি ব্যায়াম লাইপ্রোপ্রোটিনের গঠনকে পরিবর্তন করতে সাহায্য করে।

গবেষণা কাজে অতিরিক্ত ওজনের একশর বেশি পুরুষ ও নারীকে বেছে নেয়া হয়। এদের তিনটি গ্রুপে ভাগ করা হয়। প্রথম গ্রুপ সপ্তাহে ২০ মাইল জগিং করেন। দ্বিতীয় গ্রুপটা সপ্তাহে ১২ মাইল জগিং করেন, এবং তৃতীয় গ্রুপটা সপ্তাহে ১২ মাইল হাঁটেন। গবেষকেরা দেখেন যে, যারা সপ্তাহে ২০ মাইল জগিং করেছেন তাদের লাইপ্রোপ্রোটিনের সবচেয়ে বেশি উন্নতি ঘটেছে। 

যারা সপ্তাহে ১২ মাইল জগিং করেছেন বা হেঁটেছেন তাদেরও উন্নতি ঘটেছে, তবে পরিমাণের চেয়ে ব্যায়ামের তীব্রতার বিষয়টি এখানে জড়িত। ব্যায়ামের পরিমাণটা ব্যায়ামের তীব্রতার চেয়ে কম হতে হবে। অর্থাৎ খুব দ্রুত ব্যায়াম না করে মাঝারি ধরনের ব্যায়ামে উপকার পাওয়া যাবে বেশি। এমনকি লোকের ওজন এবং সার্বিক কোলেস্টেরল মাত্রা একই থাকলেও লাইপোপ্রোটিনের গটনে পরিবর্তন হয়।

-ডা. ওয়ানাইজা, সহযোগী অধ্যাপিকা, ফার্মাকোলজি অ্যান্ড থেরাপিউটিক্স, ঢাকা ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ।  

চেম্বার: দি বেস্ট কেয়ার হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ২০৯/২, এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা। 

ফোন: ০১৬৮২-২০১৪২৭

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ