ঢাকা, বৃহস্পতিবার 02 March 2017, ১৮ ফাল্গুন ১৪২৩, ০২ জমাদিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে  ধর্মঘট কেন বেআইনি নয়

 

স্টাফ রিপোর্টার: আদালতের রায়ের প্রতিবাদে করা পরিবহন ধর্মঘট আহ্বানকারীদের বিরুদ্ধে কেন আইনগত ব্যবস্থার নির্দেশ দেয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট। এছাড়া আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সারাদেশে যান চলাচল স্বাভাবিক করতে সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে এ বিষয়ে বিবাদীদের প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দিয়েছে।

একটি রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে গতকাল বুধবার বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন ও বিচারপতি মো. আতাউর রহমান খান সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। 

একইসঙ্গে আদালতের রায় ও আদেশের বিরুদ্ধে হারতাল, অবরোধ, ধর্মঘটের মতো কর্মসূচি কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত। আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে সড়ক, পরিবহন ও সেতু বিভাগের সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, পুলিশের আইজি, র‌্যাবের মহাপরিচালক, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশনের (বিআরটিসি) চেয়ারম্যান, ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) চেয়ারম্যান, আট বিভাগের ডিআইজি, সড়ক পরিবহন কর্মচারী ফেডারেশন ও খুলনা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে এ রুলের জবাব দিতে বলেছেন আদালত।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ এবং সরকার পক্ষে ছিলেন ডেপুটি এটর্নি জেনারেল অমিত তালুকদার। 

অবশ্য আদালতের এই আদেশের পরপরই নৌমন্ত্রী শাহজাহান খান সরকারের আশ্বাসের কথা জানিয়ে পরিবহন মালিক শ্রমিকদের যানবাহন চলাচল শুরুর আহ্বান জানালে ঢাকার বিভিন্ন বাস টার্মিনাল থেকে দূরপাল্লার বাস ছাড়া শুরু হয়।

আদেশের পর আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, বিচারিক আদালতে দুই চালকের সাজার পর ধর্মঘট ডেকে জনজীবন বিপর্যস্ত করা হয়েছে, জনগণের স্বাধীন চলাচলের পথ রুদ্ধ করা হয়েছে। এসব বিবেচনা করে রিটটি দায়ের করা হয়েছিল।

শুনানিতে বলেছি, সংবিধানের অধীনে গঠিত আদালত যদি কোনো রায় দেয় তাতে কেউ সংক্ষুব্ধ হলে আপিল করতে পারে। কিন্তু তারা আপিল না করে রায়ের বিরুদ্ধে ধর্মঘট ডেকে সাধারণ মানুষের চলাচলের পথকে রুদ্ধ করে দিয়েছে। সমস্ত মানুষকে হয়রানি করছে। শুনানিতে ডেপুটি এটর্নি জেনারেল আদালতকে জানান, ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়েছে। ফলে আদালত রিট আবেদনের আরো তিনটি প্রার্থিত বিষয়ে আদেশ দেননি।

চালকের যাবজ্জীবন সাজার রায়ের প্রতিবাদে পরিবহন শ্রমিকদের ডাকা অঘোষিত ধর্মঘট ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রত্যাহারের নির্দেশনা চেয়ে গতকাল সকালে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস এন্ড পিস ফর বাংলাদেশের পক্ষে আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। রিট আবেদনে ধর্মঘট প্রত্যাহার করা না হলে পরিবহন মালিকদের লাইসেন্স বাতিলের নির্দেশনা চাওয়া হয়। এছাড়া অঘোষিত এই পরিবহন ধর্মঘট কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, এ মর্মে রুল চাওয়া হয়।

২০১১ সালের ১৩ আগস্ট ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে মানিকগঞ্জের জোকা এলাকায় বিপরীতগামী যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে চলচ্চিত্রকার তারেক মাসুদ ও এটিএন নিউজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মিশুক মুনীরসহ পাঁচজন নিহত হন। এ দুর্ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করে। গত ২২ ফেব্রুয়ারি এ মামলায় চুয়াডাঙ্গা ডিলাক্স পরিবহনের বাসচালক জামির হোসেনকে যাবজ্জীবন কারাদ- দিয়েছেন মানিকগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ আদালত। বাসচালক জামির হোসেনের যাবজ্জীবন সাজার প্রতিবাদে গত রোববার খুলনা বিভাগের দশ জেলায় ধর্মঘট শুরু করে চালক-শ্রমিকরা। গত সোমবার প্রশাসনের আশ্বাসে কর্মসূচি প্রত্যাহারের ঘোষণা এলেও সাভারে ট্রাকচাপা দিয়ে এক নারীকে হত্যার দায়ে ওইদিন ট্রাকচালক মীর হোসেনের মৃত্যুদ-ের রায় দেয়া হলে পরদিন থেকে সারাদেশে বাস চলাচল বন্ধ করে দেয় শ্রমিকরা। এই পরিবহন ধর্মঘটে সারাদেশে অচল হয়ে পড়ে। মানুষ পড়ে চরম ভোগান্তিতে। পরে বিষয়টি আদালতের নজরে আনা হয়। তবে ইতোমধ্যে ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা এসেছে শ্রমিক সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ