ঢাকা, শুক্রবার 03 March 2017, ১৯ ফাল্গুন ১৪২৩, ০৩ জমাদিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

শাহীন সৈকত-এর গুচ্ছশবিতা

বনফুল কাব্য ১

 

পাহাড়ের পাদদেশে বুনো এক গাছে ফোটা তুমি বনফুল 

তোমার সৌরভে মাতোয়ারা যত প্রজাপতি আর কবিকুল 

মধু আহরণে আসা ছোট পাখি আর প্রজাপতির ঝাঁক 

কবিকুল দেখেছে শুধু তোমার শরীরে সুন্দরের বাঁক

যত ব্যথা যত দুঃখ যাতনা একাকী তার বেড়ে ওঠা

মমতার ছোঁয়া লাগেনি যার জীবনে বন্ধুর পথে ছোটা

এ পথে যারা এসেছিল আগে চলে গেছে বহুদূর

পথের যারা নতুন পথিক বাজায় করুণ সুর

সমতা হীনতায় বেড়ে ওঠা হৃদে ক্ষতের উপসম নাই

কষ্ট নিয়েই এ পথ থেকে সবাই ফিরে যায় তাই 

বৃষ্টি¯œাত বনফুল আজও পায়নি জলের ধারা

সিক্ত হতে এসেছিল যারা কষ্টে ফিরেছে তারা

তুমি বনফুল সৌরভ ছড়াও কামনা জাগাও ঢের

সেই সৌরভে পথিক বাড়–ক আবার এই পথে ফের।

 

 

বনফুল কাব্য ২

 

সারল্যে ভরা যে জীবন তোমার পাওয়া

লবণের মতো যার জমে যাওয়া ফের নুনের মতই গলে হাওয়া

মানুষ যেন নয় অতি মানবীয় এক মন

জারুল যেভাবে গাছে ফুটে খই খই করে

হাজারো মন যেথা হুমড়ি খেয়ে পড়ে

নয়নের জল বাতাসে মিশে করে শন শন

পুবালী হাওয়া তারে দোলা দিয়ে যায়

সব বনফুল হুমড়ি খেয়ে পড়ে তার পায়

পরাহিত হবে না যে এই করেছে পণ।

 

বনফুল কাব্য ৩

 

সাধনার অতীত যে জীবন গড়েছ তুমি

লজ্জাশীলতার পুঁজিও আজ আকাশ ছোঁয়া

মানুষ ভাবেনি এমন করে গড়ে নেবে জীবন

জারুল ফুলের মতই তোমার ফুটে ওঠা

হাজারো পুরুষ জ্বলেপুড়ে ছারখার কবিতায়

নয়নের জল ঝরে নাকো কোন কালে

পুরুষ বিদ্বেষী তুমি নও, তবুও নেই মায়া 

সহজ সরল এক জীবনের প্রতিচ্ছবি তোমর ভিতর

পরক্ষণেই ডেকে ওঠে ভিতরের পাখি, আর

ভালবাসি ভালবাসি বলে শুরু করে চিৎকার

তোমাকে কি ভালবাসে এ কালের কোন পুরুষ?

কবি শাহীন সৈকতের জন্ম ৪ মার্চ ১৯৭২। ছাত্র জীবন থেকেই লিখছেন, আবৃত্তি চর্চায়ও নিজেকে যুক্ত করেছেন। ৭ম শ্রেণিতে অধ্যয়নকালীন সময়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশন আয়োজিত জাতীয় শিশু-কিশোর প্রতিযোগিতায় আবৃত্তি বিভাগে জাতীয় পর্যায়ে ২য় স্থান অর্জন করেন। তার পোশাকি নাম ফখরুল ইসলাম, ডাক নাম শাহীন। বর্তমানে কবি রাজবাড়ী জেলা শহরে বসবাস করছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ