ঢাকা, শনিবার 04 March 2017, ২০ ফাল্গুন ১৪২৩, ০৪ জমাদিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

রাজশাহী অঞ্চলে আমের গুটির বিপুল সমারোহ

রাজশাহী : আগাম জাতের আমগাছে মুকুল থেকে গুটির সমারোহ দেখা দিয়েছে। রাজশাহীর দৃশ্য -সংগ্রাম

রাজশাহী অফিস: রাজশাহী অঞ্চলে আগাম জাতের আমগাছে মুকুল ঝরে গুটির সমারোহ দেখা দিয়েছে। আমের রাজধানী নামে খ্যাত রাজশাহীর গাছে গাছে পাতার ফাঁকে উঁকি দিচ্ছে গুটি (কড়ালি)। মৌ মৌ গন্ধ শেষে আমের গুটিতে চাষিদের মুখে হাসি ফুটতে শুরু করেছে।
ফল ভরন্ত গাছের পরিচর্যায় এখন ব্যস্ত রাজশাহী অঞ্চলের চাষিরা। আম চাষিরা ধারণা করছেন, শেষ অবধি এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে যে পরিমান মুকুল ও গুটি দেখা দিয়েছে তাতে আমের বাম্পার ফলন হওয়ার আশা করা যায়। সেদিকটা খেয়াল রেখে রাতদিন বাগান পরিচর্যা করে যাচ্ছে এ অঞ্চলের আম চাষি ও মালিকরা। রাস্তার দুই ধারে সারি সারি আম বাগান আর সুস্বাদু ও বাহারি জাতের আমের কথা উঠলেই চলে আসে রাজশাহীর নাম। কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আমের রাজধানী খ্যাত রাজশাহীতে এবার প্রায় সাড়ে ৩ হাজার আমের বাগান রয়েছে। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার আগেই পর্যাপ্ত পরিমাণ আমের মুকুল গাছে এসেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এই অঞ্চলে আমের আবাদ হয়ে থাকে প্রায় ১৫ হাজার হেক্টর জমিতে। এই জমিতে গাছ রয়েছে ১৫ লাখের বেশি। গত কয়েকবছরে রাজশাহীতে গাছ বেড়েছে প্রায় সাড়ে ৭ লাখ। আর আমের উৎপাদন বেড়েছে এক লাখ টনের বেশি। রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অফিস জানায়, রাজশাহীতে প্রতিবছরই বাড়ছে আমের আবাদ। গত ছয় বছরের ব্যবধানে দ্বিগুণেরও বেশি জমি এসেছে আমবাগানের আওতায়। ফলন ও লাভ বেশি হওয়ায় অনেকেই এখন আম আবাদের দিকে ঝুঁকছেন। এর মধ্যে শুধু বাঘায় ৮ হাজার ৩৬৮ হেক্টর আম বাগান রয়েছে। এসব আমের বাগানে প্রায় দেড় শতাধিক জাতের আমের গাছ রয়েছে। সব জাতের আম মিলিয়ে এবার শুধু বাঘায় দেড় লাখ মেট্রিক টন আম উৎপাদিত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কৃষি বিভাগ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী তোতাপরি, বৌভুলানী, রানীপছন্দ, জামাইখুসি, গোপাললাড়–, ফজলি, ল্যাংড়া, হিমসাগর, গোপালভোগ, বৃন্দাবন, লক্ষণা, বোম্বাই খিরসা, দাউদভোগ, গোপালভোগ, আ¤্রপালি, আশ্বিনা, ক্ষুদি খিরসা, বৃন্দাবনী, লক্ষণভোগ, কালীভোগসহ প্রায় দেড়শ’ জাতের আম রয়েছে এ এলাকায়। প্রতিবছর আমের মওসুমে দুই লক্ষাধিক মানুষের কর্মসংস্থান হয়। এবার প্রায় ৮০ শতাংশ গাছে মুকুল ফুটেছে। তবে আম ব্যবসায়ী ও বাগান মালিকরা মনে করেন, এখন পর্যন্ত মুকুল ফুটেছে মাত্র ৬০ থেকে ৭৫ শতাংশ। এর মধ্যে আগাম জাতের আমগাছে মুকুলের পাশাপাশি পাতার ফাঁকে উঁকি দিচ্ছে আমের গুটি। মাঘের শুরুতে আমগাছের ডালে ডালে মুকুল ফুটতে শুরু করে। এ সময় বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীরা মুকুলের পরিচর্যা শুরু করেন। আঞ্চলিক প্রবাদ রয়েছে, ‘আমের আনা মাছের পাই, টিকলে পরে কে কত খাই।’ তাদের মতে, গাছে গাছে যে পরিমাণ মুকুল এসেছে, তাতে এক তৃতীয়াংশ টিকে গেলেও আমের বাম্পার ফলন হবে। বাগান মালিক সূত্রে জানা গেছে, গাছে মুকুল আসার পর থেকে আম পাড়া পর্যন্ত ১২ থেকে ১৫ বার কীটনাশক প্রয়োগ করা হয়। তাতে হেক্টরে ৩৮ থেকে ৪৫ হাজার টাকার বালাইনাশক প্রয়োগ হয়। সে হিসেবে বাঘায় ৮ হাজার ৩৬৮ হেক্টর জমির আমগাছে বছরে প্রায় ৩ লাখ ৩৪ হাজার ৭২০ টাকার কীটনাশক বা বালাইনাশক ব্যবহার হয়ে থাকে। কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে আম চাষ করলে এর উৎপাদন যেমন বাড়বে, তেমনি সঠিকভাবে সংরক্ষণ, পরিবহন, রফতানিসহ বাজারজাতকরণ করলে আয়ও বাড়বে। পাশাপাশি মাত্রাতিরিক্ত বালাইনাশক প্রয়োগ রোধ করা গেলে আমের স্বাদসহ গুণগতমানও বাড়বে। আমগাছে যে হারে বালাইনাশক ব্যবহার হচ্ছে, তাতে কয়েক বছর পর আমের ভবিষ্যৎ হুমকির মুখে পড়বে বলে মনে করেন কৃষি বিভাগের অনেকে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ