ঢাকা, রোববার 05 March 2017, ২১ ফাল্গুন ১৪২৩, ০৫ জমাদিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে রূপসায় রেলওয়ের দখলকৃত জমি সার্ভে করতে গেলে ক্ষমতাসীন দখলদারদের বাধা

 

খুলনা অফিস : গত ১০ ডিসেম্বর দৈনিক সংগ্রামে ‘রূপসা-বাগেরহাট বন্ধ রেলের কয়েকশ’ বিঘা জমি প্রভাবশালীদের দখলে’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদের পর রেলপথ মন্ত্রণালয়ের ভূমি শাখার নির্দেশে সরেজমিনে সার্ভে করতে এসে ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী দখলদারদের বাধার মুখে পড়েছে। এমনকি তারা এ সময় সরকারি কর্মকর্তাদেরকে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধামকিও দিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এদিকে দখলকৃত এ জমি উদ্ধার হলে সরকার প্রতিবছর এক কোটি টাকা রাজস্ব পাবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করেছে। 

বাংলাদেশ রেলওয়ের খুলনার ১৮ নং কাচারি সূত্র জানায়, লোকসানের কারণে ১৯৯৮ সালে সরকার রূপসা-বাগেরহাট রেলপথ বন্ধ করে দেয়। পরবর্তীতে কর্তৃপক্ষ রেলপাটিসহ যাবতীয় মালামাল টেন্ডারের মাধ্যমে বিক্রি করেন। যার কারণে পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে রেলওয়ে ভূমি। এরমধ্যে শুধু রূপসা উপজেলার বাগমারা মৌজায় রয়েছে ৯০ একর সম্পত্তি। যার অধিকাংশ ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালীদের দখলে। এ সব দখলকৃত জমিতে তারা দোকান-পাট, ঘরবাড়ি, পানের বরজ ও নানা রকম ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। 

সূত্র জানায়, যে পরিমাণ ইজারা গ্রহণ করেছে প্রভাবশালীরা তার চেয়ে বেশী দখল করে রেখেছেন। এ বিষয়ে গত ১০ ডিসেম্বর দৈনিক সংগ্রামের ৬-এর পৃষ্ঠায় ‘রূপসা-বাগেরহাট বন্ধ রেলের কয়েকশ’ বিঘা জমি প্রভাবশালীদের দখলে’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। ওই পত্রিকার আলোকে ওইদিন বাংলাদেশ রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব মো. আসাদুজ্জামান পাকশীর বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তার মাধ্যমে পর্যালোচনাপূর্বক সরেজমিনে তদন্তক্রমে দ্রুত প্রতিবেদন প্রদানের জন্য রেলওয়ের মহাপরিচালককে নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হয়।  এর প্রেক্ষিতে গত ১৬ জানুয়ারি রেলওয়ের মহাপরিচালক কার্যালয়ের ভূ-সম্পত্তি শাখার উপ-পরিচালক তানভিরুল ইসলাম পাকশীর মাধ্যমে সরেজমিনে তদন্তক্রমে দ্রুত প্রতিবেদন প্রেরণের জন্য রাজশাহী মহাব্যবস্থাপককে (পশ্চিম) নির্দেশক্রমে অনুরোধ জানান। এরপর ১৮ জানুয়ারি রাজশাহী প্রধান ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা (পশ্চিম) ড. মো. আব্দুল মান্নান রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মাসিক সমন্বয় সভায় বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের পরিত্যক্ত রেল লাইনের জমির তথ্যাদি প্রেরণের জন্য নির্দেশ দেন। সে মোতাবেক তিনি বিষয়টি অতিগুরুত্ব সহকারে তিন কার্যদিবসের মধ্যে যাছাই-বাছাই করে এ দপ্তরে প্রেরণের জন্য অনুরোধ করেন।  সূত্র আরো জানায়, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত হওয়ার পর রূপসা স্টেশন এলাকায় অবৈধ দখলদারগণ রেলভূমি মালিকানাদাবি করে দখল করে। মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত মোতাবেক খুলনার ১৮নং কাচারির প্রতিনিধিগণ গত ২৫ ফেব্রুয়ারি রূপসা এলাকায় ভূমির তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে স্থানীয়ভাবে তাদের বাধা প্রদান করা হয়। রূপসা থানার বাগমারা মৌজার অধিনে অধিগ্রহণকৃত সম্পত্তি শুদ্ধভাবে রেলওয়ের নামে ২নং খতিয়ানে রেকর্ডভুক্ত করা হয়। অধিগ্রহণকৃত ৯০ একর ভূমি রেলওয়ের অনকূলে থাকলে প্রতিবছর সরকার এক কোটি টাকা রাজস্ব পাবে বলে কাচারি সূত্র জানায়। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ মোতাবেক সরেজমিনে পরিদর্শন ও সার্ভে করতে গেলে ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী দখলদাররা বাধা ও হুমকি দেয়। 

রেলওয়ের ভূ-সম্পত্তি বিভাগের ১৮নং কাচারির ফিল্ড কানুনগো জিয়াউল হক বলেন, অতি শীঘ্রই সরকারি এ সম্পত্তি উদ্ধার হবে। রেলওয়ের অনুকূলে এ সম্পত্তি আসবে। তারা সরকারি নিয়ম মোতাবেক ও মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি হিসেবে সরেজমিনে দেখতে ও সার্ভে করতে গেলে বাধার সম্মুখীন হন। প্রতি বছর এ সম্পত্তি হতে কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হবে। যা সরকারি কোষাগারে জমা হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ