ঢাকা, রোববার 05 March 2017, ২১ ফাল্গুন ১৪২৩, ০৫ জমাদিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

বাণিজ্যমন্ত্রীর দেয়া আল্টিমেটামও ভেস্তে যেতে পারে

স্টাফ রিপোর্টার: সর্বশেষ আগামী জুন মাসের মধ্যে ট্যানারি সাভারে স্থানান্তরে সময় বেঁধে দিয়েছে সরকার। এ দফায়ও বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। ১৪ বছর পার হয়ে গেলেও বরাদ্দকৃত জায়গায় এখন পর্যন্ত নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে ৫০ ভাগ। বাকি কাজ চার মাসে শেষ করা কোনোভাবেই সম্ভব হবে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বাণিজ্যমন্ত্রীর দেয়া আল্টিমেটাম এ দফায়ও ভেস্তে যেতে পারে।
একটি পরিকল্পিত চামড়া শিল্পনগরী তৈরি করার জন্য ২০০৩ সালে সরকার সাভারের হেমায়েতপুরে একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। ১৪ বছর পার হয়ে গেলেও বরাদ্দকৃত জায়গায় এখনো নির্মাণ কাজ শেষ হয়নি। হাজারীবাগ থেকে ট্যানারি শিল্প  সরিয়ে নিতে শিল্প মন্ত্রণালয় থেকে দফায় দফায় আল্টিমেটাম দিলেও এখনো সবগুলো কারখানা সরিয়ে নেয়া হয়নি।
বিভিন্ন সময়ে সরকারের তরফ থেকে চাপ প্রয়োগ করা হলেও এখনো অবকাঠামোর নির্মাণ কাজ চলছে। কোনোটির ৫০ শতাংশ, কোনোটির ৬০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। পুরোপুরিভাবে এখনো কোনো বিল্ডিং এর কাজ শেষ হয়নি। সরকারের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দিলেও তা এখনো বাস্তবায়ন না হওয়ায় রাজধানীর মধ্যে হাজারীবাগের ট্যানারি শিল্পের কারণে পরিবেশ দূষিত হয়েই চলছে।
এ পর্যন্ত ১৫৪টি ট্যানারি স্থাপনের জন্য জমি হস্তান্তর করা হলেও এর মাত্র ৪৩টি শিল্প তৈরির কাজ চলছে। মাত্র ৫৩টি ড্রামের কাজ শেষ হয়েছে। ১৫৪টি কারখানার মধ্যে বিদ্যুৎ চেয়ে ১৩০টি আবেদন করেছে, এখনো বাকি রয়েছে অনেক কারখানা। ৭৭টি ট্যানারির এখনো ডিমান্ড লোডই কাটেনি। তাহলে কিভাবে আগামী চার মাসে শতভাগ কারখানা সাভারে স্থানান্তর করা সম্ভব হবে।
সংশ্লিষ্টরা সরেজমিন পরিদর্শন না করে কেবল আমলাদের কথা শুনে একের পর এক আল্টিমেটাম দিচ্ছে। এতে করে মন্ত্রীর ভাব-মর্যাদা ক্ষুণœ হচ্ছে। তার পরেও একের পর এক আল্টিমেটাম দিয়েই যাচ্ছে।
ট্যানারি মালিকদের কাছে সমস্যার কথা জানতে চাওয়া হলে তারা বলেন, অর্থনৈতিক সমস্যা এবং গ্যাসের সমস্যার কারণ উল্লেখ করে বলেন, সচিবালয় থেকে বলা হয়েছে ট্যানারি স্থানান্তরের পরপরই গ্যাসের লাইন  দেওয়া হবে। কিন্তু এখনো তা করা হয়নি।
চামড়া শিল্পনগরীতে কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগারের (সিইটিপি) নির্মাণ কাজ এখনো শেষ হয়নি। এখনো সিইটিপির নির্মাণ কাজ বাকি রয়েছে ৪০ ভাগ। এ কাজ শেষ হতে আরো সময় লাগবে এক বছরের মতো। তাহলে আগামী জুনের মধ্যে কিভাবে সাভারে চামড়া কারখানা স্থানান্তর সম্ভব।
সরকার বলছে, হাজারীবাগ থেকে চামড়া শিল্প স্থানান্তর না হলে আন্তর্জাতিক বাজার হারাবে বাংলাদেশ। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো বারবার সরকারকে চাপ দিয়ে আসছে। কিন্তু প্রকল্প বাস্তবায়ন ধীর গতি হওয়ার কারণেই সরকার ও ব্যবসায়ীদের সাথে চলছে রশি টানাটানি। আর এ টানাটানি এখানে থেমে থাকেনি। আদালতে একাধিক রায়ও হয়েছে। তারপরেও বহাল তবিয়তে রয়েছে ট্যানারি মালিকরা। তারা বলছে, সরকার ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। প্রকল্পের কাজ শেষ না হলে আমরা কিভাবে কারখানা স্থানান্তর করবো। এসব কাঁচামাল কোথায় রাখবো।
সরকারের প্রকল্পের কাজ শেষ হলে আমরা এখানে একদিনও থাকতে চাই না। যদি সরকারের দুর্বলতা না থাকে তাহলে তারা কেন দফায় দফায় সময় বেঁধে দিচ্ছে। ট্যানারি মালিকদের অভিযোগ আমাদের সময় বেঁধে দিয়ে লাভ নেই। প্রকল্পের কাজ শেষ করতে নিমাঁণ প্রতিষ্ঠানকে সময় বেঁধে দেয়া উচিত। তাহলেই সময়মতো কারখানা স্থানান্তর করা সম্ভব হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ