ঢাকা, সোমবার 06 March 2017, ২২ ফাল্গুন ১৪২৩, ০৬ জমাদিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

সোমালিয়ায় স্কুল থেকে ঝরে যাচ্ছে এক-তৃতীয়াংশ শিক্ষার্থী

৫ মার্চ, আল-জাজিরা/রয়টার্স : জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, সোমালিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে তীব্র খরার কারণে সৃষ্ট দুর্ভিক্ষে প্রায় ৬২ লাখ মানুষ খাদ্য ও পানি সংকটে রয়েছে। এর ফলে দেশটির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ শিক্ষার্থী স্কুল ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে।
খরা আক্রান্ত অঞ্চলে প্রায় ৩০ লাখ মানুষ অনাহারে রয়েছে। খাদ্য ও পানির সংকটে শিশুদের জন্য স্কুলে যাওয়াটা কষ্টকর হয়ে উঠেছে। জাতিসংঘ জানিয়েছে, প্রায় ৩০ লাখ শিক্ষার্থী স্কুলে যাওয়া বন্ধ করেছে। এর সঙ্গে আরও এক লাখ শিক্ষার্থী যুক্ত হতে যাচ্ছে।
মঙ্গলবার সোমালিয়ার নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আবদুল্লাহি মোহাম্মদ এই অবস্থাকে ‘জাতীয় বিপর্যয়’ বলে ঘোষণা দিয়েছেন।
সাদিয়া ওমর নামে এক শিক্ষার্থী জানায়, ‘আমি স্কুলে ফিরতে চাই। কিন্তু আমি পরিবারের বড় সন্তান। আর খরার ফলে আমাকে ঘরে কাজ করতে হচ্ছে।’
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদক ফাহমিদা মিলার সোমালিয়ার দক্ষিণাঞ্চলের ডলো এলাকা থেকে জানান, খরায় ধুমাধুমা এলাকা ভীষণভাবে প্রভাবিত হয়েছে। গত তিন মাসে ওই এলাকার শিশুরা উল্লেখযোগ্য হারে স্কুল ছেড়েছে।
ধুমাধুমা এলাকার স্কুলের প্রধান শিক্ষক আবদিহাকিম আহমেদ জানান, ‘যদি এভাবেই খরা চলতে থাকে, তাহলে শিক্ষার্থীরাও স্কুল ছাড়তে থাকবে। আর তারা ফিরেও আসবে না। তাদের ভবিষ্যৎ জীবনে এর প্রভাব পড়বে।’
সোমবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সতর্ক করেছে, সোমালিয়া গত ২৫ বছরের মধ্যে তৃতীয়বারের মতো দুর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে।
এর আগে ২০১১ সালের দুর্ভিক্ষে সোমালিয়ায় অন্তত ২ লাখ ৬০ হাজার মানুষ নিহত হন। জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির হিসেবে, যাদের মধ্যে অর্ধেকের বেশিই ৫ বছরের কম বয়সী শিশু।
তীব্র খরায় ডায়রিয়া, কলেরা এবং হামের মতো রোগ-জীবাণু ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে। পানিবাহিত রোগের ঝুঁকিতে রয়েছেন ৫৫ লাখ মানুষ।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, অপুষ্টিতে আক্রান্ত ৩ লাখ ৬৩ হাজার শিশু এবং তীব্র অপুষ্টির শিকার ৭০ জাহার শিশুর জীবন বাঁচাতে এখনই ত্রাণ সহায়তা প্রয়োজন।
এর আগে গত ২০ ফেব্রুয়ারি মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস জানান, দক্ষিণ সুদান, নাইজেরিয়া, সোমালিয়া এবং ইয়েমেনে প্রায় দুই কোটি মানুষ অনাহারে রয়েছেন।
দক্ষিণ সুদানের উত্তরাঞ্চলে আগেই দুর্ভিক্ষের ঘোষণা দেওয়া হয়। তবে ঘোষণা না দেওয়া হলেও বহুদিন ধরেই অনাহারে রয়েছেন নাইজেরিয়া, সোমালিয়া এবং ইয়েমেনের বহু মানুষ।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযাযী, নাইজেরিযার কিছু প্রত্যন্ত অঞ্চল গত বছর থেকেই দুর্ভিক্ষে আক্রান্ত রয়েছে। আর সোমালিয়ায় যা চলছে ২০০০ সাল থেকে।
সোমালিয়ার দুর্ভিক্ষের কারণ খরা। বাকি দেশগুলোতে সংঘাত আর মানব সৃষ্ট কারণে ঘটছে এমন বিপর্যয়।
এদিকে দক্ষিণ সোমালিয়ায় দুর্ভিক্ষে অন্তত ১১০ জন মারা গেছে। তীব্র খরায় পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে ডায়ারিয়া।
ফেব্রুয়ারি মাসেই জাতিসংঘের শিশু সংস্থা ইউনিসেফ এক পূর্বাভাসে বলেছিল, খরায় এ বছর অন্তত ২৭ হাজার শিশু তীব্র অপুষ্টিতে আক্রান্ত হতে পারে।
গত শনিবার প্রধানমন্ত্রী হাসান আলি খায়রের দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, তীব্র খরায় খামারি ও তাদের পশুদের বেঁচে থাকা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেউ খাদ্য সংকটের কারণে দুর্ভিক্ষ, আবার কেউ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে। গত ৪৮ ঘণ্টায় উপসাগরীয় এলাকায় অন্তত ১১০ জন মারা গেছেন।
দুর্ভিক্ষ মোকাবেলায় করা কমিটির সঙ্গে এক বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার সর্বোচ্চ সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। তারা পরিস্থিতি সামাল দিতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
সেই সঙ্গে সোমালিয়ার সবাইকে দুর্গতদের সাহায্যে এগিয়ে যাওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ