ঢাকা, সোমবার 06 March 2017, ২২ ফাল্গুন ১৪২৩, ০৬ জমাদিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

চরম ক্ষুধায় ১০ কোটি মানুষ -জাতিসংঘ কর্মকর্তা

৫ মার্চ, টাইমস অব ইন্ডিয়া : জাতিসংঘের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিশ্বে ১০ কোটির বেশি মানুষ চরম ক্ষুধাপীড়িত। পর্যাপ্ত সহায়তা না দিলে তাদের অনাহারে থাকতে হবে বলে মনে করেন জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) জরুরি বিভাগের পরিচালক ডমিনিক বার্গন।তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে, ১০ কোটি ২০ লাখ মানুষ প্রচ- অপুষ্টিতে ভুগছে। এর অর্থ হলো, তারা অনাহারের ঝুঁকিতে রয়েছে।ক্ষুধাপীড়িত মানুষের এ চিত্র ২০১৬ সালের, যা ২০১৫ সালের চেয়ে প্রায় ৩০ গুণ বেশি। ২০১৫ সালে ক্ষুধায় থাকা মানুষের সংখ্যা ছিল ৮ কোটি।টাইমস অব ইন্ডিয়া অনলাইনের এক খবরে গতকাল রোববার এ তথ্য জানানো হয়েছে।ডমিনিক বার্গন বলেন, ইয়েমেন, দক্ষিণ সুদান, সোমালিয়া ও নাইজেরিয়ায় সংঘট আরো ঘনীভূত হওয়ায় ক্ষুধাপীড়িত মানুষের সংখ্যা বেড়ে গেছে। এসব দেশে সংঘর্ষ ও ক্ষরায় উৎপাদন মারাত্মকভাবে কমে গেছে।থমসন রয়টার্স ফাউন্ডেশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বার্গন বলেন, ‘মানবিক সহায়তা বহু মানুষকে বাঁচিয়ে রেখেছে।
কিন্তু তাদের খাদ্য নিরাপত্তার অবস্থা দিন দিন আরো শোচনীয় হয়ে পড়ছে।’এসব মানুষকে সাহায্য করতে এবং তাদের নিজেদের খাদ্য সংগ্রহের ব্যবস্থা করে দিতে ফসল উৎপাদন ও গবাদিপশু পালনে আরো বিনিয়োগ প্রয়োজন বলে মনে করেন জাতিসংঘের এই কর্মকর্তা।বার্গন বলেন, ‘আমরা বিমানে আসি, তাদের মধ্যে খাদ্য বিতরণ করি, আমরা তাদের বাঁচিয়ে রাখতে কাজ করছি কিন্তু এসব মানুষের জীবিকার জন্য আমরা পর্যাপ্ত বিনিয়োগ করছি না।’‘তাদের দুর্ভিক্ষ থেকে রক্ষায় ব্যর্থ হচ্ছি আমরা। কিন্তু খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে তাদের বিষয়ে আমরা যথাযথ আলোচনা করতে পারছি না।’ জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি গত মাসে জানিয়েছিল, বিশ্বের চারটি পৃৃথক দুর্ভিক্ষ অঞ্চলে আগামী ছয় মাসের মধ্যে রোমানিয়া অথবা ফ্লোরিডার সমান জনসংখ্যা, যার পরিমাণ ২ কোটির বেশি, মারা যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। ইয়েমেন, দক্ষিণ সুদান ও নাইজেরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে চলমান যুদ্ধবিগ্রহ জীবনব্যবস্থা বিপর্যস্ত করে দিয়েছে এবং সীমাহীন মূল্য বৃদ্ধি ঘটিয়েছে। ক্ষরায় পূর্ব আফ্রিকার কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি ধ্বংস হয়েছে। এই চারটি অঞ্চলে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষে ২ কোটি মানুষ মৃত্যু ঝুঁকিতে রয়েছে। ফেব্রুয়ারি মাসে দক্ষিণ সুদানের কয়েকটি অঞ্চলকে দুর্ভিক্ষকবলিত ঘোষণা করা হয়। ২০১৩ সাল থেকে গৃহযুদ্ধে তছনছ হয়ে পড়েছে দেশটির ওইসব অঞ্চলের জীবনপ্রণালি। নাইজেরিয়ার ‘খাদ্যের আধার’ হিসেবে পরিচিত উত্তর-পর্বাঞ্চল দুর্ভিক্ষের ঝুঁকিতে রয়েছে। জঙ্গিগোষ্ঠী বোমা হারামের তা-বে সেখানকার প্রায় ১৮ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং ফসলি খামার ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে কৃষকরা।
নাইজেরিয়া সরকার দাবি করছে, জঙ্গিগোষ্ঠীর দখলে চলে যাওয়া অধিকাংশ অঞ্চল তারা উদ্ধার করেছে। ফলে সেখানকার বাস্তুচ্যুত বাসিন্দারা ফিরে যাওয়া শুরু করেছে। তবে নিরাপত্তা নিয়ে তাদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।বার্গন জানিয়েছেন, ২০ লাখ লোককে সাহায্য করতে আগামী আবাদ মৌসুমে নাইজেরিয়ার কৃষকদের সাহায্য করার জন্য ২ কোটি ডলার দরকার, যার এক-তৃতীয়াংশ সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছে এফএও।তহবিলের অভাবে সিরিয়ায় খাদ্য উৎপাদনে সহায়তা দেওয়াও সম্ভব হচ্ছে না। যেকোনো সময়ের চেয়ে ২০১৬ সালে সবচেয়ে কম ফসল উৎপাদন হয়েছে দেশটিতে।যুদ্ধ ও ক্ষরায় দুর্ভিক্ষপ্রবণ এসব অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ফিরলেও কৃষকদের সক্ষমতা নেই ফসল উৎপাদনের। কৃষিপণ্য, বীজ ও জ্বালানি তেলের দাম খুবই চড়া হওয়ায় উৎপাদনে যেতে পারছে না কৃষকরা।বার্গন বলেন, এই অবস্থায় তাদেরকে সাহায্য করা উচিত, যাতে কৃষকরা ফসল উৎপাদন করতে পারে। তিনি আরো বলেন, ‘টিকে থাকাই যথেষ্ট নয়।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ