ঢাকা, সোমবার 06 March 2017, ২২ ফাল্গুন ১৪২৩, ০৬ জমাদিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

অজানা গন্তব্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র?

সৈয়দ মাসুদ মোস্তফা : গত বছরের নবেম্বরের নির্বাচনে সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিতভাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন রিপাবলিকান দলীয় প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুরু থেকেই তাকে নিয়ে বিতর্কের কমতি ছিল না। বিভিন্ন বিষয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে আলোচনা ও  সমালোচনায় আসেন তিনি। তার বিরোধী মহলে তো বটেই এমনকি নিজ দলেও তিনি ব্যাপকভাবে সমালোচিত হয়েছেন। তার মানসিক সুস্থতা নিয়েও অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন। আর সে সুযোগটা করে দিয়েছেন তিনি নিজেই। তিনি নারীদের নিয়ে কদর্য মন্তব্য করে ঘরে-বাইরে  ব্যাপকভাবে সমালোচিত হয়েছিলেন।
বাদ যাননি তার নিজ কন্যাও। ফলে জনমত জরিপে তিনি তার প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্রেট দলীয় সাবেক ফার্স্টলেডি হিলারী রডহ্যাম ক্লিনটনের চেয়ে বিপুল ব্যবধানে পিছিয়ে ছিলেন। তাই মনে করা হয়েছিল যে, ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচিত হওয়া তো দূরের কথা কোন প্রতিদ্বন্দ্বিতায় গড়ে তুলতে পারবেন না। ফলে হোয়াইট হাউসের কর্ণধার হিসাবে হিলারী ক্লিনটনকেই মনে করা হয়েছিল।
আসলে সকল জল্পনা-কল্পনা ও জনমত জরিপকে অসার প্রমাণ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসাবে নির্বাচিত হলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিশ্বের কোন নির্বাচনের ফলাফলে এমন নাটকীয় ঘটনার নজীর আর দ্বিতীয়টি দেখা যায় না। নির্বাচনকালীন সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিলেও মনে করা হয়েছিল যে, তিনি হয়তো নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার জন্যই এমন সব অভিনব বিতর্কের জন্ম  দিচ্ছেন। কিন্তু দায়িত্ব গ্রহণের পর দায়িত্বই তাকে দায়িত্বশীল করে তুলবে। কিন্তু সে আশায় গুড়ে বালি পড়েছে। তিনি শপথ গ্রহণের সাথে সাথেই ওবামা কেয়ার বাতিল ও সাত মুসলিম দেশের নাগরিকদের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করে বিশ্ববাসীকে রীতিমত চমকে দিলেন। যদিও তা আইনী মানদন্ডে এবং মাকির্নী ঐতিহ্যে আপাত সফল হতে পারেনি। কিন্তু তিনি থেমে যাননি বরং নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি এখনো অব্যাহত আছে। তাই ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এক অজানা গন্তব্যের দিকেই অগ্রসর হচ্ছে বলেই মনে করা হচ্ছে।  
ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতা গ্রহণের পরপরই সাতটি মুসলিম দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত ফরমান জারির পর মার্কিন আদালত তা স্থগিত করে দেয়। যা সদ্য দায়িত্ব গ্রহণকারী একজন প্রেসিডেন্টের জন্য ছিল রীতিমত চপেটাঘাত। আদালতের এই আদেশের বিরুদ্ধে আপীলও করে মার্কিন প্রশাসন। কিন্তু তাতেও সুফল পাওয়া যায়নি। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জারি করা নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করার দাবিকে নাকচ করে দিয়েছে মার্কিন আদালত। ট্রাম্পের দেয়া নিষেধাজ্ঞাকে সাময়িকভাবে স্থগিত করে যে রায় দিয়েছিল সিয়াটলের একটি আদালত, সেই রায়ই এবারেও সর্বসম্মতিক্রমে বহাল রেখেছেন তিনজন বিচারকের একটি প্যানেল। আর আপিল খারিজ হবার পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার টুইটারে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে লিখেছেন “আদালতে দেখে নেব। আমার জাতির নিরাপত্তা এখন ঝুঁকির মুখে”।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের টুইট থেকে প্রতীয়মান হয় যে, প্রেসিডেন্ট আদালতের আদেশকে স্বাভাবিকভাবে মেনে নেননি। বিশ্বের একক পরাশক্তি ও বিশ্বের শীর্ষ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের মুখে আদালত নিয়ে এমন সমালোচনা অতীতে কখনো শোনা যায়নি। মার্কিন আদালতে নিষেধাজ্ঞা স্থগিত হওয়ায়  প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্কবাণী উচ্চারণ করে বলেছিলেন, এ ধরনের আইনি রুলিং এর কারণে যুক্তরাষ্ট্র খারাপ ও বিপজ্জনক মানুষে ভরে যেতে পারে। এর আগে ট্রাম্প টুইটারে জানিয়েছিলেন, তথাকথিত বিচারক আইনের প্রয়োগ স্থগিত করেছে। তিনি তখন এটাও জানিয়ে দেন, এই সিদ্ধান্ত বাতিল করা হবে।
যদিও আদালতের ওই আদেশের পর থেকে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর বলছে, যেসব ভিসা বাতিল করা হয়েছে সেগুলো পুনরায় বিবেচনা করা হবে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ জারির পর প্রায় ষাট হাজার ভিসা বাতিল করার কথা জানিয়েছে পররাষ্ট্র দফতর। এছাড়া আদালতের আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে বেশ কয়েকটি এয়ার লাইনস তাদের ফ্লাইটে যাত্রী ওঠানো শুরু করে দেয়। এর আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এক নির্বাহী আদেশে সিরিয়া, ইরাক, ইরান, লিবিয়া, সোমালিয়া, সুদান ও ইয়েমেনে-এই দেশগুলোর লোকদের যুক্তরাষ্ট্রে ঢোকা নিষিদ্ধ করেন। এর পর সিয়াটলের একজন বিচারক ওই আদেশটি সাময়িকভাবে  আটকে দেন।
একই সঙ্গে ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞার পর যেসব ভিসা বাতিল করা হয়েছে সেগুলোও পুনরায় পুনর্বিবেচনা করা হবে বলে বিবৃতিতে জানিয়েছে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ। তেহরানের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপের যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষণার জবাবে একই ধরনের পাল্টা ব্যবস্থার অঙ্গীকার করেছে ইরান। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর, প্রথম আরোপিত এই নিষেধাজ্ঞায়, বারোটি কোম্পানি এবং ইরান ও চীনের ১৩ জন ব্যক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট। নিষেধাজ্ঞার এই তালিকায় রয়েছে ইরানের রিপাবলিক গার্ডের সদস্যরাও। ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট-এর নিষেধাজ্ঞা বিষয়ক ভারপ্রাপ্ত প্রধান জন স্মিথ এক বিবৃতিতে বলেছেন, সন্ত্রাসের প্রতি ইরানের ক্রমাগত সমর্থন এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির উন্নয়ন ওই অঞ্চলে ও বিশ্বব্যাপী যুক্তরাষ্ট্রের অংশীদারদের প্রতি হুমকি তৈরি করেছে।
সম্প্রতি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার পর এ নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা আসে যুক্তরাষ্ট্রের তরফ থেকে। এর আগে এক টুইট বার্তায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরান আগুন নিয়ে খেলছে। তারা বুঝতে পারেনি প্রেসিডেন্ট ওবামা তাদের প্রতি কত দয়ালু ছিল। আমি নই। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা নিরাপত্তা পরিষদে গৃহীত প্রস্তাবনার লঙ্ঘন। আর ইরান বলছে, নতুন এ নিষেধাজ্ঞা যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা পরমাণু কর্মসূচি কমানো নিয়ে জাতিসংঘ সমর্থিত চুক্তির স্পষ্ট লঙ্ঘন। তারাও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পাল্টা একই ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণের  অঙ্গীকার করেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দিকে ইঙ্গিত করে ইরান বলেছে একজন অনভিজ্ঞ ব্যক্তির অপ্রয়োজনীয় হুমকির কাছে তারা কোনভাবেই নতি স্বীকার করবে না।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন বিভিন্ন সংস্কারমূলক কাজে হাত দিয়েছে। আর সে সংস্কারের ধারাবাহিকতায় যুক্তরাষ্ট্রে এবার গির্জার ওপর থেকে রাজনীতি চর্চার নিষেধাজ্ঞা উঠে যাচ্ছে। গির্জাসহ বিভিন্ন করমুক্ত প্রতিষ্ঠানের ওপরে থাকা রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা বাতিল করতে যাচ্ছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। খবরে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রে ১৯৫৪ সালের একটি আইনে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান গির্জাসহ অন্যান্য করমুক্ত প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। যেটি জনসন সংশোধনী নামে পরিচিতি।
সম্প্রতি ওয়াশিংটন ডিসিতে দেশটির বার্ষিক জাতীয় প্রার্থনায় অংশ নেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্প সেখানেই এ ঘোষণা দিয়েছেন। এ সময় ধর্মীয় নেতাদের উদ্দেশে ট্রাম্প বলেন, ধর্মীয় স্বাধীনতা একটি পবিত্র অধিকার। কিন্তু এটি আমাদের চারপাশে হুমকি হয়ে আছে। এ কারণে আমি জনসন সংশোধনী পুরোপুরি বাতিল করতে চাই। যাতে করে সবাই কোনো ভীতি ছাড়া স্বাধীনভাবে কথা বলার সুযোগ পায়।
প্রার্থনায় অংশ নেওয়া রাজনৈতিক, ধর্মীয় নেতা ও অন্য অতিথিদের উদ্দেশে ট্রাম্প বলেন, মনে রাখবেন আমি এটা করব। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র শন স্পাইসার বলেন, আসলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একটি পথ বের করতে চাচ্ছেন, যার মাধ্যমে ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে যাতে কোনো মানুষকে শাস্তি পেতে না হয় তা নিশ্চিত করা যায়। এদিকে, ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পর প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকান দলের স্পিকার পল রায়ান বলেন, জনসন সংশোধনী বাতিলের বিষয়টি তিনি সব সময়ই সমর্থন করেন। তবে অনেকে এর সমালোচনা করে এটিকে বিপজ্জনক বলে উল্লেখ করেছেন। উদারপন্থী সংগঠন পিপল ফর দি আমেরিকান ওয়ের নেতা পিটার মন্টগোমারি বলেছেন, ট্রাম্প আসলে ধর্মীয় রক্ষণশীলদের ফিরিয়ে আনতে চাচ্ছেন, যারা তাঁকে সাহায্য করবে। ক্ষমতায় বসার পর থেকেই একের পর এক সিদ্ধান্ত নিতে শুরু করেছেন ট্রাম্প। যেসব সিদ্ধান্তের অধিকাংশই বিতর্কিত হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বেচ্ছাচারিতা ও একের পর এক বিতর্কিত সিদ্ধান্তের প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রশাসনে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। প্রেসিডেন্টের সাথে দ্বিমত পোষণ করে মার্কিন প্রশাসনের কর্মকর্তারা একের পর এক পদত্যাগ করতে শুরু করেছেন। আর ক্রমান্বয়ে পদত্যাগের সারি বাড়ছে এবং সর্বশেষ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মুসলিম বিদ্বেষী নীতির প্রতিবাদেই এশিয়ান-আমেরিকান ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জ (এএপিআই) বিষয়ক তার উপদেষ্টা কমিশনের ১৬ সদস্য পদত্যাগ করেছেন। এর মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশী-আমেরিকান ড. নীনা আহমেদও। মূলত অভিবাসন, শরণার্থী ও সাত মুসলিম দেশের নাগরিকের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা নীতির কারণেই পদত্যাগ করেন তারা।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নীতি ব্যাপক সমালোচনার প্রেক্ষাপটে  গণমাধ্যমের প্রতি আক্রমণের সুর আরও চড়া করেছেন  প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি এবার গণমাধ্যমগুলোকে মার্কিনিদের ‘সবচেয়ে বড় শত্রু’ বলে ঘোষণা করেছেন। এক টুইট বার্তায় ট্রাম্প এ কথা বলেছেন।  ট্রাম্প টুইটার বার্তায় প্রথম সারির সংবাদমাধ্যমগুলোর সরাসরি নাম উল্লেখ করে কটাক্ষ করেন।
খবরে বলা হয়, এএপিআই বিষয়ক উপদেষ্টা কমিশনের ১৬ সদস্য পদত্যাগ করেছেন। মূলত  ট্রাম্পকে যৌথ এক চিঠি দিয়ে পদত্যাগ করেন তারা। ট্রাম্পের কাছে লেখা চিঠিতে ১০ সদস্য বলেছেন, আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর কমিশনের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও আমরা এমন একজন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কাজ করতে চাই না, যার প্রণীত নীতি আমাদের নীতি, লক্ষ্য ও দায়িত্বের সঙ্গে বিপরীতমুখী।’
বর্তমানে ফিলাডেলফিয়া সিটির ডেপুটি মেয়র নীনা মার্কিন অভিবাসী সমাজে স্বস্তি ফেরাতে কাজ করবেন বলে জানা গেছে। এদিকে ট্রাম্প টুইটার বার্তায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম সারির সংবাদমাধ্যমগুলোর সরাসরি নাম উল্লেখ করে কটাক্ষ করেছেন। টুইটারে ট্রাম্প লেখেন, ‘ভুয়া নিউজ মিডিয়া নিউইয়র্ক টাইমস, এনবিসি নিউজ, এবিসি, সিবিএস, সিএনএন আমার শত্রু নয়, তারা আমেরিকার জনগণের দুশমন।’
এর আগে ট্রাম্প আরেকটি টুইট করে তা দ্রুত আবার মুছে ফেলেন। পরে সংশোধিত টুইটে ট্রাম্প এবিসি ও সিবিএসের নাম দুটো যোগ করেন। উভয় টুইট বার্তায় গণমাধ্যমগুলোকে ‘ভুয়া প্রতিষ্ঠানের’ উপাধি দেন। তিনি যেসব সংবাদমাধ্যমের কথা তার টুইটে বলছেন সেগুলো ট্রাম্প ও তার প্রশাসনের বিতর্কিত কর্মকান্ড ও পদক্ষেপ প্রতিবেদন করে প্রেসিডেন্টের বিরাগভাজন হয়েছে। এর আগেও নিউইয়র্ক টাইমস, সিএনএন, এনসিবিসহ বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমকে টার্গেট করে টুইট বার্তা দিয়েছেন ট্রাম্প।
বিশেষ করে নির্বাচনী প্রচারণার সময় থেকেই এই সংবাদমাধ্যমগুলোর ওপর ক্ষেপে রয়েছেন তিনি।
মূলত মুসলিমবিরোধী যুদ্ধনীতিতে কমতি ছিল না কোন মার্কিন প্রেসিডেন্টের সময়েই। তবু বিগত বুশ আর ওবামা প্রশাসন সন্ত্রাসবাদ কিংবা জঙ্গিবাদ প্রশ্নে সরাসরি ‘মুসলমান’ কিংবা ‘ইসলাম’ শব্দটি ব্যবহার করেননি। ট্রাম্প পূর্বসুরীদের ধারাবাহিকতা ভেঙেছেন সম্প্রতি। সরাসরি ইসলামী জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন তিনি।  মুসলিম মার্কিন মিত্র দেশগুলোকে নিয়ে এই প্রত্যয় বাস্তবায়নের আশাবাদ জানিয়েছেন তারা।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি রাতে দেশটির ক্যাপিটল কমপ্লেক্সে কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রথম বক্তৃতায় ট্রাম্প এমন প্রত্যয়ের কথা জানান। সম্প্রতি কংগ্রেসে দেয়া এক ভাষণে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিম মিত্র দেশগুলোকে নিয়ে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার করেন। বলেন, ‘ইসলামী জঙ্গিবাদের কবল থেকে আমেরিকাকে বাঁচাতে আমরা দৃঢ় এবং কঠোর পদক্ষেপ ঘোষণা করছি।’
ট্রাম্প বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন মতাদর্শের মানুষ বসবাস করলেও আমরা যেকোনো ধরনের খারাপ ও হিংসাত্মক পরিস্থিতিকে মোকাবিলা করার সময় এক হয়ে যাই।’ অভিবাসন নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও আইনের প্রতি সম্মান বৃদ্ধির কারণে অভিবাসন নীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে  তার সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ইসলামি মৌলবাদী সন্ত্রাসবাদ দেশ থেকে বিতাড়িত করা হবে। ‘যারা আমাদের ক্ষতি করবে তাদের আমরা বের করে দেবো, আমাদের জাতির সুরক্ষার জন্য আমরা নতুন পদক্ষেপ নেবো’।
এদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কোন ধারাবাহিকতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। তিনি মুসলিম বিদ্বেষ দিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু এবং এ বিদ্বেষকে ষোল আনা কাজে লাগিয়ে নির্বাচনী বৈতরণী পার হয়েছেন বলেই মনে করা হয়। আর প্রেসিডেন্ট হিসাবে দায়িত্ব গ্রহণের সাথে সাথে যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম প্রবেশে নিষেধাজ্ঞাও জারি করেছিলেন তিনি। কিন্তু সম্প্রতি তিনি তার পুরনো অবস্থান কিছুটা পরিবর্তন করেছেন বলেই দৃশ্যত মনে হচ্ছে। তিনি বলেছেন, আমরা বিশ্বের মুসলিম বন্ধুদের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করবো।
১ মার্চ বাংলাদেশ সময় সকালে দেশটির কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রথম বক্তৃতায় ট্রাম্প এমন প্রত্যয়ের কথা জানান। আমেরিকাকে ফের মহান হিসেবে গড়ে তোলার যে ঘোষণা তিনি দিয়েছেন। সেই মহানুভবতার কাজ ইতোমধ্যে শুরু  হয়েছে বলেও জানান ট্রাম্প।
সার্বিক দিক বিবেচনায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এক বিপজ্জনক পথেই অগ্রসর হচ্ছে। যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি-শৃঙ্খলা ও ঐক্যকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে মার্কিনীদের উদার নৈতিক ঐতিহ্য। আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিদেশনীতিতে যদি সহসাই পরিবর্তন না আসে তা হবে বিশ্ব শান্তির জন্য বিপজ্জনক।
কুটনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পাগলা ঘোড়ার পিঠে সওয়ার হয়েছেন। তাই তার গন্তব্যটা অজানা। যা মার্কিনীদের জন্য তো নয়ই বরং কোন পক্ষের জন্যই সুখকর হবে না বরং বিশ্ব পরিস্থিতি আবারও স্নায়ুযুদ্ধের দিকেই অগ্রসর হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ