ঢাকা, মঙ্গলবার 07 March 2017, ২৩ ফাল্গুন ১৪২৩, ০৭ জমাদিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ঐতিহাসিক ৭ মার্চ আজ

স্টাফ রিপোর্টার : ঐতিহাসিক ৭ মার্চ আজ মঙ্গলবার। একাত্তরের এই দিনে মহান স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রমনার রেসকোর্স ময়দানের (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) জনসমুদ্রে আবেগঘন, তেজোদীপ্ত ভাষণ দিয়েছিলেন, যা বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ রাজনৈতিক ভাষণ হিসেবে গণ্য। জাতীয় ইতিহাসে অবিস্মরণীয় এ দিনটি উপলক্ষে প্রেসিডেন্ট মো. আব্দুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। এদিকে, দিনটি পালন উপলক্ষে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভা করবে আজ। এছাড়া দিবসটি উপলক্ষে বাংলাদেশ বেতার, বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলগুলো বিশেষ অনুষ্ঠান সম্প্রচার এবং জাতীয় পত্রিকাসমূহ বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করবে। 

প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ আমাদের প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে প্রেরণার চিরন্তন উৎস হয়ে থাকবে। আমাদের স্বাধীনতা অর্জনে তাই ৭ মার্চের ভাষণের গুরুত্ব ও তাৎপর্য অপরিসীম। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তৎকালীন পাকিস্তানী শাসকগোষ্ঠীর রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে অসীম সাহসিকতার সাথে রেসকোর্স ময়দানে লাখো জনতার উদ্দেশে বজ্রকণ্ঠে যে ঐতিহাসিক ভাষণ প্রদান করেন তা ছিল মূলত বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ।

অপর এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সকল ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশের উন্নয়নে কাজ করার এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে সমুন্নত রাখার আহবান জানিয়ে বলেন, আসুন সবাই মিলে একটি অসাম্প্রদায়িক, ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত ও সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলি। প্রতিষ্ঠা করি জাতির পিতার স্বপ্নের ‘সোনার বাংলা’। ঐতিহাসিক ৭ই মার্চে এই হোক আমাদের অঙ্গীকার।

মুক্ত বিশ্বকোষ উইকিপিডিয়ায় বর্ণিত হয়েছে, “১৯৭১ খৃস্টাব্দের ৭ই মার্চ ঢাকার রমনায় অবস্থিত রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) অনুষ্ঠিত জনসভায় শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক প্রদত্ত এক ঐতিহাসিক ভাষণ। ১৮ মিনিট স্থায়ী এই ভাষণে তিনি পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালিদের স্বাধীনতা সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানান। এই ভাষণের একটি লিখিত ভাষ্য অচিরেই বিতরণ করা হয়েছিল। এটি তাজউদ্দীন আহমদ কর্তৃক কিছু পরিমার্জিত হয়েছিল।”

সেদিন ঢাকা ছিল মিছিলের শহর। ঢাকা ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে সব মিছিলই এসে থামছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন রেসকোর্স ময়দানে। রেসকোর্স রূপ নেয় জনসমুদ্রে। ধর্ম-বর্ণ-গোত্র নির্বিশেষে লাখো মানুষে কানায় কানায় ভরে যায় বিশাল ময়দান। বাতাসে উড়ছে বাংলার মানচিত্র আঁকা লাল সূর্যের অসংখ্য পতাকা। আকাশে উত্থিত বাঁশের লাঠির সঙ্গে লাখো কণ্ঠের স্লোগানে কেঁপে উঠছে জনতার উর্মিমালা। ঘড়ির কাঁটায় তখন বিকেল ৩টা ২০ মিনিট সফেদ পাজামা-পাঞ্জাবি আর হাতকাটা কালো ‘জহর’ কোট পরে বঙ্গবন্ধু দৃপ্ত পায়ে উঠে এলেন মঞ্চে। ফাল্গুনের সূর্য তখনো মাথার ওপরে। বঙ্গবন্ধু দাঁড়ালেন মাইকের সামনে। আকাশ কাঁপানো স্লোাগান আর মুহুর্মুহু করতালির মধ্যে হাত নেড়ে অভিনন্দন জানালেন অপেক্ষমাণ জনসমুদ্রের উদ্দেশ্যে। তারপর শুরু করলেন তার ঐতিহাসিক ভাষণ, ‘ভাইয়েরা আমার, আজ দুঃখভারাক্রান্ত মন নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি। আপনারা সকলে জানেন ও বোঝেন, আমরা আমাদের জীবন দিয়ে চেষ্টা করেছি। কিন্তু দুঃখের বিষয় আজ ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, রংপুরে আমার ভাইয়ের রক্তে রাজপথ রঞ্জিত হয়েছে।’ ভাষণ চলছে। গগনবিদারী স্লোগানে কেঁপে উঠছে চারপাশ।

অনধিক বিশ মিনিটের এই ভাষণের মধ্য দিয়ে শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালি জাতিকে তুলে আনেন অবিশ্বাস্য এক উচ্চতায়। সামরিক আইন প্রত্যাহার, সেনাবাহিনীর ব্যারাকে প্রত্যাবর্তন, শহীদদের জন্য ক্ষতিপূরণ ও জনপ্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর সংবলিত চার দফা দাবি সেদিন উত্থাপন করেন বঙ্গবন্ধু। তিনি দরাজ গলায় বলেন, ‘রক্ত যখন দিয়েছি রক্ত আরো দেব। এ দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়বো ইনশাআল্লাহ। এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। জয়বাংলা’। ওই ভাষণের শেষ শব্দটা ‘জয় পাকিস্তান- ছিল বলে অনেকে তথ্য দিলেও আওয়ামীলীগ ও তার মিত্ররা তা মানছে না।

কর্মসূচি : দিনটি যথাযথ মর্যাদায় পালনের জন্য ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ সারাদেশে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এসব কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- ভোর ৬টা ৩০ মিনিটে বঙ্গবন্ধু ভবন ও দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, সকাল ৭টায় বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন এবং সকাল ৮টায় দেশের সকল ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, পৌরসভা, থানা, উপজেলা, মহানগর ও জেলাসমূহের প্রতি পাড়া, মহল্লায় বঙ্গবন্ধুর সেই ভাষণ প্রচারের যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে সভা-সমাবেশের আয়োজন।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি এক বিবৃতিতে ৭ মার্চ পালন উপলক্ষে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ঘোষিত কর্মসূচি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের জন্য সংগঠনের সকল স্তরের নেতা-কর্মী এবং সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনসমূহসহ সর্বস্তরের জনগণ ও দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

এদিকে ঐতিহাসিক ৭ মার্চ স্মরণে আজ দ্বিতীয়বারের মতো অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জয়বাংলা কনসার্ট। এতে অংশগ্রহণকারী দলগুলো গাইবে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের আগুনঝরা গানগুলো। রাজধানীর আর্মি স্টেডিয়ামে এ কনসার্ট আয়োজন করতে যাচ্ছে সেন্টার ফর রিসার্চেএন্ড ইনফর্মেশন (সিআরআই) ইয়ং বাংলা প্ল্যাটফর্ম। কনসার্ট মাতাবে ব্যান্ড স্পন্দন ৭২, ওয়ারফেইজ, চিরকুট, আর্বোভাইরাস, লালন, ক্রিপটিকফেট, নেমেসিস, শিরোনামহীন ও শূন্য। আয়োজকরা জানান, এবার ৬০ হাজারের বেশি তরুণ-তরুণী এই আয়োজন সরাসরি স্টেডিয়াম থেকে উপভোগ করতে পারবেন। এছাড়া অনলাইনের মাধ্যমে এটি সরাসরি দেখা যাবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ