ঢাকা, মঙ্গলবার 07 March 2017, ২৩ ফাল্গুন ১৪২৩, ০৭ জমাদিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ট্রাম্পের মুসলিম নিষেধাজ্ঞায় বিদেশী পর্যটক হারাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

৬ মার্চ, রয়টার্স, ওয়াশিংটন পোস্ট : সাত মুসলিম দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্র সফরে ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দেশটির ট্রাভেল এজেন্সিগুলো। অথচ ওই নিষেধাজ্ঞার আগে নতুন বছরটা ভালোভাবেই শুরু হয়েছিল তাদের। গতকাল সোমবার ভ্রমণ বিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘ফরওয়ার্ড কিজ’ জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার আশঙ্কায় অনেকে যুক্তরাষ্ট্র সফর থেকে নিজেদের নিবৃত্ত রাখছেন।
দুনিয়াজুড়ে দিনে এক কোটি ৬০ ফ্লাইট রিজার্ভ নিয়ে পর্যালোচনা করে ফরওয়ার্ড কিজ। সংস্থাটি বলছে, মধ্যপ্রাচ্য থেকে যুক্তরাষ্ট্র যেতে আগ্রহী লোকজনের ওপর ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
ফরওয়ার্ড কিজ-এর প্রতিষ্ঠাতা অলিভার জাগের। এক বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, বিদ্যমান অনিশ্চয়তা এবং প্রেসিডেন্টের বাগাড়ম্বরপূর্ণ মন্তব্যের কারণে দৃশ্যত লোকজনকে যুক্তরাষ্ট্র সফর থেকে নিবৃত্ত রাখছে।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে ট্রাম্পের মুসলিম নিষেধাজ্ঞার পর আট দিনের মাথায় যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক ট্রাভেল সাড়ে ছয় শতাংশ কমে যায়। তবে আদালতের নিন্দেশে ট্রাম্পের ওই নিষেধাজ্ঞা স্থগিতের পর এটা কাটিয়ে উঠতে শুরু করে ট্রাভেল এজেন্সিগুলো। কিন্তু এর নয়দিনের মাথায় ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে ফের নতুন ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার পরিকল্পনার কথা বলা হলে আবারও কমে যায় আন্তর্জতিক ট্রাভেল সংখ্যা।
এ মুহূর্তে আগামী তিন মাসের জন্য দুনিয়ার নানা প্রান্ত থেকে যুক্তরাষ্ট্রমুখী যাত্রীদের যে পরিমাণ বুকিং রয়েছে; তা গতবছরের একই সময়ের চাইতে দশমিক ৪ শতাংশ কম। ফরওয়ার্ড কিজ-এর গবেষণায় দেখা গেছে, ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞার তিন সপ্তাহ আগে পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যমুখী মার্কিন নাগরিকদের সংখ্যা বেড়েছে ১২ শতাংশ। তব বহুল আলোচিত ওই নিষেধাজ্ঞা আরোপের চার সপ্তাহের মাথায় এটি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৭ শতাংশ কমে যায়। ট্রাভেল সার্চ বিষয়ক খ্যাতনামা ওয়েবসাইট কায়াক। তাদের হিসাবে, ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর ইউরোপ থেকে যুক্তরাষ্ট্রমুখী ফ্লাইট অনুসন্ধানের হার কমেছে ১২ শতাংশ।
ভ্রমণের পেছনে বিশ্বে সবচেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় করেন যে কয়েকটি দেশের নাগরিকরা সে তালিকায় থাকা জার্মানরা অবশ্য যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে পিছপা হননি। বরং জার্মানদের যুক্তরাষ্ট্রমুখী ফ্লাইট অনুসন্ধানের হার বেড়েছে ১০ শতাংশ।
 কাজ করানোর অভিযোগ : যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) এর হাতে আটক কয়েক হাজার অভিবাসীদের দিয়ে জোর করে কাজ করানো হচ্ছে বলে অভিযোগ ওঠেছে। আটক অভিবাসীদের দৈনিক মাত্র ১ ডলার বা একেবারেই বিনা মজুরিতে কাজ করানো হচ্ছে। যা দেশটির দাসত্ববিরোধী আইনের লঙ্ঘন।
সম্প্রতি দায়ের করা একটি মামলায় এসব দাবি করা হয়েছে। খবরে বলা হয়েছে, মামলাটি দায়ের করা হয়েছিল ২০১৪ সালে। যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহৎ একটি বেসরকারি কারাগার কোম্পানির বিরুদ্ধে এই মামলা দায়ের করা হয়েছিল। এই সপ্তাহে ফেডারেল বিচারক মামলাটির বিষয়ে রুল জারি করবেন। ফলে মামলাটি যুক্তরাষ্ট্রের আটক প্রায় ৬০ হাজার অভিবাসীর জন্য প্রযোজ্য হবে।
এই মামলাটি দায়ের করেছে কলোরাডোভিত্তিক অলাভজনক আইনি প্রতিষ্ঠান টুয়ার্ডস জাস্টিস। এ প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী পরিচালক নিনা ডিসালভো বলেন, ‘বিষয়টির গুরুত্ব অনেক বিশাল। এর অর্থ হলো সরকারের কাছ থেকে ঠিকাদারী নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি বন্দিদের জোরপূর্বক শ্রমে নিযুক্ত করছে।’
ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের ভারপ্রাপ্ত প্রেস সচিব জেনিফার ডি এলিজা বলেন, তিনি মামলা সম্পর্কে কোনও মন্তব্য করতে পারেন না, কারণ ‘আইসিই এই মামলার বিশেষ কোনও পক্ষ নয়।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ