ঢাকা, মঙ্গলবার 07 March 2017, ২৩ ফাল্গুন ১৪২৩, ০৭ জমাদিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

যে কারণে ইমেজের পালকটা খসে গেল

এক সময় বাংলাদেশে ছাত্রনেতাদের অনেক সম্মান ছিল। গ্রামেগঞ্জে এবং শহরেও বিচার-আচারের দায়িত্ব পালন করতেন ছাত্রনেতারা। গ্রামের মানুষ তো রীতিমতো অপেক্ষায় থাকতো কখন ছুটিছাটায় ছাত্রনেতারা গ্রামে আসবেন এবং বিরোধপূর্ণ বিষয়ে বিচার-ফয়সালা করে দেবেন। কিন্তু ছাত্রনেতাদের ইমেজের সেই পালকটা এভাবে খসে পড়লো কেমন করে? আসলে ছাত্রনেতারা যখন থেকে লেজুড়বৃত্তি গ্রহণ করেছে এবং ন্যায়ভ্রষ্ট হয়ে ভুল পথে গমন করেছে, তখন থেকেই শুরু হয়েছে ইমেজ ধসের পালা। এখন আর কেউ ছাত্রনেতাদের জন্য বিচারের অপেক্ষায় থাকে না বরং তাদের এড়িয়ে চলতেই চেষ্টা করেন সাধারণ মানুষ। কারণ ছাত্রনেতারা তো এখন ভয়ঙ্কর বস্তুতে পরিণত হয়েছে। তবে এখনও আদর্শনিষ্ঠ কিছু নীতিবান ছাত্রনেতা আছেন এরা ব্যতিক্রমের পর্যায় পড়েন।
বর্তমান সময়ের ভয়ঙ্কর ছাত্রনেতাদের একজন রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ সভাপতি মেহেদী হাসান শিশির। গত ৬ মার্চ তারিখে পত্রিকান্তরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয় : দুর্নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের গায়ে মাইকের ব্যাটারির এসিড ছুঁড়ে দেয়া, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, শিক্ষক লাঞ্ছনা, যৌন হয়রানি, ভর্তি বাণিজ্যের টাকা বাটোয়ারা, ফাও খাওয়া, ছাত্রী হলে জোর করে ঢোকাসহ বিভিন্ন আপত্তিকর কর্মকাণ্ডের কারণে এই ছাত্রলীগ নেতা সমাজে ভয়ঙ্কর মানুষ হিসেবে পরিচিত হয়েছে। এ ছাড়া পরীক্ষায় ধারাবাহিকভাবে অকৃতকার্য হওয়ার কারণে তার ছাত্রত্বও বাতিল করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সর্বশেষ ১ লাখ টাকা চাঁদা না দেয়ায় একটি কনফেকশনারির দোকানে হামলা ও লুটপাট করা নিয়ে ব্যবসায়ী ও তার সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে রক্তাক্ত হয়েছে উচ্চশিক্ষার এই বিদ্যাপিঠ। উল্লেখ্য যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ নেতা মেহেদী হাসান শিশির বর্তমানে শহীদ মোখতার এলাহী হলের ৬০৭ নম্বর রুমের আবাসিক ছাত্র। ছাত্রত্ব না থাকায় নিয়ম অনুযায়ী তার হলের সিটও বাতিল হওয়ার কথা। কিন্তু এখনও সেই বিষয়ে কোন পদক্ষে নেয়নি কর্তৃপক্ষ। বরং সেই রুমে থেকেই বিশ্ববিদ্যালয় এবং আশপাশের এলাকায় সমর্থকদের নিয়ে বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজ করে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। উল্লেখ্য যে, ২০১২ সালে ইংরেজি বিভাগের ছাত্র মেহেদী হাসান শিশির রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের সভাপতি হন। এর পরেই তার নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী চক্র গড়ে ওঠে ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকায়। সম্প্রতি এই ছাত্রনেতার ইয়াবা সেবনের ভিডিওচিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়।
এলাকাবাসী জানায়, মেহেদী হাসান শিশির একজন মেধাবী ছাত্র ছিল। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে রাজনীতির গড্ডালিকা প্রবাহে গা ভাসিয়ে দিয়ে এখন সে অপরাধী চক্রের নেতা হয়ে ওঠেছে। তাই প্রশ্ন জাগে, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর একজন মেধাবী ছাত্র এমন ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে কেমন করে? এর কারণ কি তথাকথিত রাজনীতি? এ বিষয়ে কোন ব্লেমগেম নয় বরং প্রয়োজন যথার্থ আত্মসমালোচনা। দেশের মানুষ আমাদের জাতীয় রাজনীতির ও ছাত্র রাজনীতির গলদগুলো জানেন। দেশ ও জনগণের কল্যাণের কথা বলা হলেও এখন আমাদের রাজনীতির মুখ্য বিষয় হয়ে উঠেছে ক্ষমতায় আরোহন। আর এ কাজে এখন যাচ্ছে তাইভাবে ব্যবহৃত হচ্ছেন ছাত্রনেতারা। আদর্শ-নিষ্ঠা ও ত্যাগ-তিতিক্ষার অভাবে যা হয় সেটাই এখন লক্ষ্য করা যাচ্ছে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ও ছাত্রদের ক্যাম্পাসে। এমন পরিস্থিতির আশু পরিবর্তন প্রয়োজন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ