ঢাকা, মঙ্গলবার 07 March 2017, ২৩ ফাল্গুন ১৪২৩, ০৭ জমাদিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

যখন আমি উড়তে চাই

মাকসুদা সাকী : অনার্স মাস্টার্স একসাথে করতে করতে ভালো বন্ধুত্ব তৈরি হয়েছে একটা মেয়ের সাথে। বন্ধুত্বের সূত্রপাত অবশ্য ক্লাস রোল পাশাপাশি থাকা। যাই হোক আমার বন্ধু অনন্যা (ছদ্মনাম) একটু অন্যরকম, অনেক বেশি নারী স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। এই স্বাধীনতার চরম অপব্যবহার আমি ওর পাশে থেকে দেখেছি। স্কুল লাইফ থেকেই নানারকম রিলেশন ছিল ওর। কলেজ লাইফে গিয়ে স্বাধীনতা বাধ ভেঙেছে ফলে যা হওয়ার তাই হয়েছে। বর্তমানে পড়াশুনা শেষ করে পূবালী ব্যংকে জব করছে কয়েকমাস হলো, কিন্তু জীবন শুরু করার সময়টাতেই যেন কেমন ঝিমিয়ে পড়েছে। যখন ওর সাথে কথা হয় তখন বুঝি ওর ভেতরটা কত ফাঁকা, হৃদয়টা ওর কত হাহাকার করছে যেন সবকিছু থেকেও নেই। কারণ অনন্যা উড়তে চেয়েছিলো, এখন আরো উড়তে চায় কিন্তু কোথায়?
হ্যাঁ, আমরা অনেকেই অজানা লক্ষ্যপানে উড়তে চাই যদিও আমাদের কোন পাখা নাই। তবে এই উড়ে যাওয়ার আকাক্সক্ষা হঠাৎ করেই তৈরি হয়নি একটু একটু করে তৈরি করা হয়েছে যার নাম দেয়া হয়েছে নারী মুক্তি আন্দোলন, নারী অধিকার সংরক্ষণ, প্রগতি ইত্যাদি নামে। নাম যাই হোক না কেন সবাই ভিন্ন ভিন্ন ডাক্তারের নামে একই প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ওষুধ দিচ্ছে, খাচ্ছে ও খাওয়াচ্ছে।
মূল কথায় আসি,  বর্তমান সময়ের বাংলাদেশ প্রেক্ষাপটে নারী   স্বাধীনতার এদিক সেদিক করলেই আপনার নজরে আসবে আসলে ওরা কি চায়? কিভাবে চায়? কেন চায়? কারা তাদের ইন্ধন দিচ্ছে?
নারীবাদীদের মূলকথা হলো নারী ক্ষমতায়ন অর্থাৎ ওরা চায় সিদ্ধান্ত নেয়া, হুকুম দেয়া,  আনুগত্য আদায় করা সহ নারীদের সবরকমের কর্তৃত্ব ও স্বাধীন বিচরন ক্ষমতা। অবশ্যই এই পথ মসৃণ হবে না আর তা জেনেই নানা পন্থার আবিষ্কার। আর এ সব পথ পন্থা ধরে চলতে গিয়ে ভাঙছে পরিবার, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সমাজ তথায় রাষ্ট্র। ওরা নারীকে বোঝাচ্ছে তুমি ঘরে থেকে তোমার অধিকার আদায় করতে পারবে না,  তুমি শালীন পোশাকে নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারবে না, তুমি কিছু একটা কর...
নারীদের এই রাস্তায় চলতে ইন্ধন দিচ্ছে কিছু স্বার্থ অন্বেষন কারী পুরুষ। এই সব পুরুষের মূল উদ্দেশ্য নারী স্বাধীনতার নামে নারীদের ঘর থেকে বের করা যাতে নারীদের ভোগ করা সহজলভ্য হয়।
বাইরের অধিকার আদায় করতে গিয়ে এরা নিজেদের পাওয়া অধিকারগুলো হারায় এর ফলে একজন নারী যিনি ছিলেন সভ্যতার প্রধান ভিত্তি পরিবারের মূল সদস্য, একজন স্ত্রী, মা, কন্যা, পুত্রবধু কিংবা পরিবারের সবচেয়ে বয়োজ্যেষ্টা দাদী হিসেবে বহুমুখী ভুমিকার অধিকারীনী, সেই ব্যক্তি তাঁর এতসব অধিকার বা ক্ষমতা নিমিষেই হারিয়ে ফেলছেন। নারী স্বাধীনতা ভোগ করতে যেয়েই জীবনের কাছে প্রতি পদে পদে পরাজিত হচ্ছেন তারা।
শুরু করেছিলাম আমার বন্ধু অনন্যার ঘটনা দিয়ে,  হ্যাঁ ওকে বলেছিলাম বিয়ে করছো না কেন? ও বলেছিলো - সময় কোথায়? এর আড়ালে যে উত্তর সেটা হলো পরাধীনতার শৃঙ্খলে এখনি জড়াতে চাইছি না। কিন্তু এই স্বাধীনতার মোহে চলতে গিয়েই নিজেদের হারিয়ে ফেলছে ওরা।
নারীবাদীদের মূল থিম আসছে পাশ্চাত্য থেকে। আমাদের দেশের মহিলারা যখন পাশ্চাত্য কালচার আমদানী করতে চান তখন এ বিষয়গুলো ভেবে দেখলে কি ভালো হয় না যে সুখ কোথায়, ঘরে না বাইরে? এই সেদিন ও একটি সমীক্ষায় ৫৪ ভাগ মার্কিন নারী বলেছেন তারা তাদের স্বামীদের তুলনায় কুকুরকে ভালোবাসেন। আমরাও কি সেটাই চাই? আর্নল্ড  সোয়েরজনেগার একসময় যৌন স্বাধীনতায় বিশ্বাসী ভোগ সুখবাদী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। কিন্তু তিনি ই যখন কালিফোর্নিয়ার গভর্নর হলেন তখন বলেন- “I wouldn’t want to have some one take my daughter to a hospital for an abortion or something and not tell me. I would kill him if they do that.”
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাথলিক গীর্জাসমুহের ফেডারেশন থেকে ফ্যামিলি নামে একটি ম্যাগাজিন বের হয় যার মূল কথা পারিবারিক মূল্যবোধ ফিরিয়ে দাও, আমরা সুখে থাকতে চাই। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবীণ চিকিৎসক এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন - “My own feeling is that we have pushed women too far.  we have split them in two and we have not given them back anything to support themselves on either end. I just think our country is in deep deep trouble.”
আমার এই লেখার মূল উদ্দেশ্য মেয়েদের ঘরে বন্দী করা নয়, আমরা সেটা কখন ই চাই না,  ইসলাম ও এটা চায় না।  যদি তাই হত তবে পর্দার কথা উল্লেখের ই প্রয়োজন ছিলনা। আমরা চাই নারী স্বাধীনতার নামে মেয়েদের উশৃঙ্খলা  বন্ধ হোক। আমরা বিশ্বাস করি যে হাত দোলনা দোলায় সে  হাত দুনিয়া শাসন করে এবং এ প্রেক্ষিতে মায়ের ভূমিকাকে অক্ষুণœ রেখে মহিলাদের পেশা নির্বাচন করা। কর্মক্ষেত্রে এবং সামাজিক অজ্ঞনে অবাধ মেলামেশা বন্ধ হোক তবেই রোধ করা যাবে পারিবারিক ভাঙন। আমি উড়তে চাই তবে আমার চেনা আকাশেই অন্যথায় যে হারিয়ে যাবার ভয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ