ঢাকা, মঙ্গলবার 07 March 2017, ২৩ ফাল্গুন ১৪২৩, ০৭ জমাদিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ছড়া/কবিতা

আবার একুশ চাই
আতিয়া রহমান

রক্তচূড়ার লাল রং দেখনি?
তার চেয়েও গাঢ় তাওহীদের লাল খুন
রুদ্ধ করেছো যার প্রকাশের ভাষা
অনুভবে তার জ্বালিয়েছো আগুন

ফাগুনের রঙে আনন্দে রাঙ্গিনি
আত্মত্যাগেই পেয়েছি অমরত্ব
শত জালিমের আঘাত এসেছে
তাতে কি?
আঘাতে আঘাতে ভীত গড়েছি শক্ত

রাষ্ট্রভাষা! রাষ্ট্রভাষা! - ‘বাংলা’-
ধ্বনিতে কেঁপেছে একুশের রাজপথ
বারুদের গন্ধ ভেসেছে বাতাসে
তবুও কি তাতে ...
থমকে গিয়েছি, অথবা হয়েছি শ্লথ?

মিছিলের পর মিছিল করেছে লাশেরা
মিথ্যার মগজ করেছে চূর্ণ
সত্য কখনো পরাজয় জানে না
সত্যের তরে আত্মত্যাগেই পূণ্য


এসো সোনালী দিগন্তে
হাবিবা বিনতে নুরুন্নবী

ছুটে চলো দুর্নিবার
হেরার পথ সাহারার
চলতেই হবে আজ মুক্তি পানে
কে আছো রক্তিম লুণ্ঠিত পতাকা উড়াবার?
বিভীষিকার ক্রুর হাসিতে
দমবেনা যে আজ
অগ্রপথিক হয়ে মুক্তির নেশাতে
ঘুচবে গগনসম আধার...
স্নিগ্ধ হাসি যার ওষ্ঠে ফোটবে
চরম মৃত্যু কষ্টে
হয় লড়বে নয় মরবে
চাইবেনা কভু ফিরে...
কঙ্কর,কাটাসজ্জিত পথে যে
চলবে, সইবে অবিরত
বুক তার বিজয় স্বপ্নমাখা
চোখ শুধু লক্ষ্যপানে...
আজ সময় এসেছে গর্জে উঠার
কড়াঘাত করি বিবেকের দ্বারে
কে আছো এমন এসো হে নবীন
এসো সোনালী দিগন্তে...
ক্ষণিকের খুশি, হাসিমাখা দিন
 কে দেবে বিসর্জন? হকের পথে লড়বে কারা
দলিত করে বাতিল?
এসো মুক্তির ঝাণ্ডাতলে
শপথ করি হাতে হাত রেখে কালের নকিবরা এসো জড়ো হই।


একুশ
তানজিলুল হাসিন

শত অমানিশার মধ্য দিয়ে হলো একুশের সূচনা,
যার জন্য শেষ হলো ঐ করালগ্রাসীদের প্রবঞ্চনা।

শত স্বপ্নের, শত আকাক্সক্ষার এই বাংলা মোর বুলি,
সেই যে ঐ কুকুরের দল নিতে চেয়েছিল তুলি।

ওদের থামাতে মোর ভাইয়েরা প্রাণ যে করল উৎসর্গ,
যার বিনিময়ে ফিরে পেয়েছি মোদের বাংলা ভাষার স্বর্গ।

হয়তো বা আজ এই বাংলার মাঠ থাকতো না সবুজ ভরা,
কলুষমুক্ত এই বাকশক্তি পেয়ে হইতাম না দিশেহারা।

কিন্তু এই সাহসী বাঙালিরা
                  ওদের মুখে মোহর দিয়েছে এঁটে,
তাইতো মোরা সুখে প্রান পাই, এই বাংলা ভাষার স্রোতে।

এই ভাষা যে মোদের কতটা প্রিয় প্রমাণ দিয়েছি তারি,
শত শত প্রাণ দিয়েছি মোরা, সম্ভ্রম দিয়েছি শত নারী।

একুশ হলো এই বাঙালির প্রহাস ফোটা ফুল,
যার জন্য মোরা ভেঙেছি বাধা, খুঁজে পেয়েছি কূল।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ