ঢাকা, মঙ্গলবার 07 March 2017, ২৩ ফাল্গুন ১৪২৩, ০৭ জমাদিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

মোবাইলে পর্ণোগ্রাফি যুব পরিবেশ কলুষিত

মাধবদী (নরসিংদী) সংবাদদাতা: মোবাইল ফোনে পর্নোগ্রাফি প্রদর্শনে বিপথগামী হয়ে পড়েছে মাধবদীর স্কুল কলেজের ছেলে-মেয়েরা। এতে এলাকার অসংখ্য কিশোর কিশোরীর ভবিষ্যৎ অন্ধকারে ঢেকে পড়ছে। তথ্য প্রযুক্তির দিক থেকে কম্পিউটার ল্যাপটপ ও ইন্টারনেটের মাধ্যমে গোটা বিশ্বটা যেন মানুষের হাতের মুঠোয় চলে এসেছে। সম্প্রতি নতুন করে যোগ হওয়া ওয়াইফাই নামক ইন্টারনেট সংযোগ এখন মাধবদীর প্রতিটি ঘরে ঘরে পৌছে যাওয়ায় কিশোর কিশোরী ও যুবক যুবতীদের কাছে ইন্টারনেট ব্যবহার আরো সহজ হয়ে উঠেছে। দেশের প্রতিটি জেলা-উপজেলার ন্যায় নরসিংদী সদর উপজেলার মাধবদী থানার প্রতিটি ঘরে ঘরে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার শুরু করা হয়েছে। মাধবদী থানার বিভিন্ন গ্রাম-গঞ্জে হাটে বাজারে কম্পিউটার দোকানে ইন্টারনেট ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়া এখন সবার হাতে হাতে এন্ডুরেয়ট মোবাইল ফোন রয়েছে। আর এই এন্ডুরেয়ট ভিডিও মোবাইল ফোনে ইন্টারনেট ব্যবহার করা এখন অনেক সহজ হয়ে গেছে। মাধবদী পৌরশহরের বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে অশিক্ষিত রিক্সা চালকরাও সহজলভ্য এই ভিডিও মোবাইল ফোন ব্যবহার করছে এতে ইন্টারনেট কিনে নিয়ে অশ্লীল ছবি দেখে যাচ্ছে পরে রাস্তা দিয়ে চলাচলরত নারী, কিশোরী ও স্কুলগামী ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করছে যাচ্ছে যা ইভটিজিংয়ের মধ্যে পড়ে। কিছুদিন আগে মাধবদীতে কয়েকজন রিক্সাচালক গরুর হাটের মোড়ে বসে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে অশ্লীল ছবি দেখে এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী বাসস্ট্যান্ড থেকে এক যুবতী যাত্রীকে রিক্সায় করে নির্জন স্থানে নিয়ে ৫/৬ জন মিলে ঐ এক সন্তানের জননীকে রাতভর পালাক্রমে ধর্ষণ করে সকালে অজ্ঞান অবস্থায় রাস্তা ফেলে রাখে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সেই গৃহবধূ লজ্জায় আত্মহত্যা করে।  ভিডিও মোবাইল ফোনে পর্নোগ্রাফি ছবি দেখে সামাজিক অবস্থা ভেঙ্গে পড়ছে। বিপথগামী হয়ে পড়ছে অপ্রাপ্ত বয়সের ছাত্র/ছাত্রীরা। সমাজের কিছু বখাটে ছেলে বা ছাত্র ভিডিও মোবাইলে এসব অশ্লীল ছবি ধারণ করে কচি মেয়েদের দেখিয়ে তাদের প্রেমের ফাঁদে ফেলার চেষ্টা করে। অনেকেই এই ফাঁদে আটকা পড়ে কোমলমতি মন প্রেমের বিরহ বেদনায় নিজের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পারিবারিক চাপে কেউ কেউ আত্মহত্যা করে। আবার অধিকাংশ ছেলে-মেয়েদের অপ্রাপ্ত বয়সে বিয়ের পিঁড়িতে বসতে হচ্ছে। সংসার জীবন বুঝে ওঠার আগে প্রেমের প্রণোদনায় বিয়ের স্বাদ গ্রহণ করলেও অতি অল্প সময়ের মধ্যে এদের দাম্পত্য জীবনে বিচ্ছেদ ঘটে। আবার কেউ কেউ আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। বিশেষ করে হাইস্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের জীবনে এই দুর্ঘটনার শিকার হয় বেশি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মাধবদীর একজন কম্পিউটার দোকানী জানান, ইন্টারনেট থেকে দেশী বিদেশী এসব পর্নোগ্রাফি ছবি ডাউনলোড দিয়ে কম্পিউটারে ধারণ করে রাখে। গ্রাহকদের চাহিদার ভিত্তিতে ভিডিও মোবাইলে লোড দেয়া হয়। মাধবদীসহ সদর উপজেলার প্রায় শতভাগ ভিডিও মোবাইলে এই পর্নোগ্রাফি ভিডিও চিত্র রয়েছে। যুব সম্প্রদায় থেকে শুরু করে আবালবৃদ্ধবণিতা এই ভিডিও চিত্র উপভোগ করছে। এরা বিনোদন হিসাবে দেখলেও বিপদগামী হয়ে পড়ছে স্কুল কলেজের ছাত্র/ছাত্রীরা। মাধবদীসহ এর আশপাশের এলাকাগুলোতে কিছু অসাধু প্রেমিক প্রেমের ফাঁদে ফেলে অশ্লীল চিত্র মোবাইলে ধারণ করা এবং পরে ইন্টারনেটে ছেড়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগও রয়েছে। এ ব্যাপারে মাধবদী থানার ওসি (তদন্ত) আবুল কালামের সাথে আলাপ কালে তিনি প্রতিবেদককে বলেন, আমাদের সমাজের জন্য এটি একটি মারাত্মক ব্যাধি এটা সমাজ তথা কিশোর যুবকদের মাদকের মতো গ্রাস করছে। এ থেকে বাঁচতে হলে অভিভাবক সহ আমাদের অবশ্যই সজাগ দৃষ্টি দিতে হবে। অনেক অভিভাবকরাই তাদের মান সম্মানের ভয়ে আমাদের কাছে মামলা নিয়ে আসছেননা। এব্যাপারে কেউ ধরা পরলে কাউকে ছাড় দেয়া হবেনা বলেও তিনি জানান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ