ঢাকা, মঙ্গলবার 07 March 2017, ২৩ ফাল্গুন ১৪২৩, ০৭ জমাদিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

পরপর ৪টি শিশু খুন হওয়ায় জনমনে উদ্বেগ

কামরুল ইসলাম, পাবনা থেকে : পাবনার আতাইকুলা থানায় প্রায় ১৩ মাসের ব্যবধানে পর পর ৪টি অবুঝ শিশু খুন হয়েছে। যাদের বয়স সাড়ে ৪বছর থেকে ১৫ বছরের মধ্যে। ঘাতকরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথা সহ বিভিন্ন স্থানে কুপিয়ে নৃশংস ভাবে হত্যা করে তাদের।
পুলিশ চারটি মামলার একটির চার্জসীট আদালতে জমা দিলেও বাদী পক্ষ তাতে নারাজী আবেদন করেছে।
গত ২ ফেব্রুয়ারী বৃহস্পতিবার রাতে সাঁথিয়া উপজেলার শোলাবাড়িয়া গ্রামের ইমরান হোসেন বাবুর ছেলে ও আতাইকুলা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণির ছাত্র শাহরিয়ার হাসান অভি (১৩) কে নির্মম ভাবে হত্যা করে পার্শ¦বর্তী প্রতিপক্ষ। তারা পরে অভির লাশ পাবনা-ঢাকা মহাসড়কের পাশে শোলাবাড়িয়া মাঠের মধ্যে ফেলে রেখে যায়।  পরিবারের পক্ষ থেকে আতাইকুলা থানায় মামলা করা হলে  পুলিশ ৫ আসামীকে আটক করে আদালতে প্রেরণ করে।
গত ১৯ ফেব্রুয়ারি সাঁথিয়ার ভুলবাড়িয়া ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর  গ্রামের নরুল ইসলামের ছেলে জহুরুল (১৪) নামের কিশোর খুন হয়। ওই দিন দুপুরে কৃষ্ণপুর গ্রামের মাঠে গম ক্ষেতে স্থানীয়রা লাশ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করে। ক্ষেতের মধ্যে লাশের গলায় ধারালো অস্ত্রের  দাগ থাকলেও রক্ত পাওয়া যায়নি ঘটনাস্থলে। যার কারণে এ হত্যা রহস্য ক্রমেই ঘনীভূত হয়। এ ব্যাপারে নিহত জহুরুলের মা বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামী করে থানায় মামলা দায়ের করেন। পুলিশ একই গ্রামের আফাজের ছেলে পাশানকে আটক করে জেল হাজতে প্রেরণ করেন। এদিকে আতাইকুলা থানার আলোকচর গ্রামের ইসমাইল হোসেনের ছেলে সাফিউল্লাহ(৪) এর  লাশ প্রতিবেশী খোরশেদ আলম মাস্টারের বাড়ীর পিছনের পুকুর থেকে ভাসমান অবস্থায় দেখতে পায় এলাকাবাসী। ময়না তদন্ত ছাড়াই সাফিঊল্লাহর লাশ দাফন করা হয়। কিছুদিন পরেই খোরশেদ আলম মাস্টারের পুকুর পাড়ে বাঁশ ঝাঁড়ে মাটিতে পুঁতে রাখা শিশু সাফিউল্লাহ ব্যবহার করা স্যান্ডেল পাওয়া যায়। এতে সফিউল্লাহকে হত্যা করা হয়েছিল বলে সন্দেহ ঘনীভূত হয়। এ ব্যাপারে চাচা মিজানুর রহমান বাদী হয়ে প্রতিবেশী মোখলেছুর রহমানকে প্রধান আসামী করে আতাইকুলা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। কয়েক মাস পরে শিশু সফিউল্লাহর লাশ কবর থেকে উত্তোলন করে ডিএনএ টেস্টের জন্য ঢাকা পাঠানো হয়।
অপর দিকে ২০১৬ সালের ১১ ডিসেম্বর রাতে থানার মধুপুর গ্রামের বেলালের ছেলে শাকিল (১৫) ও আতাইকুলা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র কে হত্যা করে সহপাঠীরা। পুলিশ মোবাইলে কথা বলার সূত্র ধরে টুটুল নামে একজনকে আটক করে। পরে তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী সাব্বির,ও শাওনকে আসামী করে মামলা করে শাকিলের বাবা বেলাল ।
আতাইকুলা থানা পুলিশ এ মামলার চার্জসীট আদালতে জমা দিলে তাতে নারাজী আবেদন করেন বাদী। বাদীর অভিযোগ পুলিশ মূল আসামীদের এজাহার থেকে বাদ দিয়ে চার্জসীট জমা দিয়েছে। আতাইকুলা থানার ওসি আব্দুল রাজ্জাক জানান, হত্যায় জড়িতদের গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে। পরিবার যাতে ন্যায় বিচার পায় সেদিকে দৃষ্টি রেখে তদন্ত কাজ এগিয়ে চলছে।  পরপর ৪টি শিশু খুন হওয়ায় উদ্বেগ-উৎকন্ঠায় মধ্যে রয়েছে এলাকাবাসী ও তার পরিবারবর্গ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ