ঢাকা, মঙ্গলবার 07 March 2017, ২৩ ফাল্গুন ১৪২৩, ০৭ জমাদিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

হাজারীবাগের সব ট্যানারি বন্ধের নির্দেশ

স্টাফ রিপোর্টার : রাজধানীর হাজারীবাগের সকল ট্যানারি কারখানা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এছাড়া এসব কারখানার বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করাসহ সকল সুযোগ সুবিধা বন্ধ করারও নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে ট্যানারি বন্ধের এই নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। আর এ কাজে তাকে সহযোগিতা দিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে স্বরাষ্ট্র সচিব, শিল্প সচিব, পুলিশের আইজি ও ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনারকে।
বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) একটি আবেদনের শুনানি শেষে গতকাল সোমবার বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ এবং বিচারপতি মো. সেলিম সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে ট্যানারি কারখানা সরিয়ে নিতে সরকারের বেঁধে দেয়া সময়সীমার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে বেলা আবেদনটি করে।
আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী রইস উদ্দিন।
জানা গেছে, এক রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০০১ সালে ট্যানারি কারাখানা হাজারীবাগ থেকে সরিয়ে নিতে নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। ওই আদেশ বাস্তবায়িত না হওয়ায় ২০১০ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে হাজারীবাগের ট্যানারি অন্যত্র সরিয়ে নিতে ২০০৯ সালের ২৩ জুন হাইকোর্ট ফের নির্দেশ দেন। সরকারপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে পরে ওই সময়সীমা কয়েক দফা বাড়িয়ে ২০১১ সালের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত করা হয়। এরপরও ওই এলাকা থেকে ট্যানারি কারখানা সরিয়ে নেয়া হয়নি।
পরে শিল্প মন্ত্রণালয় থেকে নতুন করে জানানো হয়, ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে হাজারীবাগ থেকে যেসব ট্যানারি স্থানান্তর করা হবে না, আগামী ১ মার্চ থেকে ওইসব ট্যানারির গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ লাইন বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হবে।
আইনজীবী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, আদালতের নির্দেশ ও সরকারের তাগাদার পরও যেসব ট্যানারি হাজারীবাগ থেকে সাভারে স্থানান্তরিত হয়নি সেগুলো অবিলম্বে বন্ধ করে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
তিনি বলেন, আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে সরকার আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত সময়সীমা বৃদ্ধি করেছে। সরকার এ ক্ষেত্রে সময়সীমা বাড়াতে পারে না। আমাদের আবেদনের উদ্দেশ্য ছিল সরকারের ওই সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করা।
চারদিন আগে গত ২ মার্চ হাজারীবাগের ১৫৪টি ট্যানারি প্রতিষ্ঠানের কাছে জরিমানা বাবদ পাওনা ৩০ কোটি ৮৫ লাখ টাকা আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
বিচারপতি আশফাকুল ইসলাম ও বিচারপতি আশীষ রঞ্জন দাস সমন্বয়ে হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।
আপিল বিভাগের নির্দেশ সত্ত্বেও হাজারীবাগের ট্যানারি মালিকদের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণের অর্থ আদায়ে ব্যর্থতার বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে গত ২৫ জানুয়ারি শিল্প সচিব মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়াকে তলব করেছিলেন হাইকোর্ট। ১৩ ফেব্রুয়ারি সচিব আদালতকে জানান, ট্যানারিগুলোর বকেয়া জরিমানার পরিমাণ ৩০ কোটি ৮৫ লাখ। এরপর আদালত বকেয়া ওই টাকা দুই সপ্তাহের মধ্যে পরিশোধ করার নির্দেশ দেন।
২০১৬ সালের ১৮ জুলাই ১৫৪ ট্যানারি কারখানাকে দৈনিক ৫০ হাজার টাকা জরিমানা থেকে কমিয়ে ১০ হাজার টাকা নির্ধারণ করে দেয় আপিল বিভাগ। এর আগে গত ১৬ জুন হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ ১৫৪টি ট্যানারি কারখানাকে প্রতিদিন ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ