ঢাকা, মঙ্গলবার 07 March 2017, ২৩ ফাল্গুন ১৪২৩, ০৭ জমাদিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

মেহেরপুরে দুই ব্যবসায়ীকে গলাকেটে হত্যা

মেহেরপুর সাংবাদদাতা : মেহেরপুরের সোনাপুর গ্রামের দুই ব্যবসায়ীকে অপহরণ পুর্বক গলাকেটে হত্যা করেছে চাঁদাবাজরা। দাবিকৃত চাঁদা পরিশোধ না করায় তাদেরকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানায় পরিবার। গত রোববার রাতে গ্রামের একটি চায়ের দোকান থেকে তাদেরক অপহরণের পর গতকাল দুপুরে গ্রামের মাঠ থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতরা হচ্ছেন- সদর উপজেলার সোনপুর গ্রামের মৃত আব্দুল জলিলের ছেলে কাঠ ব্যবসায়ী আব্দুল মজিদ (৫৫) ও একই গ্রামের তাফছুদ্দীনের ছেলে পোল্ট্রি ব্যবসায়ী আসাদুল ইসলাম (৫০)। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতরাত পৌনে এগারটার দিকে গ্রামের মজনু মিয়ার চায়ের দোকানে চা পান করছিলেন নিহত দুজনসহ গ্রামের কয়েকজন। এ সময় ১০/১২ জন অস্ত্রধারী তাদের তুলে নিয়ে যায়। মজিদ ও আসাদুলের পরিবারের কাছে মোবাইলে ফোনে মুক্তিপণ হিসেবে ১০ লক্ষ টাকা দাবি করে চাঁদাবাজরা। কিন্তু পরিবারের পক্ষে এত টাকা জোগাড় করা সম্ভব হয়নি। গতকাল সোমবার দুপুরে স্থানীয় কৃষকরা মাঠে কাজ করার সময় একটি তামাক ক্ষেতে মজিদ ও আসাদুলের গলাকাটা লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয়। ঘটনার সতত্যা নিশ্চিত করে সদর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল বাহার চৌধুরী জানান, লাশ ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হচ্ছে। চাঁদার দাবিতে হত্যাকা- নাকি অন্য কিছু তা তিনি এখনো স্পষ্ট নন। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারে মাঠে নেমেছে পুলিশ।
মুজিবনগরে পুলিশের তাড়া খেয়ে পানিতে ডুবে মৃত্যু : মেহেরপুরের মুজিবনগরে পুলিশের তাড়া খেয়ে পানিতে ডুবে আলমগীর হোসেন (৪৫) নামের এক ফল ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে। গত রোববার রাত সাড়ে নয়টার দিকে মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলার রসিকপুর গ্রামে ভৈরব নদীতে ঝাপিয়ে পড়ার পর গতকাল সোমবার সকালে আলমগীরের লাশ ভেসে ওঠে। তার মৃত্যুর জন্য পুলিশকে দায়ী করছেন স্থানীয়রা। 
আলমগীর হোসেন রসিকপুর গ্রামের আনিছুর রহমানের বিয়াই। তিনি ঢাকার একজন ফল ব্যবসায়ী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েকদিন থেকে আলমগীর হোসেন ব্যবসায়ীক কাজে ওই গ্রামে বেয়াই বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। সোমবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে গ্রামের মোতালেব হোসেনের চায়ের দোকানে বসে তাস খেলা দেখছিলেন। এসময় মুজিবনগর থানা পুলিশের একটি দল ধাওয়া দেয়। তাস খেলোয়াড়সহ দোকানে বসে থাকা লোকজন দৌঁড়ে পালানোর চেষ্টা করে। এর মধ্যে আলমগীর হোসেনসহ কয়েকজন পাশের ভৈরব নদীতে ঝাপ দেয়। নদী থেকে দুজনকে আটক করে পুলিশ । কিন্তু আলমগীরে হদিস মেলেনি। পরে গতকাল সকালে তার লাশ নদীতে ভেসে ওঠে।
আলমগীরের বিয়াই আনিছুর খাঁ ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, নদী থেকে তাদের আটক করার চেষ্টাকালে পুলিশ সেখানে কাউকে যেতে দেয়নি। আলমগীর হয়তো সাঁতার জানতেন না। এ কারণে পানিতে ডুবে তার মৃত্যু হয়েছে। তার মৃত্যুর জন্য পুলিশকে দায়ী করছেন স্থানীয়রা।
এদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে মুজিবনগর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী কামাল হোসেন জানান, ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি তদন্ত করে বলতে পারবো। লাশ পুলিশ হেফাজতে রয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ