ঢাকা, মঙ্গলবার 07 March 2017, ২৩ ফাল্গুন ১৪২৩, ০৭ জমাদিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

আগামী দুই তিন বছরের মধ্যেই উত্তরায় সরকারি জমি বরাদ্দ পাবে বিজিএমইএ -বাণিজ্যমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার : আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যেই উত্তরায় নিজস্ব জমিতে বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) ভবন করতে পারবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। তিনি বলেছেন, বিজিএমইএকে সরকারিভাবেই জমি বরাদ্দ দেয়া হবে।
গতকাল সোমবার সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতিকে (বিজিএমইএ) উত্তরায় অফিস ভবন করার জন্য জমি দেওয়া হবে। সরকারিভাবে বরাদ্দ দেয়া উত্তরায় সেই জমিতে আগামী দুই তিন বছরের মধ্যেই তারা নিজেদের অফিস ভবন নির্মাণ করতে পারবে।
গতকাল সোমবার সচিবালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত কাতারের রাষ্ট্রদূত আহমেদ মোহম্মেদ আল বিয়াইমির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, আদালতের এ রায়ে ভবন ভাঙার সিদ্ধান্তের সঙ্গে শ্রমিকদের কোনো সম্পর্ক নেই। কাজেই শ্রমিক অসন্তোষের কোনো প্রশ্নই ওঠে না। সর্বোচ্চ আদালতের সিদ্ধান্ত সবাইকে মানতে হবে।
উল্লেখ্য রাজধানীর হাতিরঝিলে বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) ভবন ভেঙে ফেলার প্রতিবন্ধকতা ‘বিজিএমইএ এর এই সংক্রান্ত রিভিউ আবেদন’ খারিজ করে দিয়েছে হাইকোর্ট।
বিজিএমইএ ভবন অন্যত্র সরাতে কত দিন সময় লাগবে, তা জানিয়ে আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে একটি আবেদন দিতে বলেছে আদালত। তাই কত দিনের মধ্যে ভবনটি ভেঙে ফেলতে হবে সে বিষয়ে আদেশ হবে ওই দিনই।
এই রায়ের প্রতিক্রিয়ায় বিজিএমইএ সাবেক সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেন, বিজিএমইএ- এর নতুন ভবন নির্মাণের জন্য উত্তরা এবং পূর্বাচলে প্লট দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, আমরা সিরিয়াসলি প্লট দেখছি। আমাদের বিজিএমইএ নেতারা এ বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে। উত্তরা এবং পূর্বাচলে জমি দেখছেন তারা।
উল্লেখ, রাজউকের অনুমোদন ছাড়া বিজিএমইএ ভবন নির্মাণ করা নিয়ে ২০১০ সালের ২ অক্টোবর একটি জাতীয় দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনটি আদালতের নজরে আনেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ডি.এইচ.এম. মুনিরউদ্দিন। প্রাথমিক শুনানি নিয়ে একই বছরের ৩ অক্টোবর স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে রুল জারি করে হাইকোর্ট। রুল বিজিএমইএ ভবন ভাঙার নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না- তা জানতে চাওয়া হয়।
২০১১ সালের ৩ এপ্রিল রুলের চূড়ান্ত শুনানি নিয়ে বিজিএমইএ ভবন অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেয় হাইকোর্ট। হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করে বিজিএমইএ কর্তৃপক্ষ। এই লিভ টু আপিল খারিজ করে গত বছরের ২ জুন রায় ঘোষণা করেন আপিল বিভাগ।
প্রকাশিত পূর্ণাঙ্গ রায়ে বলা হয়, ‘বেগুনবাড়ি খাল’ ও ‘হাতিরঝিল’ জলাভূমিতে অবস্থিত ‘বিজিএমইএ কমপ্লেক্স’ নামের ভবনটি নিজ খরচে অবিলম্বে ভাঙতে আবেদনকারীকে (বিজিএমইএ) নির্দেশ দেওয়া যাচ্ছে। এতে ব্যর্থ হলে রায়ের কপি হাতে পাওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে ভবনটি ভেঙে ফেলতে নির্দেশ দেওয়া হলো। এ ক্ষেত্রে ভবন ভাঙার খরচা আবেদনকারীর (বিজিএমইএ) কাছ থেকে আদায় করবে তারা। এই রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে আবেদন করে বিজিএমইএ। এই আবেদনও শেষ পর্যন্ত খারিজ হলো।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ