ঢাকা, মঙ্গলবার 07 March 2017, ২৩ ফাল্গুন ১৪২৩, ০৭ জমাদিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ডুমুরিয়ায় মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার ও হয়রানির প্রতিবাদে সাংবাদিক সম্মেলন

খুলনা অফিস: খুলনার ডুমুরিয়া গ্রাম্য রাজনীতির শিকার হয়ে মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন ডুমুরিয়ার বৈঠাহারা গ্রামের মৎস্য ঘের ব্যবসায়ী আনন্দ মন্ডল। তার মুক্তির দাবি জানিয়ে স্ত্রী চপলা মন্ডল শনিবার খুলনা প্রেসক্লাবে এক সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন।
সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, তার স্বামী একজন মৎস্য ঘের ব্যবসায়ী। এলাকার গ্রাম্য রাজনীতির শিকার হয়ে আজ তার স্বামী একাধিক মামলার আসামী। নির্বাচনে একটি পক্ষকে সমর্থন না দেয়ায় ওই পক্ষটি ক্ষিপ্ত হয়ে একের পর এক মামলা দিয়ে তার স্বামীকে হয়রানী করছে। তিনি আরো বলেন, তাদের বাড়ী খুলনা ও সাতক্ষীরার সীমান্ত এলাকায়।
অর্থ্যাৎ বৈঠাহারা গ্রামটি হচ্ছে ডুমুরিয়া উপজেলার শেষ প্রান্তে। এই গ্রামের পরই সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলা শুরু। ফলে এ অঞ্চলের মানুষের যোগাযোগটি সবচাইতে বেশী তালা এলাকাবাসীর সাথে। তার স্বামী আনন্দ মন্ডল সারাদিন কাজ করার পর তালা এলাকায় আড্ডা দিতো। ফলে সঙ্গত কারণেই সে ওই এলাকার গ্রাম্য রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়ে।
গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তার স্বামী বর্তমান নির্বাচিত খলিলনগর ইউপি চেয়ারম্যানের পক্ষে কাজ করে। ওই সময় প্রতিপক্ষের সমর্থকরা তার স্বামীকে নানাভাবে হুমকি-ধামকি প্রদান করে। নির্বাচনের পর ওই গ্রুপটি তার স্বামীর বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা মামলায় হয়রানী করতে থাকে।
গত ১ মার্চ বুধবার গভীর রাতে তালা থানা পুলিশ বাড়ীতে এসে তার স্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদ করার নামে থানায় নিয়ে যায়। সেখানে সারারাত রাখার পর দুপুরে একটি ডাকাতি মামলায় (তালা থানার মামলা নং-১, তারিখ ১/৩/১৭ইং) সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করে। বর্তমানে তার স্বামী জেল হাজতে রয়েছে।
তিনি আরো বলেন, তার স্বামী একজন সৎ ও পরোপোকারী মানুষ। তার স্বামীর কোন শত্রু নেই। শুধুমাত্র ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে জড়িয়ে তার স্বামীর আজ এই দশা। আর এই সুযোগটি কাজে লাগিয়েছে স্থানীয় ভূমিদস্যুরা। বৈঠাহারা গ্রামের ভূমিদস্যু পরিমল ঢালীর সাথে জমাজমি নিয়ে তার স্বামীর বিরোধ রয়েছে। সব মিলিয়ে নানা ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন তার স্বামী। তাকে গ্রেফতার করার পর দুটি ছেলে-মেয়ে নিয়ে আমি গভীর উদ্বেগ-উৎকন্ঠার মধ্যে রয়েছি। একজন নিরপরাধ মানুষ এত কস্ট পাবে কেন। আমি আমার স্বামীর সুবিচার আশা করছি। আর তার যাতে জামিন হয় এবং তিনি যেন জামিন নিয়ে স্ব-সম্মানে আমাদের কাছে ফিরে আসতে পারেন সেই ব্যবস্থা করতে প্রশাসনের কাছে অনুরোধ জানান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ