ঢাকা, মঙ্গলবার 07 March 2017, ২৩ ফাল্গুন ১৪২৩, ০৭ জমাদিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

নিরাপদ মাতৃত্ব : গর্ভাবস্থায় পরিচর্যা

১৯৮৭ সালে নাইরোবিতে এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা নিরাপদ মাতৃত্বের ডাক দেয়। এর মূল উদ্দেশ্য, মায়ের ও শিশু স্বাস্থ্য সুরক্ষাও উন্নত করা। দেখা যায়, গর্ভজনিত যে যে, কারণে মায়ের মৃত্যু হয়, তার ৮০ শতাংশ প্রতিরোধ করা সম্ভব।
সন্তান জন্মের প্রক্রিয়া : পুরুষের শুক্রানু এবং নারীর ডিম্বানুর মিলনে সন্তানের জন্ম হয়। নারীর ঋতুচক্রের মাঝামাঝি সময়ে প্রতি মাসে একটি পরিপক্ক ডিম্বাণু ডিম্বাশয় থেকে বেরিয়ে এসে ডিম্বনালীতে আশ্রয় নেয়। ঠিক এ সময়ে পুরুষের সাথে যৌন মিলন হলে পুরুষের শুক্রকীট নারীর যোনীপথে প্রবেশ করে। প্রতিবার সহবাসে প্রায় ৫০ কোটি শুক্রাণু নারীর যোনীপথে নিক্ষিপ্ত হয়। এরা সকলেই নারীর জরায়ু মুখ দিয়ে জরায়ুতে প্রবেশ করে ডিম্বনারীর দিকে অগ্রসর হয়। সেখানে অপেক্ষমান ডিম্বাণুর সাথে মাত্র একটি শুক্রাণুই মিলিত হতে পারে (৫০ কোটির মধ্য থেকে)। এই মিলনের আগে শুক্রাণুু হায়ালুর নিডেজ (ঐুষঁৎড়হরফধংব) নামে এক এনজাইম সৃষ্টি করে। এই এনজাইম ডিম্বাণুর বাইরের আবরণে ক্ষত সৃষ্টি করে, যার মধ্যদিয়ে শুক্রানু ডিম্বাণুুর ভিতরে প্রবেশ করে এবং প্রবেশের পর সেই ক্ষতস্থান আবার বন্ধ হয়ে যায়। ফলে আর কোন শুক্রানু ডিম্বাণুুর সাথে মিলিত হতে পারে না। শুক্রাণু এবং ডিম্বানুর মিলনের পর কয়েক ঘণ্টা একটি কোষ হিসেবেই থাকে। একে বলা হয় জাইগোট (তুমড়ঃব)। ৩০ ঘণ্টা পর এর থেকে দু’টি এবং ৩ দিনে ৮টি কোষ হয়। চতুর্থদিনে জাইগোটের ১৬টি কোষ হয় এবং তখন তা জরায়ুতে প্রবেশ করে। ৫ম দিনে তা ব্লাস্টোসিস্ট-এ পরিণত হয়। জাইগোট জরায়ুতে প্রবেশ করার পর কোষগুলো ভাগ হতেই থাকে। এক সপ্তাহ পর জাইগেট থেকে আঁকশির মতো কিছু কোষ জরায়ুর অভ্যন্তরে নিজেকে আটকে রাখে। ইতোমধ্যে জাইগেটের মধ্যে পানিগহবরের সৃষ্টি হয়। এর থেকেই আমানি বা মেষক থলি (অসহরড়ঃরপ ঝধপ) তৈরি হয়। এর মধ্যে কিছু কোষ চ্যাপ্টা হয়ে যায়, এদের বলা হয় ট্রফোব্লাস্ট (ঞৎড়ঢ়যড়নষধংঃ)। এই ট্রফোব্লাস্ট থেকেই প্লাসেন্টা (চষধপবহঃধ) তৈরি হয়।
বাকি কোষগুলো এম্ব্রায়োব্লাস্টে (ঊসনৎুড়নষধংঃ) পরিবর্তিত হয়। আর এর থেকেই ভ্রুণের (ঊসনৎুড়) সৃষ্টি হয়। ৮ সপ্তাহের মধ্যে ভ্রূন তার সম্পূর্ণ আকার ধারণ করে। এখানে মনে রাখা দরকার যে, শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর মিলনের অব্যবহিত পরেই যদি জাইগোট দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে যায় তাহলে যমজ সন্তানের জন্ম হয়। আবার কোন কারণে যদি ডিম্বাশয় থেকে একটি বদলে দু’টি শুক্রাণু তাদের সাথে মিলিত হয়, তাহলেও যমজ সন্তান হতে পারে। উল্লেখ্য, প্রতিমাসে ডান অথবা বাম ডিম্বাশয় থেকে একটিমাত্র ডিম্বাণু নিঃসরণের কথা।
জাইগেটের সন্তানটি ছেলে না মেয়ে হবে? আমরা জানি শুক্রানু ও ডিম্বানুর জিনে (এবহব) ২৩টি করে ক্রোমজম থাকে এবং এদের মিলনের ফলে উদ্ভূত নতুন কোষে ৪৬টি ক্রোমজম থাকে। পুরুষের ২৩ নম্বর ক্রোমজম ঢ বা ণ হতে পারে। নারীর ২৩ নম্বর ক্রোমজম সব সময়ই নির্ভর করে শুক্রাণুর ২৩ নম্বর ক্রোমজমের উপর। সেটি যদি ‘ঢ’ হয়, হবে সন্তান হবে মেয়ে এবং যদি ‘ণ’ হয় তবে সন্তান হবে ছেলে। অর্থাৎ সন্তান ছেলে হবে না মেয়ে হবে তা নির্ভর করে পুরুষের ক্রোমজমের উপর। এই ক্রোমজমের দ্বারাই সন্তান তার বংশের ধারক ও বাহক হয়। বাবা-মার চেহারা এবং স্বভাবের মিলও সন্তান ঐ ক্রোমজমের মাধ্যমে পেয়ে থাকে। বংশগত কিছু রোগ যেমন- থ্যালসেমিয়া বা হিমোফিলিয়া ইত্যাদিও সন্তানের মধ্যে আসতে পারে ক্রোমজমের মাধ্যমে।
আসলে আমাদের সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ। ‘তিনি যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন, যাতে ইচ্ছা কন্যা সন্তান এবং যাকে ইচ্ছা পুত্র সন্তান দান করেন। অথবা তাদের দান করেন পুত্র ও কন্যা উভয়ই এবং যাকে ইচ্ছা বন্ধ্যা করে দেন। (আশ-শূরা- ৪৯-৫০)।’ আর মানুষের সৃষ্টির উপাদান সম্পর্কে আল-কুরআনে বলা হয়েছে যে, তিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন পুরুষের শুক্রানু ও নারীর ডিম্বাণু থেকে (নুতফা)। যেমন সূরা আবাসা’তে বলা হয়েছে, ‘তিনি তাকে নুতফা থেকে সৃষ্টি করেছেন (আয়াত-১৯)। এ ব্যাপারে কুরআনে আরও অনেক ভাষ্য রয়েছে। আগ্রহীরা তা পড়ে দেখুন।
 লেখাটি উঐগঝ চিকিৎসকদের জন্য, যারা দূরশিক্ষণ কোর্সে গর্ভবতী পরিচর্যা বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিতে আগ্রহী, তারা এ লেখার সারসংক্ষেপ বাক্যে লিখে পাঠান।
 যারা এ প্রশিক্ষণ প্রোগ্রামের অংশ নিতে চান তারা রেজিস্ট্রেশনের জন্য যোগাযোগ করুন: হোমিওপ্যাথিক এডুকেশন সোসাইটি, রোড-১১, বাড়ি-৩৮, নিকুঞ্জ-২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯, ফোন: ৮৯০০৫৩৮, ০১৭১২-৮১৭১৪৪

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ