ঢাকা, বুধবার 08 March 2017, ২৪ ফাল্গুন ১৪২৩, ০৮ জমাদিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

বিএনপি নেতা সোহেলকে গ্রেফতার ॥ এক দিনের রিমান্ডে

বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেলকে গতকাল মঙ্গলবার আদালতে হাজির করে পুলিশ -সংগ্রাম

 

স্টাফ রিপোর্টার : রাজধানীর রমনা থানায় দায়ের হওয়া একটি হত্যা মামলায় বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেলকে গ্রেফতার দেখিয়ে রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার ঢাকার মহানগর হাকিম আবদুল্লাহ আল মাসুদের আদালতে সোহেলকে হাজির করে পুলিশ। প্রাইভেট কারচালক আবুল কালাম হত্যা মামলায় তাকে ১০ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন জানানো হয়। শুনানি শেষে সোহেলের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। আদালতে সোহেলের পক্ষে জামিনের আবেদন করা হয়। আদালত শুনানি নিয়ে এ আবেদন নামঞ্জুর করেন।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০১৫ সালের ৯ জানুয়ারি অবরোধ চলাকালে রমনা থানা এলাকায় একটি প্রাইভেট কারে পেট্রলবোমা ছোড়া হয়। এতে চালক আবুল কালাম দগ্ধ হন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় রমনা থানায় মামলা করে পুলিশ। রিমান্ডের আবেদনে বলা হয়, ওই ঘটনায় সোহেলের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে।

সোমবার কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছিলেন সোহেল। কিন্তু তাকে কারাফটক থেকে গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করে বিএনপি। গতকাল সোহেলকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে রিমান্ডে নিল পুলিশ। এর আগে, গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম সোহেলকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। 

হাবিব-উন-নবী খান সোহেলের আইনজীবী ও বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক সানাউল্লাহ মিয়া বলেন, ‘কারাগার থেকে মুক্তি দেয়ার পর সোহেলকে ডিবি (গোয়েন্দা পুলিশ) পরিচয়ে ফের তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।’ নাশকতার অভিযোগে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় বিএনপির এই নেতার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা করা হয়। পল্টন, মতিঝিল, ডেমরা, মিরপুর, আদাবর ও কালসী থানায় দায়ের হওয়া এসব মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিন পান তিনি। সোহেলের বিরুদ্ধে তদন্তাধীন ও অভিযোগ গঠন হওয়া প্রায় ১১০টিরও বেশি মামলা দায়ের করা হয়। নাশকতার অভিযোগে ২০১৪ সাল থেকে চলতি বছরের এ পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে এসব মামলা করা হয়।

সোহেলের বিরুদ্ধে নাশকতার মামলাগুলোর মধ্যে শুধু পল্টন থানায় ২২টি, মতিঝিল, যাত্রাবাড়ী ও মুগদা থানায় তিনটি করে, দারুস সালাম, ওয়ারী ও খিলগাঁও থানায় দুটি করে, মোহাম্মদপুর, রমনা ও শাহবাগ থানায় একটি করে মামলা রয়েছে।

দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর গেল বছর ৯ অক্টোবর ঢাকার মহানগর হাকিম আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চান সোহেল। আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ