ঢাকা, বুধবার 08 March 2017, ২৪ ফাল্গুন ১৪২৩, ০৮ জমাদিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

শীঘ্রই চালু হচ্ছে প্যাসেঞ্জার ড্রোন!

জাফর ইকবাল: ড্রোন শব্দটা শুনলেই ভেসে ওঠে যুদ্ধের কোনো ছবি। কারণ ড্রোনের সাহায্যে বোমা হামলা বা ড্রোনের সাহায্যে শক্র শিবিরের ছবি তোলা- এসব কারণেই এটির আলোচনা হয়েছে বেশি। ড্রোন বেশীর ভাড় সময়েই নেগেটিভ উদ্দেশে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। তবে ড্রোনের বেশ কিছু পজিটিভ ব্যবহারও আছে। যেমন, দুর্গম অঞ্চলের ছবি তোলা বা সেখানে সাহায্য পাঠানো, এসব কাজও কিন্তু ড্রোনের সাহায্যে করা হয়।
তাই ড্রোনের পরিচিতি এবং এর ব্যবহার দিনদিন বেড়ে চলেছে। এমনকি দেশের মার্কেটের ফুটপাতেও দেখা মেলে ‘খেলনা ড্রোন’ এর। তার মানে ড্রোন এখন সার্বজনীন হতে চলেছে! ড্রোন দিয়ে ছবি তোলা, সেলফি তোলা কিংবা কফি আনা নেয়া করা, কতো কিছুই তো হচ্ছে। বিখ্যাত অনলাইন শপ অ্যামাজন ড্রোন দিয়ে পণ্য সরবরাহও করছে। এমনকি পাকিস্তান ক্রিকেট লীগে (পিএসএলে) ড্রোন ক্যাম ব্যবহৃত হচ্ছে হালের স্পাইডার ক্যামের বদলে। তাহলে বাকি থাকলো কি? বাকি ছিল ড্রোনে চড়ে আকাশে ভ্রমণ। সেটাই বা বাদ যাবে কেন। জুলাই-আগস্টের দিকে যদি আপনার দুবাই যাওয়ার প্ল্যান থাকে তবে সে শখও পূরণ হবে আপনার।
দুবাইর এভিয়েশন অথরিটি ইতিমধ্যেই জুলাই মাসে পরীক্ষামূলকভাবে প্যাসেঞ্জার ড্রোন চলাচলের অনুমতি দিয়েছে। ই হ্যাং ১৮৪ নামের এক প্যাসেঞ্জার বিশিষ্ট এই ড্রোনের ওজন ৫০০ পাউন্ড আর এটা বহন করতে পারবে ২২০ পাউন্ড বা ১০০ কেজি ওজন। এখানে এক রুমের যাত্রী কামরা এবং একটি স্যুটকেস বা ব্যাগ রাখার জন্যে ছোট আরো একটি কক্ষ বা প্রকোস্ট রয়েছে। ই হ্যাং ১৮৪ গত সিইএস প্রদর্শনীতে এর সক্ষমতা দেখিয়েছে। তাছাড়া লাসভেগাসেও এর টেস্ট উড়ান হয়েছে। এবার এর বাস্তব পথচলা বা উড়া। চীনের তৈরি ইহ্যাং ১৮৪ ঘণ্টায় ১০০ মাইল বেগে উড়তে পারে। আর এক চার্জে যেতে পারে একবারে ৩১ মাইল। এটা ফোরজি মোবাইল ইন্টারনেট দিয়েই পরিচালিত হবে। এর নির্দিষ্ট ছাড়ার স্থান থাকবে।
আর পরিচালনার জন্যে থাকবে ‘রিমোট কমান্ড সেন্টার’। দুবাই ট্যাক্সি সার্ভিস অথোরিটি জানায় এটা ৪০-৫০ কিলোমিটার দূরত্বে ৬২ মাইল বা ১০০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা বেগে চলাচল করবে।
এছাড়া এয়ারবাস নামের আরো একটি প্যাসেঞ্জার ড্রোন আসছে। এটা এ বছরের শেষ দিকে আসার কথা তবে ২০২০ সাল নাগাদ বাণিজ্যিকভাবে বাজারে থাকবে। ট্রান্সপোর্ট সেবা প্রতিষ্ঠান ‘উবার’ও এ বিষয়ে কাজ করছে।
তারা নাসা এবং গুগলের সাবেক কিছু ইঞ্জিনিয়ার নিয়ে একটি টিম গঠন করেছে এ বিষয়ে প্ল্যান করার জন্য। সুতরাং জ্যাম! এক সময় হয়তো গুগলে খুঁজতে হবে, গাড়ির ট্রাফিক জ্যাম কি? যানজটের সময় গাড়িকে উড়িয়ে নিয়ে যাবে ড্রোন, এমনই এক গাড়ির ধারণা উন্মোচনের পরিকল্পনা করেছে পে¬ন নির্মাতা ফরাসী প্রতিষ্ঠান এয়ারবাস।
অটোমোবাইলবিষয়ক সংবাদ সাইট অটোমোটিভ নিউজ প্রথম এমন খবর প্রকাশ করে বলে জানিয়েছে ব্যবসা-বাণিজ্যবিষয়ক মার্কিন সাইট বিজনেস ইনসাইডার। ৯ মার্চ শুরু হতে যাওয়া জেনেভা অটো শো’তে গাড়ি নির্মাণ প্রকৌশল এবং ডিজাইন প্রতিষ্ঠান ইটালডিজাইন-এর সঙ্গে মিলে এই উন্মোচন করবে এয়ারবাস।
তবে এ নিয়ে মন্তব্য করতে বিজনেস ইনসাইডার-এর কাছে দুই প্রতিষ্ঠানই অস্বীকৃতি প্রকাশ করেছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। এক সূত্রের বরাতে অটোমোটিভ নিউজ জানায়, ৫ মিটার (প্রায় ১৬ ফুট) র্দীঘ একটি ড্রোন নতুন এই গাড়িটিকে উড়িয়ে নিয়ে যাবে। এয়ারবাস সম্প্রতিক তার এই ‘উড়ুক্কু গাড়ি’র সংজ্ঞায় জানিয়েছে, এটি এমন এক গাড়ি যা উলম্বভাবে উড্ডয়ন এবং অবতরণ করতে পারে। আর এই লম্বভাবে উড্ডয়ন এবং অবরণের কারণে এর কোনো রানওয়ে’র দরকার হবে না। এয়ারবাস’র সিলিকন ভ্যালি শাখা এ-কিউবড ‘প্রজেক্ট ভাহানা’ নামে একজন যাত্রী নিতে পারে এমনই এক  বৈদ্যুতিক এয়ারক্র্যাফট তৈরি করছে। এ ছাড়াও প্রতিষ্ঠানটি ‘সিটিএয়ারবাস’ নামে উড়ুক্কু ট্যাক্সির আরেকটি প্রকল্প নিয়ে কাজ করছে।
এদিকে ড্রোনকে আরো বেশি জনপ্রিয় করতে এবার মোবাইল ফোনের কেসের সঙ্গেই যুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। তাতে লাভ? হ্যাঁ, লাভ তো কিছু আছেই। সেলফি যতই জনপ্রিয় হোক, একটা সময় এটা ঠিকই একঘেয়ে হয়ে যাবে।
বা অনেকের কাছে এখনই একঘেয়ে হয়ে গেছে। তাই নতুন কিছু করার জন্যে এবার ড্রোন।  এবার মানুষ শক্র শিবিরের নয় বরং ‘বন্ধুর’ ছবি তুলবে ড্রোনের মাধ্যমে। বাজ টেকনোলোজি নামের এক কোম্পানি এরই মাঝে এর ডেমো বা প্রাথমিক পণ্য তৈরি করেছে। তারা এখন এর বাণিজ্যিক বিপণনের জন্যে সহযোগী বা ইনভেস্টর খুঁজছে। যারাই এতে লগ্নি করতে রাজি হবে তাদের হাত ধরেই আসবে বিশ্বের প্রথম ড্রোন যুক্ত মোবাইল কেস।
এই কেসের সঙ্গে শুধু ড্রোনই নয়, থাকবে আরো কিছু ফিচার। যেমন এর সঙ্গে তিনটি ক্যামেরা থাকবে, যা কিনা সাধারণ মানের ক্যামেরা, ওয়াইড এঙ্গেল ক্যামেরা এবং শট এঙ্গেল ক্যামেরা।
এই ক্যামেরাগুলো যুক্ত করা যাবে এই কেসের সঙ্গেই দেয়া ‘সেলফি স্টিকের’ সঙ্গে কিংবা ড্রোনের সঙ্গে। ফলে ছবি তোলার অভিজ্ঞতা হবে সম্পূর্ণ ভিন্ন রকম। এমনকি গুগল সানগ্লাসের মতো সানগ্লাসও থাকবে এর অ্যাকসেসরিজ হিসেবে। যদিও এটি এখনো বাজারে আসেনি বা কবে নাগাদ বাজারে আসবে তার কোনো নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি, তবে খুব অচিরেই যে আসবে সেটা নিশ্চিত। কেননা বাজ টেকনোলোজি এরই মধ্যে থ্রিডি প্রিন্টারের সাহায্যে এর ডেমো কপি তৈরি করে ফেলেছে। যা গ্রাহকদের মাঝে ফেলেছে বিপুল সাড়া।
কিন্তু আমাদের খুশি হওয়ার কোনো মানে নেই! কারণ, বাংলাদেশে ড্রোন ব্যবহারের জন্যে অনুমতি নেই। ২০১৪ বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকা দলের ব্যাপারটা মনে আছে? তারা কোচিং সেশনে ড্রোন ব্যবহার করেছিল না জেনে। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোকজন এসে তাদের ড্রোন ব্যবহারে বাঁধা দেয়। যাই হোক, ভবিষ্যতের কথা ভবিষ্যতের কাছেই তোলা থাক। আগে দেখা যাক এই প্রকল্পটি কবে আলোর মুখ দেখে। যদি পজেটিভ ব্যবহারের জন্য হয়ে থাকে তাহলে অনুমতিও পাওয়া যেতে পারে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ