ঢাকা, বুধবার 08 March 2017, ২৪ ফাল্গুন ১৪২৩, ০৮ জমাদিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

অর্ধশত বছরেও পূর্ণতা পায়নি খুলনা বিসিক

খুলনা অফিস: ৫০ বছরেও পূর্ণতা পায়নি খুলনার বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক)। খুলনা মহানগরীর শিরোমণি এলাকায় ৪৪ দশমিক ১০ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত এ শিল্প এলাকার হয়নি আধুনিকায়ন।
রাস্তাঘাটের বেহাল অবস্থা, সার্ভিস চার্জ বৃদ্ধি, জমি নিয়ে আইনি জটিলতায় উদ্যোক্তাদের ঋণ পেতে প্রতিবন্ধকতাসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত সম্ভাবনাময় এ প্রকল্পটি। এ অবস্থায় শিল্প উদ্যোক্তাদের প্রতিপক্ষ হয়ে পড়েছে ‘খুলনা বিসিক’। ব্যবসায়ীরা বলছেন, এ অবস্থা চলতে থাকলে তাদের ব্যবসা গুটিয়ে সর্বস্বান্ত হওয়া ছাড়া গতি থাকবে না।
বিসিক শিল্পনগরীতে অবস্থিত দৌলতপুর আইচ কোল্ড স্টোরেজ লিমি. এর ব্যবস্থাপক মো. আলী সিদ্দিকী জানান, সামান্য বৃষ্টি হলেই বিসিক এলাকা জুড়ে হাঁটু পানি জমে। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের ভেতর পানি ঢোকে। নড়বড়ে সংযোগে এখানে বৈদ্যুতিক সমস্যা ও পানির সংকট রয়েছে।
তিনি জানান, বিসিক নিজস্ব পাম্পে যে পানি সরবরাহ করে তা শিল্প প্রতিষ্ঠানের কাজে ব্যবহার করা যায় না। এছাড়া জমির মালিকানা না পাওয়া এখানকার সবচেয়ে বড় সমস্যা। জমি নিয়ে আইনি জটিলতায় ব্যাংক ঋণ পাচ্ছেন না শিল্প মালিকরা।
জানা গেছে, দৌলতপুর আইচ কোল্ড স্টোরেজ লিমিটেডের সাথে বিসিকের জমির মালিকানা দ্বন্দ্ব শেষ পর্যন্ত গড়িয়েছে আদালত পর্যন্ত। শিল্প মন্ত্রণালয় ওই জমি সরাসরি দৌলতপুর আইচ কোল্ড স্টোরেজ লিমিটেডক দিলেও তা মানতে চায় না বিসিক। এর আগে বিসিকের সকল জমির মালিকানা নিয়েও দীর্ঘ জটিলতা ছিল।
ব্যবসায়ীরা জানান, শিল্পনগরী স্থাপনকালে খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কেডিএ) কাছ থেকে সরকার জমি অধিগ্রহণ করে।
কিন্তু হঠাৎ করেই এলাকার শ্যামগঞ্জ মৌজার সব জমি খাস খতিয়ানের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ফলে বিসিক মালিকদের জমির চূড়ান্ত কাগজপত্র দিতে পারছে না। আর শিল্প উদ্যোক্তারাও জমির মালিকানা না পেয়ে ব্যাংক ঋণ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
বিসিকের সদ্য বিদায়ী আঞ্চলিক পরিচালক সৈয়দ মোরশেদ আলী জানান, জমি সংক্রান্ত ওই সংকট এখন আর নেই। ভুলবশত ওইসব জমি ভূূমি জরিপকারী খাস খতিয়ানে দিয়েছিল। ৩০ ধারায় বিষয়টি খেয়াল করা হয়নি। এরপর জেলা প্রশাসক বাদী হয়ে মামলা করলে আদালত ওই জমি বিসিকের আওতায় দিয়েছেন।
তিনি বলেন, দৌলতপুর আইচ কোল্ড স্টোরেজ লিমিটেডের জমিটি বিসিকের ৪৪ দশমিক ১০ একর জমির মধ্যেই। কিন্তু যখন ওই এলাকা পরিত্যক্ত ছিল তখন শিল্প মন্ত্রণালয় সরাসরি ওই কোল্ড স্টোরের জন্য জমি বরাদ্দ দেয়। কিন্তু বর্তমানে পুরো সম্পত্তি বিসিকের অধীনে হলেও পুরাতন মালিকানা পরিবর্তন করা হয়নি। ওই জমির মালিকানা নিয়ে আদালতে মামলা রয়েছে।
বিসিক শিল্পনগরীর স্টেট অফিসার গৌরব দাস জানান, শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধিতে বিসিক কাজ করছে। সড়ক সংস্কারসহ কয়েকটি কাজ ইতোমধ্যে হাতে নেয়া হয়েছে। বাস্তবায়ন হলে এসব সংকট আর থাকবে না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ