ঢাকা, বুধবার 08 March 2017, ২৪ ফাল্গুন ১৪২৩, ০৮ জমাদিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ফটিকছড়িতে নির্বিচারে বৃক্ষ নিধন করে কাঠ পাচার

ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা: ফটিকছড়িতে অবাধে সামাজিক ও রাজস্ব বনায়ন উজাড়  করে চলছে কাঠ পাচারের মহোৎসব। কাঠ পাচারে সরকারী রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে বনবিট, থানা পুলিশ, ও ক্ষমতাসীন দলের নেতার নামে ঘাটে ঘাটে প্রতিরাতে লাখ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। এদিকে কাট পাচার রোধে চট্টগ্রাম উত্তর বনবিভাগ ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের একেবারে নীরব ভূমিকা পরিলক্ষিত হচ্ছে।
জানা যায়, উপজেলায় বনবিভাগের ৩২০ বর্গকিলোমিটার বনাঞ্চল রয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন ইউনিয়নে সামাজিক ও ব্যক্তিমালিকানাধীন বাগানও রয়েছে। এসব বাগান থেকে অবাধে কাঠ পাচার করছে এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী। আর এ ক্ষেত্রে সহযোগিতা করছে সংশ্লিষ্ট কিছু অসাধু বন কর্মকর্তা কর্মচারী। অনুসন্ধানে জানা যায়, নারায়ণখালী বনবিট, ধুরুং বনবিট, হাজারীখীল রেঞ্জের বারমাসিয়া বনবিট, ফটিকছড়ি বনবিট, হাসনাবাদ রেঞ্জের হাসনাবাদ বনবিট, তারাখোঁ বনবিট, হাটহাজারী রেঞ্জের শোভনছড়ি বনবিট, করেরহাট রেঞ্জের হেয়াকো বনবিট ও আঁধার মানিক বনবিট থেকে প্রতিদিন সামাজিক বনায়ন এবং রাজস্ব বনায়নের নির্বিচারে গাছ কাটা হচ্ছে। আকাশমণি, জারুল, জাম সেগুন, চাপালিশ, গামারি, কড়ই, গর্জনসহ নানা প্রজাতির গাছ দিনভর কাটে রাতভর সড়ক পথে পাচারের মহোৎসব চলে।
দাঁতমারা- হেঁয়াকো-রামগড়-সোনাইপুল সড়ক, দাঁতমারা-নারায়ণহাট-কাজিরহাট সড়ক, নারায়ণহাট-শ্বেতছড়া-মীরশ্বরাই সড়ক, গাড়িটানা-সাপমারা-কাজিরহাট সড়ক, কাজীরহাট-ফটিকছড়ি সড়ক, কাঞ্চনপুর-ফটিকছড়ি-লেলাং সড়ক, কাজীরহাট-নাজিরহাট-হাটহাজারী সড়কের উপর দিয়ে এগুলো পাচার হয়। খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার মানিকছড়ি থেকে কাজীরহাট সড়কে এবং রামগড় এলাকা থেকে নারায়ণহাট ও দাঁতমারা সড়কে কাঠ পাচার চলে। 
প্রত্যেক বনবিট ও থানা পুলিশকে জ্বালানী প্রতি জীপ গাড়ি ৪-৫শ টাকা, মিনি ট্রাক ১ হাজার-১৫শ’ টাকা, বড় ট্রাক ২-আড়াই হাজার টাকা, টিসি ট্রাক ৩-৪ হাজার টাকা নিচ্ছে। গোল গাছ ও চিরাই গাছ হলে প্রতি জীপ গাড়ি ৮শ’-১২শ’ টাকা, মিনি ট্রাক ৩ হাজার-৫ হাজার টাকা, বড় ট্রাক ৮-১২ হাজার টাকা, টিসি ট্রাক ১৫-২০ হাজার টাকা করে চাঁদা নিচ্ছে।
 জানা গেছে, ফটিকছড়ি সদরে ধুরুং বনবিটের, নাজিরহাটের চেকপোস্ট, নারায়ণহাট বনবিটের, ফটিকছড়ি বনবিটের, বালুখালী বনবিটের, নারায়ণহাট বনবিটের, দাঁতমারা বনবিটের নামে পাস দেওয়া হচ্ছে এসব কাঠ পাচারের গাড়িতে। আবার এসব চাঁদা আদায়ের জন্য নারায়ণহাট এলাকায় স্থানীয় কালেক্টর নিয়োগ দিয়েছে (ইজারার ভিত্তিতে)। বিভিন্ন স্থানে বন বিভাগের বিশেষ টহল বাহিনী (স্পেশাল নামে পরিচিত)’র নামেও মোটা অংকের চাঁদা তোলা হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সামাজিক বনায়নের লট ক্রেতা (নিলাম ক্রেতা) এক ব্যবসায়ী বলেন, নিলামে বাগান ক্রয় করে সরকারী খোশাগারে সব টাকা জমা দিয়ে, সব নিয়ম মেনে গাছ কাটতে আসার সময় বনবিট ও রেঞ্জ কর্মকর্তাকে ঘুষ দিতে হচ্ছে।
এ ব্যাপারে ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দীপক কুমার রায় বলেন, কাঠ পাচার প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট সকলকে কঠোর অবহিত করা হয়েছে।
কাঠ পাচার রোধে বন বিভাগের পাশাপাশি উপজেলা ও জেলা প্রশাসন থেকে কাঠ পাচারের অভিযান চালানো হচ্ছে। বনবিট, রেঞ্জ ও পুলিশ কর্তার নামে চাঁদা তোলার ব্যাপারে তদন্ত করে আইনী পদক্ষেপ নেয়া হবে। 
চট্টগ্রাম উত্তর বনবিভাগের জনৈক কর্মকর্তা বলেন, সামাজিক বনায়নের উপকার ভোগী দেওয়া হয়েছে নিজের বন নিজেকে রক্ষার জন্য। বনবিট ও রেঞ্জ অফিস রাখা হয়েছে বনায়ন রক্ষার জন্য।
কাঠ চোরের সাথে যোগসাজশ করে বন ধ্বংস করে কাঠ পাচারের জন্য নয়। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া যাবে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ