ঢাকা, বুধবার 08 March 2017, ২৪ ফাল্গুন ১৪২৩, ০৮ জমাদিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

৫ বছরেও ভবন নির্মিত না হওয়ায় মঠবাড়িয়ায় তাঁবুর নিচে শিক্ষার্থীদের পাঠদান

মঠবাড়িয়া (পিরোজপুর): তাঁবুর নিচে পাঠদান করা হচ্ছে শিক্ষার্থীদের

মঠবাড়িয়া (পিরোজপুর) সংবাদদাতা: পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার ১৩৮ নং কুমিরমারা বন্দর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করায় গত কয়েকদিন ধরে খোলা মাঠে তাঁবু টাঙিয়ে পাঠদান করতে হচ্ছে। পরিত্যক্ত ঘোষণার ৫ বছর পরেও স্কুল ভবন নির্মাণের কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি।
আজ সোমবার সকালে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের চারজন শিক্ষিকা খোলা মাঠে তাঁবুর টাঙিয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করছেন। বিদ্যালয়ের আড়াই শতাধীক শিক্ষার্থী খোলা আকাশের নীচে ক্লাস করায় রোদের তাপ আর ধূলা বালিতে লেখা-পড়া কর্যক্রম প্রায়ই ব্যহত এবং অধিকাংশ শিশুরা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৭২ সালে স্থানীয় কিছু শিক্ষানুরাগী  মিলে কুমিরমারা বন্দর প্রাথমিক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন। পরে স্কুলটি রেজিস্ট্রেশনভুক্ত হলে ১৯৯৪ সালে ৪ কক্ষের একটি পাকা ভবন নির্মাণ করে শিক্ষা ফ্যাসিলিটিজ বিভাগ। এরপর ২৩ বছরেও স্কুল ভবনটি আর সংস্কার হয়নি। স্কুল ভবনটির পলেস্তরা থসে রড বেড়িয়ে গেছে। পিলার ও দেয়াল জুড়ে ফাটল দেখা দেওয়ায় সেখানে পাঠদান অতি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। ২০১২ সালে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ স্কুল ভবনটি পরিত্যাক্ত ঘোষণা করেন। এরপর সেখানে পাঠদান আর সম্ভব হয়না।
এমন সংকটের মুখে স্কুল নিকটবর্তী আবু জাফর মাধ্যমিক বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ স্কুলের পুরাতন একটি টিনশেড ভবনে প্রাথমিক স্কুলের পাঠানের জন্য ছেড়ে দেয়। সেই থেকে ধার করা এক কক্ষেই চলে আসছিল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টির লেখা পড়া। কিন্তু মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ধার দেয়া শ্রেণী কক্ষ ছেড়ে দিতে নোটিশ দিলে প্রাথমিক বিদ্যালয়টি বিপাকে পড়ে।
এ ব্যপারে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা আমেনা খাতুন শ্রেণীকক্ষের অভাবে শিক্ষার্থীদের ক্লাস করা নিয়ে দুর্ভোগের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, কর্তৃপক্ষ দ্রুত ভবন নির্মাণ না করলে শিক্ষার্থীদের পাঠ দান করানো সম্ভব না। আপাতত তাঁবুর নীচে ক্লাস চালিয়ে যাচ্ছি। তিনি আরও বলেন, বৃষ্টি আসার আগেই বিকল্প ঘর না করতে পারলে ক্লাশ বন্ধ করা ছাড়া উপায় থাকবে না।
বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. কামরুজ্জামান রিয়াজ মাতুব্বর জানান, গত পাঁচ বছর ধরেই বিদ্যালয়টির শিক্ষা কার্যক্রম চলছে চরম দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে। এখন তাঁবুর নিচে কোমলমতি শিশুদের খোলা স্থানে পাঠদান সম্ভব নয়। এ ব্যপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রুহুল আমীন জানান, পরিত্যক্ত ভবনটির স্থানে নতুন ভবন নির্মাণের জন্য বহুবার কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিতভাবে জানালেও কোন সাড়া মেলেনি।
ক্লাস করানো জন্য অস্থায়ী ভিত্তিতে একটি টিনসেড ঘর নির্মাণের জন্য প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের উন্নয়ন শাখায় জরুরী ভিত্তিতে চিঠি দেয়া হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ