ঢাকা, বৃহস্পতিবার 09 March 2017, ২৫ ফাল্গুন ১৪২৩, ০৯ জমাদিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

খালেদা জিয়ার আবেদনে বিচারক পরিবর্তনের নির্দেশ হাইকোর্টের

 

স্টাফ রিপোর্টার : বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় অনাস্থার আবেদন গ্রহণ করে বিচারক পরিবর্তনের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। মামলাটি ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতে স্থানান্তর করতে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে আগামী ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে এ মামলা নিষ্পত্তিরও নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। 

আদালত পরিবর্তনের জন্য করা আবেদনের শুনানি শেষে গতকাল বুধবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিম সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী, ব্যারিস্টার রাগীব রউফ চৌধুরী ও আইনজীবী জাকির হোসেন ভূঁইয়া। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান। 

ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আবু আহমেদ জমাদারের আদালতে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় আসামীর আত্মপক্ষ সমর্থনের পর্যায়ে থাকা অবস্থায় গত ২ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা এ মামলার পুনঃতদন্ত চেয়ে আবেদন করেছিলেন। বিচারক আবেদনটি আমলে না নিয়ে তা খারিজ করে দিয়ে খালেদা জিয়ার কাছে জানতে চান- তিনি দোষী না নির্দোষ। তখন খালেদা জিয়া বিচারকের প্রতি আনাস্থা প্রকাশ করেন। গত ৯ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়ার পক্ষে ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দিন খোকন বিচারিক আদালতের বিচারকের প্রতি অনাস্থার আবেদন করেন হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায়।

খালেদা জিয়ার আইনজীবী জাকির হোসেন ভূঁইয়া সাংবাদিকদের জানান, বিচারক আবু আহমেদ জমাদার আইনবহির্ভূতভাবে মামলাটি পরিচালনা করছিলেন। এ জন্য তার ওপর অনাস্থার আবেদন জানানো হয়েছিল। আদালত তা আমলে নিয়ে মামলা স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছেন। মামলাটি কী পর্যায়ে রয়েছে, শুনানি কীভাবে শুরু হবে জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, মামলাটি পুনঃসাক্ষ্য গ্রহণ ও আত্মপক্ষ সমর্থনের পর্যায়ে রয়েছে। সেখান থেকেই মামলার কার্যক্রম আবার শুরু হবে।

এদিকে দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান হাইকোর্টের আদেশের পর বলেছেন, আগামী ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে এ মামলা নিষ্পত্তি করতে হবে। এ কারণে আমি খুশি। কারণ মামলা নিষ্পত্তির জন্য নির্দিষ্ট একটি সময় নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে, যা মানতে বিচারিক আদালত বাধ্য।

তিনি আরো বলেন, বিচারক পরিবর্তন করে ঢাকা মহানগর বিশেষ জজ আদালতে মামলাটি স্থানান্তর করতে বলা হয়েছে। এ আদেশের কারণে মামলার কার্যক্রমে তেমন কোনো অসুবিধা হবে না। আমি ব্যক্তিগতভাবে এ আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করার পক্ষে নই। তবে দুদক যদি মনে করে, তাহলে আপিল করতে পারে।

গত ১৩ ফেব্রুয়ারি বিচারপতি মো. রুহুল কুদ্দুস ও বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে এই অনাস্থার আবেদনের ওপর শুনানি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ইতিমধ্যে বেঞ্চের এখতিয়ার পরিবর্তন হয়ে যায়। পরবর্তীতে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিম সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে শুনানির জন্য আবেদন করেন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা।

জরুরি অবস্থার সরকারের সময়ে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলা দায়ের করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এতিমদের সহায়তা করার উদ্দেশে একটি বিদেশী ব্যাংক থেকে আসা ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ এনে এ মামলা দায়ের করা হয়। এ মামলায় খালেদা জিয়াসহ আসামী মোট ছয়জন। অন্য পাঁচ আসামী হলেন- বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ও খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান, মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল ওরফে ইকোনো কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও মরহুম রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান।

এ মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন ৩২ জন সাক্ষী। জামিনে থাকা দুই আসামী কাজী সালিমুল হক কামাল ওরফে ইকোনো কামাল ও শরফুদ্দিন আহমেদ আত্মপক্ষ সমর্থন করে আদালতে লিখিত বক্তব্য জমা দিয়েছেন। ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও মমিনুর রহমান মামলার শুরু থেকেই পলাতক।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ