ঢাকা, বৃহস্পতিবার 09 March 2017, ২৫ ফাল্গুন ১৪২৩, ০৯ জমাদিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ভারতের সাথে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা

মোহাম্মদ জাফর ইকবাল: বাংলাদেশ-ভারত প্রতিরক্ষা চুক্তি বা সহযোগিতা নিয়ে বাইরের পত্রিকায় কথা-বার্তা চললেও বাংলাদেশ মিডিয়ায় আলোচনা সবে শুরু হয়েছে। এর কারণ এই যে, আগামী মাসে আমাদের প্রধানমন্ত্রী ভারত যাচ্ছেন। তার সফরকালে অন্যান্য বিষয়ের সাথে ভারতের সঙ্গে প্রতিরক্ষা বিষয়ে আলোচনা হবে। এ বিষয়ে নানা কথা, নানা মতপ্রকাশ করা হচ্ছে। এ বিষয়েই কিছু কথা এবং কয়েকজন বিশেষজ্ঞের মতসহ তুলে ধরা হচ্ছে।

রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রতিবেশী দেশ ভারতের সাথে বাংলাদেশের যেসব অমীমাংসিত চুক্তি ও বিষয় রয়েছে আগে সেগুলোর সমাধান হওয়া উচিত। যেমন ভারতের সাথে পানি, তিস্তা, অভিন্ন নদী, সীমান্ত হত্যা, বাণিজ্য ঘাটতি, টিপাইমুখে বাঁধ, উজানে পানি আটকে রাখা ইত্যাদিসহ অনেক বিষয় অমীমাংসিত অবস্থায় রয়েছে। অতি গুরুত্বপূর্ণ এসব সমাধান না করে প্রতিরক্ষার বিষয়টি অপ্রাসঙ্গিক বলেই মনে করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারতের উজানে চীন বাঁধ দিয়ে পানি সরিয়ে ফেলায় দেশটি এ নিয়ে তুলকালাম কা- ঘটিয়ে ফেলছে। অথচ বাংলাদেশের ক্ষেত্রে তারা তার উল্টো আচরণ করছে। বন্ধু দেশ হিসেবে ভারতের উচিত বাংলাদেশের ক্ষতি থেকে বিরত থাকা। কিন্তু তারা সব ক্ষেত্রে ন্যায্য দাবি বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতার পথ বেছে নিয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী ৩ বিঘা করিডোর লিজ এখনও দেয়া হয়নি বাংলাদেশকে। অনুমতি নিয়ে পার হতে হয়। অথচ ভারত বাংলাদেশ থেকে বেরুবাড়ি নিয়ে গেছে। 

ভারতের সাথে প্রতিরক্ষা চুক্তি সম্পর্কে জানতে চাইলে সাবেক সেনা প্রধান লে, জে, (অব.) মাহবুবুর রহমান দৈনিক সংগ্রামকে জানান, ভারতের সাথে বাংলাদেশ কেন প্রতিরক্ষা চুক্তি করতে চাইবে সেটাতো বুঝতে পারছি না। কয়েকদিন ধরে বিষয়টি মিডিয়ার মাধ্যমে শুনছি। তবে এটা কি সামরিক চুক্তি না অন্য কিছু সেটা আগে জানতে হবে। যদি সরকার ভারতের সাথে সামরিক চুক্তি করে তাহলে সেটি হবে ‘সেনসেটিভ’। যেটি মুক্তিযুদ্ধের সময় হয়েছিল। এটা তো এখন আর কার্যকর না। আমরা আশা করি, সরকার সব দিক বিবেচনা করবে। তিনি বলেন, ভারতের সাথে আমাদের অনেকগুলো অমীমাংসিত বিষয় আছে। আগে সেসব সিভিল সমস্যাকে প্রাধান্য দিতে হবে। দেশবাসী তিস্তা, সীমান্ত সমস্যা, উজানের পানি, বাণিজ্য ঘাটতিসহ যেসব সিভিলিয়ান সমস্যা রয়েছে সেগুলোর ভালো সমাধান আশা করে। এগুলো আমাদের ন্যায্য দাবিও। তিনি জানান, ভারতের সাথে আমাদের বন্ধুপ্রতীম সম্পর্ক। আমি মনে করি না যে, ভারতের সাথে আমাদের প্রতিরক্ষা চুক্তি করতে হবে। 

সূত্র মতে, প্রধানমন্ত্রীর এই সফরেই প্রতিরক্ষা চুক্তি করতে চায় ভারত। বাংলাদেশের প্রথম সারির পত্রিকা ‘দৈনিক প্রথম আলো’ গত ৭ মার্চ এ নিয়ে বিশদ সংবাদ প্রকাশ করেছে। এতে পত্রিকাটি ‘ভারত চায় চুক্তি, বাংলাদেশ আগ্রহী সমঝোতায়’ বলে শিরোনাম করেছে। প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়েছে, ‘এই চুক্তির আওতায় সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগ আরও নিবিড় করা হবে। বিভিন্ন সামরিক প্রশিক্ষণ শিবির আরও বাড়ানো হবে। দুই দেশের বাহিনীর মধ্যে বেশ কয়েক বছর ধরেই যৌথ মহড়া অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর পরিধি আরও বাড়ানো হবে। এতে বলা হয়, এপ্রিল মাসের ৭ থেকে ১০ তারিখ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এ সফর হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এ সফরে শেখ হাসিনা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন। পত্রিকাটি লিখেছে, ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র অনুযায়ী, সহযোগিতার এ ক্ষেত্র বিস্তৃত করতে ভারত ৫০ কোটি ডলার ঋণ দেয়ার প্রস্তাব করেছে। অনুচুক্তি বা সমঝোতা বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশে যৌথ সহযোগিতায় প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরি হবে। এ ছাড়া সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগ আরও নিবিড় করা হবে। বিভিন্ন সামরিক প্রশিক্ষণ শিবির আরও বাড়ানো হবে। দুই দেশের বাহিনীর মধ্যে বেশ কয়েক বছর ধরেই যৌথ মহড়া অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর পরিধি আরও বাড়ানো হবে। বাংলাদেশের জন্য সামরিক নৌযান নির্মাণেও ভারত সাহায্য করবে।

এতে আরও বলা হয়, সহযোগিতার চরিত্র নিয়ে দুই দেশের মধ্যে অবশ্য এখনো কিছু কিছু বিষয়ে মতানৈক্য রয়েছে। বিভিন্ন সূত্রের খবর অনুযায়ী, ভারত দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির পক্ষে হলেও অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতার দরুন বাংলাদেশ তেমন কিছু চায় না। এমনকি ‘প্রতিরক্ষা চুক্তি’ শব্দযুগল নিয়েও বাংলাদেশের আপত্তি রয়েছে। বিষয়টিকে তারা বরং সমঝোতা স্মারকের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে আগ্রহী। দেশীয় রাজনীতিতে বাংলাদেশ এমন কোনো ধারণার সৃষ্টি করতে চায় না যে দেশটি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ভারতের ওপর নির্ভরশীল হতে যাচ্ছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সূত্র অনুযায়ী, ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মনোহর পারিকর বাংলাদেশ সফরের সময় এই সুসংহত চুক্তির প্রস্তাব করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে পররাষ্ট্রসচিব এস জয়শঙ্করের সফরের সময় বিষয়টিকে সমঝোতা স্মারকের পর্যায়ে নিয়ে আসা হয়। যৌথ সহযোগিতায় বাংলাদেশের জন্য কোন ধরনের সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদন করা হবে, সে বিষয়ে অবশ্য স্পষ্ট করে কিছু বলা হয়নি। বাংলাদেশের একটি সরকারি সূত্র অনুযায়ী, ভারতীয় নেতৃত্বকে বাংলাদেশ বারবার এটুকু বুঝিয়ে দিয়েছে, একটা স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বার্থে তারা সহযোগিতার ক্ষেত্র বিস্তার করবে। তবে এ ক্ষেত্রে তারা অন্য কোনো দেশের সঙ্গে তুলনীয় হতে চায় না।

রিপোর্টটিতে বলা হয়, শেখ হাসিনার ভারত সফরে তিস্তা পানি চুক্তি নিয়ে কোনো অগ্রগতি হচ্ছে না। তিস্তা চুক্তির মতো আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ‘গঙ্গা ব্যারাজ’। বাংলাদেশ এ বিষয়েও ভারতের সক্রিয় সহযোগিতা প্রত্যাশী। এ নিয়েও অবশ্য পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কিছু প্রশ্ন রয়েছে। যেমন রয়েছে ভারতেরও। তবে এ নিয়ে শেখ হাসিনার সফরে কিছুটা ইতিবাচক অগ্রগতি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। পত্রিকাটি লিখেছে, ভারতের রিলায়েন্স গ্রুপের মালিকানাধীন অন্যতম গণমাধ্যম ফার্স্টপোস্টের ওয়েবসাইটের এক প্রতিবেদনে গতকাল (৬ মার্চ) বলা হয়েছে, বাংলাদেশকে চীনের প্রভাব থেকে মুক্ত করাই এপ্রিলে শেখ হাসিনার দিল্লী সফরের মূল বিষয়। গত নবেম্বরে চীন থেকে বাংলাদেশের দুটি সাবমেরিন কেনার ঘটনা ভারতের অনেককে চমকে দিয়েছে। প্রতিবেদনটিতে সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের সামরিক কর্মকর্তাদের অনেকে ভারতীয় সেসব সমরাস্ত্র কিনতে চান না, যা তারা অন্য দেশ থেকে কিনছেন। চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং ঢাকা সফরের সময় বাংলাদেশকে ২৪ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব দেয়ার পর ঢাকার ওপর বেইজিংয়ের ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে দিল্লীর। ভারত মহাসাগরে কৌশলগত সামরিক উপস্থিতির জন্য চীনের স্ট্রিং অব পার্লসে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে আছে বাংলাদেশ।’

বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মোহাম্মদ ইবরাহিম এ প্রতিবেদককে বলেন, আমি শুনেছি প্রধানমন্ত্রী ভারত সফরে যাবেন। কি কি বিষয়ে সেখানে আলোচনা হবে বা চুক্তি হতে পারে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানি না। তবে তিনি বলেন, ভারতের সাথে বাংলাদেশের ডিফেন্স চুক্তি হওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। তিনি পাল্টা প্রশ্ন করে বলেন, কেন আমরা ভারতের সাথে প্রতিরক্ষা চুক্তি করবো? তিনি বলেন, ২৫ বছরের চুক্তির অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, রাজনৈতিক দূরদর্শী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এমন চুক্তি করবেন না। 

বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড বিজেবির সাবেক মহাপরিচালক ও বিশিষ্ট নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) আ ল ম ফজলুর রহমান দৈনিক সংগ্রামকে জানান, ভারতের সাথে প্রতিরক্ষা চুক্তি করার কোন প্রয়োজন নেই। এ ধরনের চুক্তি দেশের জন্য কখনোই সমীচিন হবে বলে মনে করি না। 

মেজর জেনারেল (অব.) রুহুল আলম চৌধুরী বলেন, এ ধরনের চুক্তি করলে ভারতের কাছে আমাদের দায়বদ্ধতা থেকে যাবে। শ্রীলংকা এ ধরনের চুক্তি করেছিল। তার ফল ভয়াবহ হয়েছিল। 

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস এ্যা- সিকিউরিটি স্টাডিজ (বিআইপিএসএস)-এর সভাপতি প্রতিরক্ষা এবং নিরাপত্তাবিষয়ক আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) মুনীরুজ্জামান মনে করেন, বঙ্গোপসাগর ভারত মহাসাগরের সমুদ্রসীমায় হওয়ায় বাংলাদেশ নিরাপত্তার কৌশলগত দিক দিয়ে খুবই গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। বঙ্গোপসাগরের কারণে ভারত মহাসাগরে আমাদের গুরুত্বপূর্ণ অধিকার রয়েছে। এ অবস্থানে ভবিষ্যতে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক বিশেষ করে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান নির্ভর করবে আমরা এর সুযোগ কতটা নিতে পারব তার উপরে। 

ভারতের সঙ্গে সরকার যে প্রতিরক্ষা বা সামরিক চুক্তি করছে বলে খবরে প্রকাশিত হয়েছে তাকে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত বলে আখ্যায়িত করেছে বিএনপি। দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান বলেন, পত্রপত্রিকায় এসেছে এ চুক্তি নাকি আমাদের ওপর চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে। কিন্তু কেন? তিনি বলেন, দেশের তিনদিকে ভারত ও একদিকে সমুদ্র। যে দেশের সবদিকে বন্ধুরাষ্ট্র- দেশের প্রতিরক্ষার প্রশ্ন উঠবে কেন?

এ বিষয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ভারতের সঙ্গে আমাদের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকতে পারে। সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক আদান-প্রদান থাকতে পারে। কিন্তু প্রতিরক্ষা চুক্তি কেন করতে হবে? বিএনপির মুখপাত্র বলেন, এসমস্ত চুক্তির মধ্য দিয়ে আমাদের প্রতিরক্ষা স্বার্থকে জলাঞ্জলি দিয়ে ভারতের প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠিত করা হবে। তাহলে আমাদের স্বাধীনতা কোথায়- প্রশ্ন রাখেন তিনি। বিএনপি’র সিনিয়র যুুগ্ম মহাসচিব এ বিষয়ে গুরুতর অভিযোগ তুলে বলেন, ভারত ৫০ কোটি ডলার খরচ করবে কেন প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ানোর জন্যে? কেন? বাংলাদেশ স্বাধীন-সার্বভৌম দেশ, আমাদের নিরাপত্তা ভারতের উপর নির্ভরশীল হবে কেন, এটা সবচাইতে বড় প্রশ্ন। এই ধরনের নানা প্রক্রিয়া ও তামাশার মধ্যদিয়ে সিকিম ভারতের অঙ্গিভূত হয়ে গেছে। জনসংখ্যার দিক দিয়ে আমরাও বৃহৎ শক্তিশালী দেশ। আমাদের নিরাপত্তা বাহিনী অনেক শক্তিশালী। আমাদের সেনাবাহিনী আছে, বিমানবাহিনী আছে, আমাদের নৌবাহিনী আছে। আমাদের কিসের নির্ভরশীলতা, কার উপর নির্ভরশীলতা?

গত বুধবার দৈনিক ইনকিলাব লিখেছে, বাংলাদেশ হচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার চতুর্থ সামরিক শক্তিধর দেশ। এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় ৩৩ দেশের মধ্যে সামরিক শক্তিতে বাংলাদেশের অবস্থান ১৮ এবং বিশ্বের ১২৬ দেশের মধ্যে ৫৩। সামরিক শক্তির ভিত্তিতে ‘গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ার (জিএফপি)’ নামের একটি ওয়েবসাইট মার্কিন গোয়েন্দা দফতর সিআইএ’র প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এ তথ্য প্রকাশ করে। বিশ্বের মধ্যে ৫৩তম এবং দক্ষিণ এশিয়ার চতুর্থ সামরিক শক্তিধর হলেও ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে বিশ্বরাজনীতি, অর্থনীতি, সমরনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ। পরাশক্তি আমেরিকা, রাশিয়া, পূর্বের চীন এবং প্রতিবেশী ভারত সবাই চায় বাংলাদেশকে কাছে পেতে। চীন থেকে সাবমেরিন ক্রয়ের পর প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন ভারত সফরে ‘সামরিক সহযোগিতার চুক্তির’ আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেয়া হবে এমন খবর মিডিয়ায় এসেছে। দীর্ঘদিনের বন্ধু ভারতের এমন প্রস্তাবকে এখনো ইতিবাচক চোখে দেখছে না বাংলাদেশ। শুধু তাই নয়, তিস্তা চুক্তির বিপরীতে ‘দুই দেশের সামরিক সহায়তা চুক্তি’র মতো প্রস্তাব বন্ধু রাষ্ট্রের কুৎসিত মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ মনে করেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সামরিক বিশেষজ্ঞ বলেছেন, ভারত যে চুক্তির প্রস্তাব দিতে চায় সে চুক্তি হবে দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য সুদূরপ্রসারী ক্ষতিকারক। বাস্তবে এতে বাংলাদেশের কোনো লাভ বা স্বার্থ রক্ষার বাস্তব কারণ নেই। 

এতে আরও বলা হয়, ২৫ বছর মেয়াদি প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তির জন্য দিল্লীর যে তোড়জোড় চলছে সেটি বাস্তবায়ন হলে এটা হবে দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য সুদূরপ্রসারী ক্ষতিকারক। বাস্তবে এতে বাংলাদেশের কোনো লাভ বা স্বার্থ রক্ষার বাস্তব কারণ নেই। ভবিষ্যতে যদি কারো সাথে ভারতের যুদ্ধ সংঘটিত হয় তাহলে ভারত ওই ধরনের চুক্তির ফলে বাংলাদেশের উপর দিয়ে অনায়াসে সৈন্য পরিচালনা করতে পারবে। এতে করে বাংলাদেশও সেই যুদ্ধে জড়িয়ে যাবে নিঃসন্দেহে। ভারতের সাথে কোনো ধরনের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি করাটাই হবে জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে প্রতিকূলে বা বিরুদ্ধে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ