ঢাকা, বৃহস্পতিবার 09 March 2017, ২৫ ফাল্গুন ১৪২৩, ০৯ জমাদিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

নিরপেক্ষ নির্দলীয় সরকার ছাড়া দেশে কোনো নির্বাচন হবে না -মির্জা ফখরুল

গতকাল বুধবার আইইবি মিলনায়তনে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল আয়োজিত বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ১১তম কারাবন্দী দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর -সংগ্রাম

 

স্টাফ রিপোর্টার : সরকার সুপরিকল্পিতভাবে দেশপ্রেমিক ও গণতন্ত্রকামী মানুষদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে ফল লাভ করতে চায় বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, আজকে ষড়যন্ত্র চলছে, সেই ষড়যন্ত্র হচ্ছে একে অপরের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করা। তাই এদেরকে পরাজিত করতে হবে। আসুন ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে সমস্ত জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে আওয়ামী লীগকে পরাজিত করে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করি। সরকারের উদ্দেশ্যে মির্জা ফখরুল বলেন, খালেদা জিয়া বলেছেন, নিরপেক্ষ নির্দলীয় সরকার ছাড়া এই দেশে কোনো নির্বাচন হবে না। নির্বাচন হতে হবে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে এবং সেটি হতে হবে নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে।’ জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করে দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা হবে বলেও উল্লেখ করেন বিএনপির মহাসচিব। গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে ছাত্রদলের উদ্যোগে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ১১তম কারাবরণ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 

সংগঠনের সভাপতি রাজীব আহসানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য দেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন এবং সাবেক ছাত্রনেতা শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, কামরুজ্জামান রতন, এ বি এম মোশাররফ হোসেন, আজিজুল বারী হেলাল, শফিউল বারী বাবু, সুলতান সালাহ উদ্দিন টুকু, আমিরুল ইসলাম আলীম, আব্দুল কাদের ভূইয়া জুয়েল প্রমুখ। আলোচনা সভা সঞ্চালনা করেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান মিন্টু।

মির্জা ফখরুল বলেন, সেই নেতা (তারেক রহমান) আমাদের মধ্যে ফিরে আসতে চায়। তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে হলে বিভেদ নয়, ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। জিয়াউর রহমানকে হত্যা, এরশাদের ক্ষমতা দখল, এক এগারোকে আমি আলাদা করে দেখতে চাই না উল্লেখ করে তিনি বলেন, এক এগারোর সময় প্রথম আঘাত এসেছিল তারেক রহমানের ওপর। জাতীয়তাবাদী চেতনাকে স্বমূলে ধ্বংস করে দেয়ার জন্যই এই আঘাত আনা হয়।

ছাত্রদলের নেতাদের উদ্দেশ্যে মির্জা ফখরুল বলেন, আবেগ ও অনুপ্রেরণা কাজে লাগিয়ে এই স্বৈরাচারী সরকারকে সরাতে হবে। এই জন্য কোনো বিভেদ নয় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। 

আলোচনায় অংশ নিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, আগামী দিনে নির্বাচনকালীন সরকার প্রতিষ্ঠা করে বিএনপি নির্বাচনে যাবে। খালেদা জিয়ার নেতৃত্বেই বিএনপি নির্বাচনে যাবে। তিনি বলেন, বিএনপি নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে দুই তৃতীয়াংশ আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করবে।

তিনি আরও বলেন, আগামী নির্বাচন ও বিএনপির নিবন্ধন নিয়ে বিভিন্ন কথা বলে দলের নেতাকর্মীদের বিভ্রান্ত করছে সরকার। তাই আমরা বলতে চাই, বিএনপি অবশ্যই নির্বাচনে যাবে, এবং সেই নির্বাচন হবে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে।

দলের স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, বিএনপি কোনো ভাগবাটোয়ারার নির্বাচন চায় না। জনগণের ভোটাধিকার চায়। আমরা চাই একটি অবাধ, নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু নির্বাচন। শেখ হাসিনার অধীনে কোনো নির্বাচনে বিএনপি যাবে না। খালেদা জিয়া ব্যতীত কোনো নির্বাচন বাংলাদেশে হবে না, হতে দেয়া হবে না। ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচন হতে দেইনি। রকিব উদ্দিন শুধু ফলাফল ষোষণা করেছে।

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনি কারো করুণায় ক্ষমতায় থাকতে পারেন। কিন্তু দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব নিয়ে ছিনিমিনি খেলবেন না। এ দেশ রক্তের বিনিময়ে কেনা। কারো দান বা করুণায় নয়। গয়েশ্বর বলেন, বিএনপির নেতৃত্ব শুন্যতার আশঙ্কা কম। কারণ তারেক রহমান আছে। আগামী দিনে তিনি দলের নেতৃত্ব দেবেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ