ঢাকা, বৃহস্পতিবার 09 March 2017, ২৫ ফাল্গুন ১৪২৩, ০৯ জমাদিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

আন্তর্জাতিক নারী দিবসে রাজধানীতে মহিলা দলের র‌্যালি

গতকাল বুধবার আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের উদ্যোগে রাজধানীতে র‌্যালি বের করা হয় -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার: আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে গতকাল বুধবার নয়াপল্টন এলাকায় র‌্যালি করেছে জাতীয়তাবাদী মহিলা দল। গতকাল দুপুরে কয়েকশত নারীর অংশগ্রহণে এই র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়। র‌্যালিটি নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে শুরু হয়ে নাইটেঙ্গেল মোড় ঘুরে আবার নয়াপল্টনে এসে শেষ হয়। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বেগম সেলিমা রহমান, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক নুরে আরা সাফা, মহিলাদলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ র‌্যালির নেতৃত্ব দেন।

এছাড়াও মহিলা নেত্রী জেবা খান, হেলেন জেরিন খান, খালেদা ইয়াসমিন, নিপুন রায়, ফরিদা মনি শহিদুল্লাহ, রাজিয়া আলিম, পেয়ারা মোস্তফা, আফরোজা নাসরিন খান, মনোয়ারা আলতাফ, নুর জাহান আহমেদ, মেহের নেছা হক, রোকেয়া সুলতানা তামান্নাসহ দুই শতাধিক নারী র‌্যালিতে অংশ নেন। এ সময় তারা নারীদের অধিকার আদায় সংবলিত নানা স্লোগান দেন। এর আগে র‌্যালির উদ্বোধন করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ সময় বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীও উপস্থিত ছিলেন। 

র‌্যালি পূর্ব সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বিশ্বের জনসংখ্যার অর্ধেক নারী ও তাদের অবদান পুরুষের সমান উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল বলেন, নারী মুক্তির স্বাধীনতা নির্ভর করবে গণতন্ত্রের মুক্তির উপর। যদি গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করতে না পারি তাহলে নারী অধিকার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না। মির্জা ফখরুল বলেন, যা কিছু মহৎ যা কিছু মহান তা বিনির্মাণে নারীদের ভূমিকা বড়ই অপরিসীম। একটি জিনিস আমাদেরকে মনে রাখতে হবে, নারীর মুক্তি নারীর স্বাধীনতা সব কিছুই নির্ভর করবে যদি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা থাকে, আমাদের অধিকারগুলো আমরা পুনরুদ্ধার করতে পারি তাহলেই শুধু নারীদের অধিকার নিশ্চিত করতে পারব।

তিনি বলেন, আমরা সবাই জানি যিনি নারীমুক্তি আন্দোলনের সূচনা করেছিলেন তিনি হলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। তিনিই প্রথম উপলব্ধি করেছিলেন অর্ধেক জনগোষ্ঠীকে পেছনে ফেলে রাখলে উন্নয়ন সম্ভব নয়। সে কারণেই তিনি একটি মহিলাবিষয়ক মন্ত্রণালয় করেছিলেন। সর্বক্ষেত্রে নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন। তার উত্তরসূরী বেগম খালেদা জিয়া এই উদ্যোগকে আরও বেগবান করেছিলেন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে হলে আজকের নারী দিবসে আমাদেরকে শপথ নিতে হবে আমাদের অধিকারকে আমরা রক্ষা করব। খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে নারীদের অধিকার পুনরুদ্ধার করব। এটাই হোক আজকের প্রতিজ্ঞা।

রিজভী বলেন, সরকার নিজেদেরকে প্রগতিশীল ভাবেন অথচ শেখ হাসিনার অধীনে এতো বেশি নারী-শিশু নির্যাতন হয়েছে যা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। তিনি বলেন, আজ গুরুত্বপূর্ণ দিন। আগে এই দিবসটিতে আন্তর্জাতিক নারী শ্রমিক দিবস পালন হতো, এখন পূর্ণাঙ্গ নারী দিবসই পালন করা হচ্ছে। রিজভী বলেন, নারীরা হিমালয় জয় করছে, পুরুষদের মতো আর পিছিয়ে নেই। তারপরও তাদেরকে বিভিন্নভাবে পিছিয়ে রাখা হয়। তারা সহিংসতার শিকার হচ্ছে। নারীর অগ্রগতির পক্ষে বিএনপির যে অবদান তা হাসিনা তুলনা করলে এক ইঞ্চিও হবে না, মন্তব্য করেন তিনি।

 সেলিমা রহমান বলেন, পরিবর্তনের জন্য সাহসিকতার স্লোগানকে সামনে রেখে কঠিন পথে নারীদেরকে এগিয়ে যেতে হবে। কিন্তু তাদেরকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনেক পিছিয়ে রাখা হচ্ছে। জিয়াউর রহমানই নারী সমাজকে দেশ গড়ার কাজে প্রথম আহ্বান করেছিলেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রতিটি দিনই নারী দিবস, নারীর দিন।। বর্তমান স্বৈরাচার সরকারকে বিদায় করতে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আমরা একত্রিত হয়ে দেখিয়ে দেবো নারীরা কি করতে পারে। আমাদের ঐক্যবদ্ধতায় পাশে থাকবেন বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ